× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

সালমান ফরিদ, সিলেট

প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২৬, ০৬:৩২ এএম

এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

এবার নামে নয় কাজেও হচ্ছে ‘আন্তর্জাতিক’

সালমান ফরিদ, সিলেট

প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২৬, ০৬:৩২ এএম

এবার নামে নয় কাজেও হচ্ছে ‘আন্তর্জাতিক’

সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের আন্দোলনের মুখে অবশেষে কার্যকর ও পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এত বছর ধরে কাগজে-কলমে ‘আন্তর্জাতিক’ তকমা থাকলেও কার্যত এখানে কোনো বিদেশি বিমান নামতে দেওয়া হতো না। এমনকি কোনো সংস্থা অনুমতি চাইলে নানামুখী কূটকৌশলে তা আটকে দেওয়া হতো। কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করে বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণ, বিমান ও যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আধুনিক ওয়্যারহাউস নির্মাণ করার পরও এর সুযোগ-সুবিধা পুরোপুরি ফাইলবন্দি করে রাখা হয়েছিল। রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আপত্তি এবং তাদের লোকসান ও যাত্রী হারানোর খোঁড়া অজুহাতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বা সিভিল অ্যাভিয়েশন সিলেট বিমানবন্দরকে এককভাবে বিমানের হাতে জিম্মি করে রেখেছিল। এমনকি দেশি বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলোও যখন সিলেট থেকে বহির্বিশ্বে ফ্লাইট পরিচালনার আগ্রহ দেখিয়েছিল, তখন সিভিল অ্যাভিয়েশন রহস্যজনক কারণে সেদিকে কোনো কর্ণপাত করেনি। ফলে সিলেটে বিমানের একক আধিপত্য তৈরি হয়।

এখন তা ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। একসময় সিলেট থেকে আন্তর্জাতিক রুটে বিমান সেবা চালু করা ফ্লাই দুবাই চলতি বছর আবার সিলেটের পথে ডানা মেলবে। তার সঙ্গে যোগ দেবে এয়ার আরাবিয়া। এ দুটি বিদেশি বিমান সংস্থা সিলেট থেকে দুবাই ও সৌদি আরব হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ফ্লাইট পরিচালনার প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে পছন্দমতো সময়ে তাদের ফ্লাইট শুরুর কথা বলা হয়েছে। সুখবর হলো, ১ সেপ্টেম্বর থেকে ওমানভিত্তিক বাজেট ফেন্ডলি সালাম এয়ার সিলেট থেকে নিয়মিত ফ্লাইট সিডিউল ঘোষণা করেছে। এরই মধ্যে তারা সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনার জন্য স্লট বরাদ্দ নিয়েছে। এ-সংক্রান্ত একটি চিঠিও এসে পৌঁছেছে সিলেট এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। ইন্ডিয়া গোসহ ভারতের একাধিক বিমান সংস্থা আগামী বছরের শুরুর দিকে সিলেট থেকে ভারতের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারে। তবে তাদের আগ্রহ নির্ভর করবে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ভিসা সহজীকরণের ওপর।

সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, সালাম এয়ারের স্লট চূড়ান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, শুধু এই একটি বিমান সংস্থা নয়, ফ্লাই দুবাই, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সসহ আরও কয়েকটি বিমান সংস্থা তাদের রুটে সিলেটকে যুক্ত করতে কাজ করছে। আগামী আগস্টেই ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করছে। এর মাধ্যমে সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের আকাক্সক্ষা পূরণ হতে যাচ্ছে।

যুক্তরাজ্য এনআরবি সংস্থার পরিচালক ও প্রবাস বাংলা টিভির সিইও, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতা এম আহমদ জুনেদ বলেন, সিলেট থেকে আন্তর্জাতিক রুটে যে কয়টি ফ্লাইট পরিচালিত হয় তার সবই করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। ফলে তাদের মধ্যে এক ধরনের মোড়লিপনা লক্ষ করা যায়। ইচ্ছামতো ভাড়া আদায়সহ বিমানের এই আধিপত্য ভাঙতে সিলেট থেকে বিদেশি বিমান সংস্থার ফ্লাইট শুরুর বিকল্প নেই।

অ্যাভিয়েশন ও বিমানবন্দর সূত্র জানায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গায়ের জোরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সিলেট বিমানবন্দরে বিদেশি বিমানের ওঠানামা অলিখিতভাবে নিষিদ্ধ করে রাখে। যদিও সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের বিশেষ আগ্রহে প্রথম ধাপে ফ্লাই দুবাই ও এয়ার আরাবিয়াকে সিলেটে আসার অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালের ১ এপ্রিল সর্বপ্রথম বিদেশি এয়ারলাইন্স হিসেবে ফ্লাই দুবাই সিলেট-দুবাই রুটে সপ্তাহে ৫ দিন এবং পরে যাত্রী চাহিদা বাড়ায় প্রতিদিন ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে। সিলেটের জেল রোডের চেম্বার ভবনের পাশে অফিস খুলে তারা অত্যন্ত কম খরচে চমৎকার সেবা দিতে শুরু করলে লন্ডনের যাত্রীরাও ফ্লাই দুবাইয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। ফলে বিমানের লন্ডনের ফ্লাইটগুলো খালি যেতে শুরু করে। তখন যাত্রী হারানোর ভয়ে বিমান বাংলাদেশ সিভিল অ্যাভিয়েশনকে বোঝাতে সক্ষম হয়, সিলেটের আকাশে বিদেশি বিমানকে জায়গা দিলে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বন্ধ হয়ে যাবে। বিমানের এই ‘অন্যায় আবেদন’ মেনে নিয়ে সিভিল অ্যাভিয়েশন শুরুতে অনুমতি ও স্লট দেওয়া সত্ত্বেও সৌদি আরবভিত্তিক ‘এয়ার আরাবিয়া’কে সিলেট রানওয়েতে নামতেই দেয়নি। এদিকে বছরখানেক চলার পর ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে অভ্যন্তরীণ সমস্যার অজুহাতে ফ্লাই দুবাইয়ের স্লটও কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর থেকে বিশ্বের অন্যতম নামিদামি দুবাইভিত্তিক বিমান সংস্থা ‘এমিরেটস’, ভারতের ‘ইন্ডিগো’ এবং ‘সৌদিয়া এয়ারলাইনস’ সিলেটে আসার আগ্রহ ও প্রস্তুতি দেখালেও বিমানের বাধার মুখে কাউকে স্লট দেওয়া হয়নি।

দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীদের বলা হচ্ছিল, গ্রাউন্ডিংয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনার ত্রুটির কারণে বিদেশি বিমান নামতে পারছে না। কিন্তু সেই সমস্যার সমাধান হওয়ার পরও বিমানের আপত্তিতে সব থমকে ছিল। বর্তমানে ওসমানী বিমানবন্দরে একসঙ্গে চার থেকে পাঁচটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটকে স্লট দেওয়ার মতো সক্ষমতা রয়েছে। এয়ারপোর্ট সম্প্রসারণের মাধ্যমে এটি দ্বিগুণ করা হচ্ছে। ফলে নতুন টার্মিনালসহ অন্যান্য উন্নয়ন কাজ শেষ হলে এর পরিধি ও বহুমাত্রিক সুবিধা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

বর্তমান প্রবাসীবান্ধব সরকার পরিবর্তনের যে স্লোগান নিয়ে এসেছে, তার সঙ্গে মিল রেখে ওসমানী বিমানবন্দরকে কার্যকর করতে তারা বদ্ধপরিকর। বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, দুবাইভিত্তিক এয়ারলাইন্স ‘ফ্লাই দুবাই’ পুনরায় সিলেট থেকে ফ্লাইট পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং সরকার তাদের সব ধরনের নীতিগত সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। ট্রাভেল ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি বছরের শেষদিকে ফ্লাই দুবাই ওসমানী বিমানবন্দর থেকে তাদের ফ্লাইট অপারেশন ফের শুরু করবে। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ‘এয়ার আরাবিয়া’ও সিলেট-দুবাই রুটে ফ্লাইট চালুর চূড়ান্ত পরিকল্পনা করছে, যা চলতি বছরের শেষ অথবা আগামী বছরের শুরুর দিকে আলোর মুখ দেখতে পারে।

এদিকে প্রবাসীদের দাবির মুখে সিলেট-ম্যানচেস্টার ফ্লাইটটি গত সপ্তাহে ফের চালু হয়েছে। উদ্বোধনী দিনে যুক্তরাজ্য থেকে আসা ফ্লাইটের যাত্রীদের বিমানবন্দরে স্বাগত জানান বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। সে সময় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ওসমানী বিমানবন্দরকে একটি আন্তর্জাতিক হাব হিসেবে কার্যকর করতে বর্তমান সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব) সিলেট অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান রুশো চৌধুরী বিদেশি বিমান সংস্থাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এত বছর ধরে নামকাওয়াস্তের বিমানবন্দর দিয়ে প্রবাসীদের ঠকানো হয়েছে। এবার বিমানের দীর্ঘদিনের একচেটিয়া রাজত্ব ও সিন্ডিকেট ভেঙে বিদেশি বিমান নামলে ভাড়ার বৈষম্য দূর হবে, প্রবাসীদের দুর্ভোগ কমবে এবং এই অঞ্চলের প্রবাসী ও ব্যবসায়ীরা সরাসরি উপকৃত হওয়ার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত হবে।

 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!