× UCB Sticker Card
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ১৪, ২০২৬, ০৭:১১ এএম

ড্রাগন চাষে বদলে যাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ১৪, ২০২৬, ০৭:১১ এএম

ড্রাগন চাষে বদলে যাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য

সিরাজগঞ্জে কৃষকের মুখে হাসি ফুটিয়েছে ড্রাগন ফল চাষ করে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় এবার ড্রাগন ফলের বাগানে বাম্পার ফলন হয়েছে। লাভজনক এ ফল চাষে অনেক কৃষকের ভাগ্যে এসেছে পরিবর্তন। কম খরচে ভালো লাভ পাওয়ায় নতুন করে আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকরা। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৯টি উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে ড্রাগন ফল চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সাধারণত প্রতিবছর ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ড্রাগনের চারা রোপণ করা হয়। তবে আধুনিক হাইব্রিড জাতের চারা দিয়ে সারা বছরও এ ফল চাষ করা সম্ভব। উঁচু, দোআঁশ ও বালুমিশ্রিত জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ ভালো হয়।

সিরাজগঞ্জে বাউ-১, বাউ-২ ও বাউ-৩ জাতের ড্রাগন ফল চাষ করা হচ্ছে। এর মধ্যে বাউ-৩ জাতের চাষই বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। জেলার উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ, কাজিপুর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ফলের বাগান গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি চরাঞ্চলের অনেক জমিতেও এখন ড্রাগন ফল চাষ করছেন কৃষকরা।

কৃষকরা জানান, ড্রাগন ফল চাষের জন্য প্রথমে জমিতে নির্দিষ্ট দূরত্বে সিমেন্টের খুঁটি স্থাপন করে জিআই তার দিয়ে কাঠামো তৈরি করতে হয়। এরপর সেই কাঠামোর পাশে চারা রোপণ করা হয়। প্রায় ছয় মাস পর গাছে ফুল আসতে শুরু করে। দেখতে সূর্যমুখী ফুলের মতো এ ফুল থেকেই উৎপন্ন হয় ড্রাগন ফল। একটি ড্রাগন ফলের বাগানের কাঠামো থেকে প্রায় ৬ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন চাষিরা। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ব্রহ্মখোলা গ্রামের কৃষক ও উদ্যোক্তা এস এম ইদ্রিস আলী বলেন, ‘এবার প্রায় আড়াই বিঘা জমিতে বাউ-৩ জাতের ড্রাগন ফলের বাগান করেছি। গত বছরের তুলনায় এবার উৎপাদন অনেক বেশি হয়েছে।’ তিনি জানান, ২০২৩ সাল থেকে তিনি ড্রাগন ফল চাষ করছেন। শুরুতে কিছু সমস্যার মুখোমুখি হলেও কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ নিয়ে এখন সফলতা পেয়েছেন। গত তিন সপ্তাহ ধরে তার বাগান থেকে ফল সংগ্রহ ও বিক্রি শুরু হয়েছে। ইদ্রিস আলী বলেন, ‘স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতি কেজি ড্রাগন ফল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করছি। বর্তমানে বাজারে ভালো মানের ড্রাগন ফল ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অন্য জাতের ফল বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকায়।’

তিনি জানান, ইতোমধ্যে তার বাগান থেকে প্রায় দেড় মেট্রিক টন ফল বিক্রি হয়েছে। আরও ৭ থেকে ৮ মেট্রিক টন ফল উৎপাদনের আশা করছেন তিনি। তার মতে, প্রতি বিঘা জমিতে ড্রাগন ফল চাষ করে প্রায় ২ লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব। ড্রাগন ফলের বাগান দেখে এলাকার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরাও উৎসাহিত হচ্ছেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে অনেকেই নতুন করে এ ফল চাষ শুরু করেছেন। এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক একেএম মঞ্জুরে মাওলা বলেন, ‘এবার ড্রাগন ফল চাষে ভালো ফলন হয়েছে। লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে এই ফল চাষের আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি বিভাগ নিয়মিতভাবে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, বাজারে ভালো দাম থাকায় ড্রাগন ফল চাষ করে অনেক কৃষকের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে এ ফলের চাষ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!