× UCB Sticker Card
শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

মাদ্রাসায় ‘জ্বীন আতঙ্ক’ অপচিকিৎসার অভিযোগ

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২৬, ০৬:৪৪ এএম

মাদ্রাসায় ‘জ্বীন আতঙ্ক’  অপচিকিৎসার অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ক্যানেল এলাকার তালিমুল কোরআন মহিলা মাদ্রাসায় কথিত ‘জ্বীনের আছর’ নিয়ে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১৫ দিনে অন্তত ১৫ জন ছাত্রী অদ্ভুত উপসর্গে অসুস্থ হয়ে পড়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের আধুনিক চিকিৎসাসেবা না দিয়ে ঝাড়ফুঁক, তাবিজ ও কবিরাজি অপচিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ দিন আগে মাদ্রাসার এক ছাত্রী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে প্রলাপ বকতে শুরু করেন। এরপর ক্রমান্বয়ে আরও কয়েকজন ছাত্রী একই উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। একদিনেই সাতজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ভীতি কাজ করছে। অনেক অভিভাবক নিরাপত্তার অভাবে তাদের সন্তানদের মাদ্রাসায় পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা খালেদ হাসান মোরসাদ্দেক দাবি করেছেন, এটি কোনো সাধারণ রোগ নয়। তিনি অভিযোগ করেন, পাশের নূরে মদিনা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার পক্ষ থেকে কবিরাজের মাধ্যমে তাদের মাদ্রাসায় ‘জ্বীন চালান’ করা হয়েছে। তার ভাষ্যমতে, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে নেওয়ার পর রোগ ধরা না পড়ায় তারা কোরআনের আয়াত পাঠসহ ঝাড়ফুঁকের আশ্রয় নিয়েছেন।

তবে এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক বলে উড়িয়ে দিয়েছেন নূরে মদিনা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জুবায়ের আহমেদ। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হলে তাদের চিকিৎসকের কাছে নেওয়া উচিত। নিজেদের ব্যর্থতা ও অব্যবস্থাপনা আড়াল করতেই আমার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন বলেন, জ্বীন তাড়ানোর নামে অপচিকিৎসার বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং এটি সমাধানে স্থানীয়ভাবে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে প্রশাসনিক সহায়তা নেওয়া হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. বাদল সাহা এই ঘটনাকে মাস সাইকোজেনিক ইলনেস বা গণ-মনস্তাত্ত্বিক অসুস্থতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি অবিলম্বে আক্রান্তদের চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দিক নূরে আলম জানান, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। দ্রুতই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অপচিকিৎসা বা গাফিলতির প্রমাণ মিললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!