রাজশাহীর চারঘাট ও বাঘা উপজেলার বৈধ বালুমহালগুলো দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় অঞ্চলে বালুর তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্থানীয় নির্মাণশিল্প, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প, আবাসন খাত এবং সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি নির্মাণে। বালুর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন ঠিকাদার, পরিবহন শ্রমিক ও ইমারত নির্মাণশ্রমিকরা। সংশ্লিষ্টদের দাবি, দ্রুত এই বৈধ বালুমহালগুলোর ইজারা কার্যক্রম চালু না হলে আবাসন ও নির্মাণ খাত আরও গভীর সংকটে পড়বে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই চারঘাট ও বাঘা উপজেলার বৈধ বালুমহালগুলো কার্যত বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে বালু উত্তোলন ও সরবরাহ বন্ধ থাকায় বাজারে কৃত্রিম সংকট ও সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে কয়েক গুণ বেড়ে গেছে বালুর দাম। এতে সরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণকাজ ধীরগতির বা বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ, আগে যেসব দরে তাঁরা নির্মাণসামগ্রী সরবরাহের চুক্তি করেছিলেন, বর্তমান বাজারদরে সেই চুক্তি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বড় ধরনের আর্থিক লোকসান গুনতে হচ্ছে। অনেকেই লোকসান দিয়ে কাজ চালিয়ে গেলেও, অনেকে কাজ স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছেন। রিয়েল এস্টেট খাতের উদ্যোক্তারাও জানিয়েছেন, বালুর তীব্র সংকটের কারণে তাঁদের একাধিক বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।
বালু ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক বলেন, ‘আগে এক ট্রলি বালু পরিবহন ভাড়াসহ ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় পাওয়া যেত। এখন একই বালুর জন্য ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না। ঘাটগুলো বন্ধ থাকায় বাজারে এই চরম সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার শ্রমিকও বেকার হয়ে পড়েছেন।’
ইমারত নির্মাণশ্রমিক আব্দুল আওয়াল জানান, সরবরাহ না থাকায় বালুর দাম দুই থেকে তিন গুণ বেড়েছে। অনেক মসজিদ, মাদ্রাসা ও জনকল্যাণমূলক কাজ কেবল বালুর অভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে আছে।
ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের দাবি, শুধু সরকারিভাবে মূল্য নির্ধারণ করলেই এই সংকট কাটবে না। আদালতে আটকে থাকা আইনি জটিলতাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি করে বৈধ বালুমহালগুলো চালু করা এবং বাজারে নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করাই বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একমাত্র কার্যকর উপায়।
এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বৈধ বালুমহাল ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে কয়েকটি বালুমহাল আদালতের রিটের কারণে এখনো ইজারা দেওয়া সম্ভব হয়নি। রিট নিষ্পত্তি হলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিছুদিন আগে অতিরিক্ত দামে বালু বিক্রির অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে বৈঠক করে বালুর একটি ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছি।’ স্থানীয়দের মতে, বালুর সংকট শুধু নির্মাণ ব্যয়ই বাড়ায়নি, বরং রাজশাহীর সামগ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রমেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বর্ষা ও পরবর্তী মৌসুমের কথা মাথায় রেখে দ্রুত বৈধ বালুমহাল ইজারা দিয়ে নিয়মিত বালু উত্তোলন শুরু করার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন