মৃত্যুর স্তূপের মাঝেও কখনো কখনো জন্ম নেয় আশার নতুন গল্প। ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলায় এমনই এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনার সাক্ষী হলো বিশ^। ধ্বংসস্তূপের নিচে টানা চার দিন আটকে থাকার পর এক বাবা ও তার ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। চারদিকে যখন শুধুই কান্না, হতাশা আর স্বজন হারানোর আর্তনাদ, তখন এই উদ্ধার অভিযানের সাফল্য নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখিয়েছে হাজারো মানুষকে। রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার দূরের কারাবালেদা এলাকায় ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ উদ্ধারকারী দল দীর্ঘ সময় ধরে সতর্কতার সঙ্গে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে বাবা-ছেলেকে বের করে আনে। উদ্ধার হওয়ার সময় তারা ছিলেন অত্যন্ত দুর্বল ও পানিশূন্য। দ্রুত তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত মানুষ আবেগ ধরে রাখতে পারেননি।
ভূমিকম্পের পর জীবিত উদ্ধারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে প্রথম ৭২ ঘণ্টাকে ধরা হয়। সেই সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও বাবা-ছেলের জীবিত ফিরে আসা অনেকের কাছেই অলৌকিক ঘটনা। এর আগে একই এলাকা থেকে এক মা ও তার শিশুকেও জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল, যা উদ্ধারকর্মীদের মনোবল আরও বাড়িয়েছে।
তবে আশার এই গল্পের আড়ালে লুকিয়ে আছে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। এখন পর্যন্ত ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা প্রায় দেড় হাজারে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন তিন হাজারেরও বেশি মানুষ। ধসে পড়েছে শত শত ভবন, আর হাজার হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ। অনেক পরিবার জানেই না তাদের প্রিয়জন বেঁচে আছেন, নাকি ধ্বংসস্তূপের নিচেই চিরনিদ্রায় শায়িত।
উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে অনেক জায়গায় দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে এখনো মানুষের আওয়াজ শোনা গেলেও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকটে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণের সংকটও প্রকট হয়ে উঠেছে। খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধের অভাবে দুর্ভোগ বাড়ছে। এই সুযোগে কিছু এলাকায় দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে, যা বিপর্যস্ত মানুষের কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
তবু সব হতাশার মাঝেও ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত ফিরে আসা বাবা-ছেলের গল্প যেন একটাই বার্তা দিচ্ছেÑ প্রকৃতি যতই নির্মম হোক, মানুষের আশা, সাহস এবং জীবনকে বাঁচিয়ে রাখার অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে সহজে হারানো যায় না। উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে, আর প্রতিটি ধ্বংসস্তূপের নিচে স্বজনেরা খুঁজে ফিরছেন আরেকটি অলৌকিক ফিরে আসার অপেক্ষা।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন