বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে প্রত্যাশিত সহজ জয় না পেলেও শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত ফলই তুলে নিয়েছে স্পেন। ম্যাচের শেষ দিকে মাইকেল মেরিনোর দুর্দান্ত গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে লা রোজা, আর সেই সঙ্গে দীর্ঘদিনের হতাশা কাটিয়ে জায়গা করে নেয় বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে।
এই সাফল্যের মাধ্যমে ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর নকআউট পর্বে বারবার থেমে যাওয়ার অধ্যায়েরও ইতি টানল স্পেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় শিরোপা জয়ের পর ২০১৪ আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। এরপর ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে শেষ ষোলো পেরোতে পারেনি দলটি। এবার লামিন ইয়ামাল, পেদ্রি ও তাদের সতীর্থদের হাত ধরে শেষ চারে ফিরল স্প্যানিশরা।
শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে একাদশে চমক দেখান। নিয়মিত মিডফিল্ডার পেদ্রিকে বেঞ্চে রেখে শুরু করেন ফ্যাবিয়ান রুইজকে। কোচের সেই সিদ্ধান্তই কাজে দেয়। ম্যাচের ৩০তম মিনিটে রুইজ গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন।
গোলটির পেছনে দানি অলমোর দূরপাল্লার শট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ারও ভুল ছিল স্পষ্ট। অলমোর শট ঠেকালেও বল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি তিনি। ফিরতি বলে সুযোগ কাজে লাগিয়ে জালে বল পাঠান রুইজ।
তবে বিরতির আগেই সমতায় ফেরে বেলজিয়াম। ৪১তম মিনিটে টিমোথি কাস্তান্যের নিখুঁত ক্রস থেকে চার্লস ডি কেটেলারের শক্তিশালী হেডে গোল করেন বেলজিয়ানরা। উনাই সিমনের পক্ষে সেই বল ঠেকানো সম্ভব হয়নি।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে রাখে স্পেন। বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থেকে তারা একের পর এক সুযোগ তৈরি করে। বিশেষ করে ডান প্রান্তে লামিন ইয়ামাল বেশ কয়েকটি বিপজ্জনক আক্রমণ গড়েন। তার ফ্রি-কিক এবং বাঁ পায়ের একাধিক জোরালো শট দুর্দান্ত দক্ষতায় প্রতিহত করেন কোর্তোয়া, যদিও পরে ইনজুরির কারণে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।
পুরো ম্যাচে প্রায় ৬৮ শতাংশ সময় বলের দখল ধরে রেখে ১৮টি আক্রমণ চালায় স্পেন। তবে জয়সূচক গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় ৮৮তম মিনিট পর্যন্ত। ডিফেন্ডার পাও কুবারসির নেওয়া শট বদলি গোলরক্ষক সেনে লামেন্স ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হলে বল চলে আসে মাইকেল মেরিনোর সামনে। সুযোগ হাতছাড়া না করে কাছ থেকে বল জালে জড়িয়ে দেন আর্সেনাল তারকা।
মেরিনোর সেই গুরুত্বপূর্ণ গোলেই ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে স্পেন। শেষ বাঁশি বাজতেই সেমিফাইনালে ওঠার আনন্দে মেতে ওঠে লা রোজা।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন