ঢাকার আশুলিয়ায় পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে আমেনা বেগম নামে এক গার্মেন্টসকর্মীর মরদেহ দাফনের ঘটনায় তার স্বামী অলিউল্লাহ ওরফে শহিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম সোহাগের আদালতে নিহত আমেনার বোন মোছা. রুবিনা বেগম মামলাটি দায়ের করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মীর আলমগীর হোসেন জানান, আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় কোনো মামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৮ সালে আমেনা বেগমের প্রথম বিয়ে হয়। পরের বছর তার স্বামী লিভার ক্যানসারে মারা যান। তখন তার দুই মাস বয়সি একটি সন্তান ছিল। ২০২৪ সালের এপ্রিলে আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার একটি স্পিনিং মিলে অপারেটর হিসেবে চাকরি নেন তিনি। সেখানে তার বোন নুরজাহান এবং সহকর্মী অলিউল্লাহ ওরফে শহিদও কাজ করতেন। ২০২৪ সালের শেষের দিকে আমেনা ও শহিদের বিয়ে হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিয়ের পর শহিদ আমেনাকে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দিতেন না এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগেও বাধা দিতেন। পরে একসময় আমেনা স্বামীর মোবাইল থেকে পরিবারের সদস্যদের ফোন করে এ বিষয়ে জানান। চলতি বছরের মার্চের পর থেকে তার সঙ্গে পরিবারের আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।
মামলার ভাষ্য অনুযায়ী, মে মাসের শেষদিকে বোন নুরজাহান আমেনার বাসায় গিয়ে জানতে পারেন, তারা অন্যত্র বাসা নিয়েছেন। পরে নতুন বাসার খোঁজ পেয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারেন, গত ২৬ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আমেনা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এর পর থেকে শহিদ পলাতক রয়েছেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী শহিদ প্রায়ই আমেনাকে মারধর করতেন। ঘটনার দিনও তাকে মারধর করা হয়। পরে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে সাজিয়ে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়। এতে আরও বলা হয়, পরিবারের সদস্যদের খুঁজে না পাওয়ায় আশুলিয়া থানা পুলিশ শিমুলতলা দরগাপাড়া কবরস্থানে আমেনার মরদেহ দাফন করে।
জানা গেছে, আমেনার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পরিবারের কাউকে না পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিল। এবার তার বোন আদালতে হত্যা মামলা করলেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন