একসময় যে কিশোরীর পদচারণায় মুখরিত ছিল স্কুল প্রাঙ্গণ, বন্ধুদের সঙ্গে পুকুরপাড়ে দৌড়ঝাঁপ কিংবা বিকেলে মাঠজুড়ে দুরন্তপনায় কেটেছে যার শৈশব, সেই চঞ্চল সানজিদা আক্তার মুন্নির জীবন আজ দীর্ঘ ৯ বছর ধরে হাসপাতালের বিছানায় বন্দি। সহপাঠীদের নিয়ে স্কুলে যাওয়া, বিকেলে খেলার মাঠে মেতে ওঠা আর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা সেই মুন্নির পৃথিবীটা আজ মাত্র কয়েক হাত শয্যাতেই সীমাবদ্ধ। ২০১৭ সালে হঠাৎ মরণব্যাধি তাকে কেড়ে নিয়েছে স্বাভাবিক জীবন থেকে; যেখানে শৈশবের দুরন্তপনা হারিয়েছে চার দেয়ালের নিস্তব্ধতায়।
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের নরুন গ্রামের বাসিন্দা অটোরিকশাচালক মোনতাজউদ্দিনের মেয়ে মুন্নি। মেধাবী ছাত্রী হিসেবে পরিচিত মুন্নির জীবন পাল্টে যায় ২০১৭ সালের ৫ আগস্ট। স্কুল থেকে ফেরার পথে হঠাৎ জ¦রে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় তার দীর্ঘ লড়াই। জ¦রের পর দেখা দেয় স্নায়বিক জটিলতা, ধীরে ধীরে অবশ হয়ে যায় তার দুই পা। একে একে হারিয়ে যায় দৃষ্টিশক্তি, বিছানাই হয়ে ওঠে তার একমাত্র আশ্রয়।
নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাস যেন এখানেই শেষ নয়। সম্প্রতি তার ডান হাতে নতুন করে ধরা পড়েছে একটি টিউমার। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, দ্রুত অস্ত্রোপচার না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু সহায়-সম্বলহীন দিনমজুর বাবার পক্ষে এখন সেই চিকিৎসার ২ লাখ টাকা জোগাড় করা প্রায় অসম্ভব। মুন্নির বাবা মোনতাজউদ্দিন কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, ‘একসময় সৌদি আরবে থাকাকালে সংসার ভালোই চলছিল। মেয়ের চিকিৎসার জন্য জমানো সব অর্থ খরচ করে ফেলেছি। বর্তমানে দেশে ফিরে অটোরিকশা চালিয়ে সংসার ও মেয়ের ওষুধ খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছি। মেয়ের অপারেশন করানোর মতো কোনো টাকা আজ আমার কাছে নেই।’
মুন্নির মা শাহনাজ পারভিন বলেন, ‘চিকিৎসা করাতে করাতে আমরা আজ নিঃস্ব। মেয়েটা আগে অন্তত উঠে বসতে পারত, এখন সেটাও পারে না। চোখের সামনে মেয়ের এই কষ্ট দেখা ছাড়া আমাদের আর কিছু করার নেই।’
মুন্নির স্কুলজীবনের বন্ধু আসিফ বলেন, ছোটবেলা থেকে আমরা একসঙ্গে পড়ালেখা করেছি। আজ মুন্নি সুস্থ থাকলে হয়তো আমাদের সঙ্গেই উচ্চশিক্ষা নিত। তার জীবন বাঁচানোর জন্য সমাজের বিত্তবান মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।’
বর্তমানে প্রতি মাসে ওষুধের পেছনেই ১০-১২ হাজার টাকা খরচ হয় পরিবারের। মুন্নির পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীরা সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তিদের কাছে মানবিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। আপনাদের সামান্য সহযোগিতাই হয়তো মুন্নির জীবনে নতুন আলোর দিশা দেখাতে পারে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন