সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে হত্যাচেষ্টা এবং গ্রেনেড হামলা মামলায় দীর্ঘ ২২ বছর পর রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছসহ আটজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সৈয়দ নাইম আহমদ ওরফে নিমু (৪৫) নামে এক আসামিকে মৃত্যুদ- ও এক লাখ টাকা অর্থদ- দিয়েছেন আদালত। নাইম আহমদের বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর পশ্চিমপাড়া লম্বাহাটি গ্রামে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এই রায় ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি আবুল হোসেন জানান, নাইম আহমদ নামে একজনকে মৃত্যুদ- ও বাকিদের খালাস দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত রায় দিয়েছেন। মামলায় ১২৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬৭ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
খালাস পাওয়া অন্য আসামিরা হলেনÑ মুহিব উল্লা ওরফে মফিজুর রহমান (মফিজ), মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দাল (মাসুম বিল্লাহ ওরফে খাজা), আবদুল মাজেদ বাট (ইউসুফ বাট), নাজিউর রহমান ওরফে নাজমুল হক নাজু এবং মাওলানা তাজ উদ্দিন। তাদের মধ্যে তাজ উদ্দিন পলাতক।
মামলার এজাহার অনুসারে, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নির্বাচনি এলাকার একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলা হয়। এতে যুবলীগের এক কর্মী নিহত হন। আহত হন অন্তত ২৯ জন। সমাবেশে বক্তব্য প্রদানরত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। এ ঘটনার পর দিরাই থানার এসআই হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে পৃথক দুটি মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর লুৎফুজ্জামান বাবর, আরিফুল হক চৌধুরীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। পরে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার মৃত্যুদ- পাওয়া আসামি ও হরকাতুল জিহাদের নেতা মাওলানা শেখ আবদুস সালাম ২০২১ সালের নভেম্বরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলে তাকে আসামির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
দুই মামলাতেই আটজনকে খালাস ও নাইম আহমদকে দোষী সাব্যস্ত করেন আদালত। হত্যা মামলায় নাইমকে মৃত্যুদ- দেওয়ায় বিস্ফোরক মামলায় তাকে আলাদা কোনো সাজা দেওয়া হয়নি।
আদালত সূত্র জানায়, ৯ জন আসামির মধ্যে পাঁচজন কারাগারে, তিনজন জামিনে ও একজন পলাতক। রায় ঘোষণার সময় পলাতক আসামি ছাড়া অন্য সবাই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
রায়ের পর আদালত প্রাঙ্গণে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, শুধু বিএনপির রাজনীতি করার কারণেই আমাদের দীর্ঘদিন দেশের বিভিন্ন কারগারে থাকতে হয়েছে। অথচ এই ঘটনা সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না। যথাযথ আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে আমরা আদালত থেকে ন্যায়বিচার পেয়েছি।
সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, আমাকে ধরা হয়েছিল ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা দিয়ে। সেই সঙ্গে আমি পুলিশের কথামতো কাজ না করায় আমাকে ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলাসহ অন্যান্য মামলায় জড়ানো হয়। আল্লাহর বিচার আল্লাহ করেছেন। আজকে দেখুন শেখ হাসিনা কোথায় আর আমরা কোথায়।
সংসদের সরকারদলীয় হুইপ জি কে গউছ বলেন, আজকে আদালত সত্যের ভিত্তিতে সবকিছু পর্যালোচনা করায় খালাস পেয়েছি। স্বাধীনভাবে বিচারক বিচার পরিচালনা করে আমাদের খালাস দিয়েছেন। সাড়ে ২৬ মাস আওয়ামী সরকার আমাদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক কারণে দেশের বিভিন্ন কারাগারে আটকে রাখে।
অন্যদিকে মৃত্যুদ- পাওয়া নাইম আহমদের ভাই সৈয়দ মারুফ আহমদ বলেন, আমরা রায়ে সন্তুষ্ট নই। এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব আমরা।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন