কক্সবাজারের পেকুয়ায় কয়েক দিনের টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মাতামুহুরী নদীর জোয়ারের প্রবল স্রোতে সদর ইউনিয়নের পূর্ব মেহেরনামা অংশে দুটি জায়গায় বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। এ দুটি অংশ দিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রফিকুল ইসলাম গতকাল বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় লিয়াকত আলী ও নেজামুল ইসলাম বলেন, বুধবার রাতে বেড়িবাঁধ রক্ষায় শত শত মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে বালুর বস্তা ফেলে ও বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালান। কিন্তু সকালের দিকে ভারি বৃষ্টি ও জোয়ারের প্রবল স্রোতে বেড়িবাঁধের দুটি অংশ ভেঙে যায়। এরপর হুহু করে নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকতে থাকে।
বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি মানুষের নৌকা ছাড়া যাতায়াত প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এদিকে পানিবন্দি মানুষের মধ্যে বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, শিশুখাদ্য ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক পরিবারের রান্নাঘর পানিতে ডুবে যাওয়ায় রান্না করাও সম্ভব হচ্ছে না। শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছে। উপজেলার উজানটিয়া, রাজাখালী, মগনামা, টইটং, শিলখালী, বারবাকিয়া ও সদর ইউনিয়নের অনেক এলাকাও পানিতে তলিয়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, বেড়িবাঁধের শতাধিক স্থানে অবৈধ মাছ ধরার ফাঁদ (নাসি) স্থাপন এবং পানি নিষ্কাশনের প্রধান পথ পাউবোর স্লুইসগেটগুলো প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে থাকায় এই বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র ও স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, পেকুয়ার বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ খাল ও পানি নিষ্কাশনের কালভার্টগুলো দখল করে মাছের ঘের ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করায় পাহাড়ি ঢলের পানি নামতে পারছে না।
জানা গেছে, মাতামুহুরী নদী ও বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন ১২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ বেড়িবাঁধের শতাধিক স্থানে বেআইনিভাবে মাটি কেটে মাছ ধরার ‘নাসি’ (ফাঁদ) বসানো হয়েছে। এতে বাঁধটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। মগনামা, রাজাখালী, উজানটিয়া, পেকুয়া সদর ও ইউনিয়নে শুষ্ক মৌসুমে লবণের চাষ এবং বর্ষা মৌসুমে মাছের ঘের বা ধান চাষের পানি নিয়ন্ত্রণ করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। এই সিন্ডিকেটের কারণে বৃষ্টির পানি বের হতে না পেরে গ্রামীণ সড়ক ও বসতবাড়ি দীর্ঘ সময় ধরে পানির নিচে তলিয়ে আছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছে এবং পানিবন্দি মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন