বর্ষা মৌসুমে খাল-বিল, নদী-নালা ও মাঠ পানিতে ভরে উঠতেই বেড়েছে দেশীয় প্রজাতির ছোট মাছ ধরার প্রাচীন উপকরণ ধিয়াল-খলশানির চাহিদা। সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা এলাকায় মাছ ধরার এ উপকরণটি ধিয়াল বা দারকি নামে বেশি পরিচিত।
সিরাজগঞ্জের ঐতিহাসিক সলঙ্গা হাটসহ থানার বিভিন্ন ইউনিয়নের হাট-বাজারে এখন ধিয়াল-খলশানি বিক্রির ধুম পড়েছে। বর্ষার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে এসব উপকরণের বিক্রিও। গতকাল সোমবার সলঙ্গা হাট ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ক্রেতারা পছন্দমতো ধিয়াল-খলশানি কিনছেন। আকারভেদে প্রতিটি ধিয়াল-খলশানি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। সলঙ্গা ছাড়াও নলকা, সাহেবগঞ্জ, ভুইয়াগাঁতী, ঘুড়কা, পাঁচলিয়া ও উনুখা হাটেও নিয়মিত এসব মাছ ধরার উপকরণ বিক্রি হয়।
স্থানীয় কারিগররা জানান, বাঁশ দিয়ে ধিয়াল-খলশানি তৈরি অত্যন্ত শ্রমসাধ্য কাজ। পরিবারের নারীদের সহযোগিতা ছাড়া এ কাজ করা কঠিন। গৃহস্থালির কাজের ফাঁকে নারীরা এসব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। প্রতি সপ্তাহে তারা পাঁচ থেকে ছয়টি ধিয়াল-খলশানি তৈরি করতে পারেন।
সলঙ্গা হাটে ধিয়াল-খলশানি বিক্রি করতে আসা ধুবিল কাটার মহল, কালিবাড়ি ও মালতিনগর গ্রামের কারিগর পরিমল চন্দ্র, বাসুদেব, নিজাম ও জফের আলী বলেন, অনেক পরিশ্রম করে এসব তৈরি করলেও তারা আশানুরূপ দাম পান না। এছাড়া কৃষিজমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের কারণে দেশীয় ছোট মাছের সংখ্যা কমে গেছে। ফলে আগের মতো চাহিদাও নেই।
বওলাতলা গ্রামের কৃষক হোসেন আলী জানান, খাল-বিল ও মাঠে মাছ ধরার জন্য তিনি ৩৫০ টাকা করে তিনটি ধিয়াল-খলশানি কিনেছেন। এসব ফাঁদে পুঁটি, মোয়া, চিংড়ি, দাড়কিয়া ও ছোট কৈসহ বিভিন্ন দেশীয় মাছ ধরা পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, গ্রামীণ ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ধিয়াল-খলশানি এখনো বর্ষা মৌসুমে অনেক মানুষের আয়ের উৎস এবং দেশীয় মাছ ধরার অন্যতম কার্যকর উপকরণ। তবে পরিবেশগত পরিবর্তন, জলাশয় সংকোচন ও দেশীয় মাছের সংকটের কারণে এই প্রাচীন পেশা বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন