× UCB Sticker Card
মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ০৬:১৭ এএম

বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে শায়িত আবুল কাসেম ফজলুল হক

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ০৬:১৭ এএম

বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে শায়িত  আবুল কাসেম ফজলুল হক

দীর্ঘদিনের কর্মস্থল বাংলা একাডেমি এবং কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধায় সিক্ত হয়ে মিরপুরের শহিদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে শায়িত হলেন প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য সমালোচক ও সমাজ বিশ্লেষক আবুল কাসেম ফজলুল হক। গতকাল সোমবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে তার দাফন শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার জামাতা আনোয়ারুল হাসান।

এদিন সকালে বাংলা একাডেমিতে আবুল কাসেম ফজলুল হকের জানাজা হয়। সেখানে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সহকর্মী, শিক্ষার্থী, লেখক, সাহিত্যিক ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

একাডেমি থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে। প্রচ- বৃষ্টি উপেক্ষা করে সেখানে বাংলা একাডেমি সভাপতির কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষে দুপুরে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে। কিন্তু প্রচ- বৃষ্টির কারণে কফিন নামানো যায়নি। পরে দুপুর সাড়ে ১২টায় কলা অনুষদের মূল ফটকে তার কফিনে শ্রদ্ধা জানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন, বিভিন্ন বিভাগ ও শিক্ষকদের সংগঠন।

দুপুর ২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে আবুল কাসেম ফজলুল হকের জানাজা হয়। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে করে লাশ দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে। গত রোববার দুপুরে পরিবারের সঙ্গে একটি রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন আবুল কাসেম ফজলুল হক। দ্রুত একটি ক্লিনিকে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আবুল কাসেম ফজলুল হক জীবনের চার দশক অধ্যাপনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে। সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিতে সোচ্চার রাষ্ট্রভাষা বাংলা রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক তিনি।

তার জন্ম ১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায়। ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং আনন্দমোহন কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষে করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই শিক্ষকতা শুরু করেন আবুল কাসেম ফজলুল হক। পরে বাংলা বিভাগের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

তার লেখা ২১টির মতে বই প্রকাশিত হয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশের সংগ্রামের ইতিহাস নিয়ে ‘মুক্তিসংগ্রাম’; ‘কালের যাত্রার ধ্বনি’; ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন’-এর মতো বই যেমন আছে, তেমনি আছে রাজনীতি, রাষ্ট্র ও সমাজ চিন্তার ফসল ‘নৈতিকতা : শ্রেয়োনীতি ও দুর্নীতি’; ‘যুগসংক্রান্তি ও নীতিজিজ্ঞাসা’, ‘মাও সেতুঙের জ্ঞানতত্ত্ব’; ‘রাজনীতি ও দর্শন’ ‘আশা-আকাক্সক্ষার সমর্থনে’; ‘বাঙলাদেশের রাজনীতিতে বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা’; ‘অবক্ষয় ও উত্তরণ’; ‘রাজনীতি ও সংস্কৃতি : সম্ভাবনার নবদিগন্ত’; ‘রাষ্ট্রচিন্তায় বাংলাদেশ’।

সাহিত্য নিয়ে তার কাজের মধ্যে ‘উনিশ শতকের মধ্যশ্রেণি ও বাঙলা সাহিত্য’; ‘বাঙলাদেশের প্রবন্ধ সাহিত্য’, ‘সাহিত্যচিন্তা’; ‘সাহিত্য ও সংস্কৃতি প্রসঙ্গে’; ‘সংস্কৃতির সহজ কথা’; ‘আধুনিকতাবাদ ও জীবনানন্দের জীবনোৎকণ্ঠা’ অন্যতম।

এছাড়া কয়েকটি বইয়ের সম্পাদনাও করেছেন।

আশির দশক থেকে লোকায়ত নামে একটি মননশীল পত্রিকার সম্পাদনা করে আসছিলেন আবুল কাসেম ফজলুল হক। আহমদ শরীফ প্রতিষ্ঠিত স্বদেশ চিন্তা সংঘের সভাপতির দায়িত্বও তিনি পালন করেছেন। পত্রপত্রিকায় কলাম লিখেছেন নিয়মিত।

১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান এই লেখক। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৪ সালের অক্টোবরে আবুল কাসেম ফজলুল হককে বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। তার দুই সন্তানের মধ্যে শুচিতা শরমিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। আর ফয়সল আরেফিন দীপন জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ছিলেন। ঢাকার শাহবাগে প্রকাশনা সংস্থাটির কার্যালয়ে ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর তাকে হত্যা করে জঙ্গিরা। বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে শায়িত আবুল কাসেম ফজলুল হক।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!