সরকার গঠনের পর দেশের সার্বিক উন্নয়নে এক ব্যতিক্রমী ও যুগোপযোগী ভূমিকা নিয়ে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। প্রথাগত উন্নয়ন দর্শনের বাইরে গিয়ে এবার দলটির মূল লক্ষ্য দেশের বিশাল তরুণ ও কর্মক্ষম জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা। মেগা প্রজেক্টের চেয়ে ‘মেগা পিপল ডেভেলপমেন্ট’ উন্নয়নের ওপর জোর দিচ্ছে নবগঠিত এই সরকার। সম্প্রতি রাজধানীতে আয়োজিত এক সেমিনারে বিএনপির নীতিনির্ধারক ও সরকারের শীর্ষ মন্ত্রীরা এই নতুন উন্নয়ন রূপরেখা তুলে ধরেন।
কর্মসংস্থান ও দক্ষ জনশক্তিই উন্নয়নের মূল ভিত্তি : এসব বিষয়ে অর্থমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এক আলোচনায় বলেছেন, ‘বিগত বছরগুলোতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়েছে, কিন্তু কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি। বিএনপি সরকার এই ধারার অবসান ঘটিয়েছে। আমাদের ব্যতিক্রমী ভূমিকা হলোÑ আমরা পাথরে বিনিয়োগ না করে মানুষের পেছনে বিনিয়োগ করছি। দেশের এই বিশাল জনশক্তিকে যদি আমরা সঠিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিতে দক্ষ করতে পারি, তাহলে রেমিট্যান্স ও অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।’
অর্থমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, যুবসমাজকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সহজ শর্তে ঋণ এবং আইটি খাতের প্রসারে বিশেষ তহবিল গঠন করছে সরকার। আমরা এমন এক অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি করতে কাজ করছি, যেখানে তরুণেরা শুধু চাকরির পেছনে ছুটবে না, বরং নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।’ যোগ করেন তিনি।
মেধা পাচার রোধ ও গুণগত পরিবর্তনে কাজ করছে সরকার : এসব বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, ‘একটি দেশের প্রকৃত উন্নয়ন কেবল জিডিপির সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না, তা নির্ভর করে মানুষের জীবনযাত্রার মান এবং মেধার মূল্যায়নের ওপর। বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই মেধা পাচার রোধে কাজ করছে। আমরা এমন এক পরিবেশ তৈরি করছি, যেখানে দেশের মেধাবীরা দেশেই তাদের যোগ্য স্থান পাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের তরুণেরা অত্যন্ত প্রতিভাবান। তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও বিশ্বমানের শিক্ষা দিতে পারলে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে অন্যতম শীর্ষ অর্থনীতির দেশ হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। জনশক্তিকে বোঝায় পরিণত না করে সম্পদে পরিণত করাই আমাদের সরকারের সবচেয়ে বড় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।’
বিএনপির নতুন মূল উন্নয়ন দর্শন : দলীয় সূত্র ও সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, এবারের মেয়াদে বিএনপির উন্নয়ন কৌশলে বেশ কিছু ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছেÑ সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি শতভাগ কর্মমুখী ও তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক কারিগরি শিক্ষায় জোর দেওয়া; আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালু করা; প্রথাগত শ্রমবাজারের বাইরে ইউরোপ, জাপান ও মধ্যপ্রাচ্যে দক্ষ পেশাজীবী (যেমনÑ আইটি বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী, নার্স) পাঠানোর উদ্যোগ; সেই সঙ্গে ঢাকার বাইরে আঞ্চলিক পর্যায়ে শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলে স্থানীয় জনশক্তিকে কাজে লাগানো।
এসব বিষয়ে রাজনীতি ও অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি সরকারের এই মানবসম্পদ-কেন্দ্রিক উন্নয়ন ভাবনা যদি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তরুণ সমাজকে দেশের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার এই মিশনকে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
এসব বিষয়ে বিএনপির প্রচার সম্পাদক এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানিয়েছেন, বিএনপি বরাবরই উন্নয়নমূলক সরকার। বিএনপি জনগণের সরকার, জনগণকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে জনশক্তিকে সম্পদ হিসেবে গড়তে সরকার কাজ করছে। তবে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে এবং যার যার জায়গা থেকে দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশ এশিয়া মহাদেশের মধ্যে একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন