ছয় মাস পর কিশোরগঞ্জ শহরের ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদের ১৩টি লোহার সিন্দুক এবং ৩টি অস্থায়ী ট্রাংকের দানবাক্সের মধ্যে ৪৩ বস্তা দেশি-বিদেশি মুদ্রাসহ স্বর্ণ ও রুপার অলংকার পাওয়া গেছে।
গতকাল শনিবার বিকেল ৫টা নাগাদ শেষ খবর পর্যন্ত রূপালী ব্যাংকের হিসাবে ১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা জমা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আলী হারেছী। এখন ছোট নোটগুলো গণনা করা হচ্ছে। রাত ৯টা নাগাদ গণনা শেষ হতে পারে বলে তিনি ধারণা দিয়েছেন।
গতকাল সকাল ৭টায় জেলা প্রশাসক ও মসজিদ কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন নিজ হাতে ১৩টি দানবাক্সের সিলগালা খুলে দেন। এরপর ৪৩টি বস্তায় ভরে সমুদয় টাকা মসজিদের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে চার শতাধিক জনবল দিয়ে গণনা শুরু করা হয়। আজকের টাকার পরিমাণ ইতিমধ্যে অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে। এর আগে, সর্বশেষ গত বছর ২৭ ডিসেম্বর খোলা হয়েছিল ১৩টি দানবাক্স। তখন ৩৫ বস্তা টাকা গণনা করে পাওয়া গিয়েছিল ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানসহ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, র্যাব, পুলিশ, আনসার ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের লোকজনের উপস্থিতিতে সকাল ৭টার দিকে এসব দানবাক্স খোলা হয়। দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১০ কোটি টাকা গুনে ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে। বাকি টাকা গণনার কাজ শেষ হতে রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা বেজে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন রূপালী ব্যাংকের এজিএম মোহাম্মদ আলী হারেসী।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানিয়েছেন, আজকের (গতকাল) টাকা ছাড়াই ব্যাংকে জমা আছে ১১৪ কোটি ১৩ লাখ ৭ হাজার ৩৫২ টাকা।
জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ শহরের মাঝপথ দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদীসংলগ্ন হারুয়া এলাকায় অবস্থিত প্রায় দুইশ বছরের অধিক সময়ের পুরোনো এ ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ। শহরের হয়বতনগর জমিদারবাড়ির পূর্বপুরুষ আধ্যাত্মিক সাধক পাগল হিসেবে পরিচিত জিল কদর খান একসময় নরসুন্দা নদীর মাঝপথে জেগে ওঠা উঁচু টিলাতে তার আস্তানা গড়ে তোলেন। তার মৃত্যুর পর ওই আস্তানাটি মসজিদ হিসেবে গড়ে ওঠে। তার পর থেকেই ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের শেষ ঠাঁই হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে এ মসজিদ। এক শ্রেণির মানুষের বিশ্বাসÑ যেকোনো মকসুদ পূরণের জন্য নিয়ত করে এই মসজিদের দানবাক্সে দান করলে মনের বাসনা পূর্ণ হয়। আর এমন বিশ্বাস থেকে বিভিন্ন মকসুদ পূরণের উদ্দেশ্যে মানত করতে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ সেখানে ভিড় করে থাকেন। আর এমন আশ্চর্যজনক কারণে প্রতি তিন মাসের মধ্যে এ মসজিদের দানবাক্সগুলো ভরে ওঠে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, এসব টাকা গণনাকাজের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, র্যাব, ব্যাটালিয়ন আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর শতাধিক কর্মকর্তা-সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, এসব দানের টাকায় বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসা, এতিমখানাসহ অসহায় মানুষ এবং দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করার রীতি রয়েছে। তবে একটি সর্বাধুনিক সুবিশাল পাগলা মসজিদ কমপ্লেক্স প্রকল্প ইতিমধ্যেই হাতে নেওয়া হয়েছে, যেখানে একসঙ্গে ৩০ হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। এরই মধ্যে এ তহবিল বাবদ ব্যাংকে ১১৪ কোটি টাকা জমাও রয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন