× UCB Sticker Card
সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

মো. আব্দুর রহিম

প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম

ডিজিটাল অর্থনীতি পর্ব-২

ডলার যায় চোখের ইশারায়

মো. আব্দুর রহিম

প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ গ্রাফিক্স

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ গ্রাফিক্স

বাংলাদেশে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার ডিজিটাল লেনদেন হচ্ছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন যাচ্ছে ফেসবুক ও গুগলে, করপোরেট প্রতিষ্ঠান কিনছে মাইক্রোসফট, অ্যাডোবি ও ক্লাউড সেবা, আর সাধারণ মানুষ সাবস্ক্রিপশন দিচ্ছেন নেটফ্লিক্স, স্পটিফাই, চ্যাটজিপিটি, ক্যানভা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। প্রতিটি লেনদেনেই দেশ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা বেরিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বছরে মোট কত ডলার বাংলাদেশ ছাড়ছে? সেই অর্থের সবচেয়ে বড় অংশ যাচ্ছে কোন প্রতিষ্ঠানের কাছে? আর কতটুকুই-বা সরকারের হিসাবের মধ্যে রয়েছে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে গিয়ে দেখা গেছে, বাংলাদেশে বিদেশি ডিজিটাল সেবা আমদানির কোনো সমন্বিত জাতীয় ডেটাবেজ নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রায় সম্পন্ন হওয়া লেনদেনের একটি অংশের তথ্য সংরক্ষণ করে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিদেশি ডিজিটাল সেবার ওপর ভ্যাট ও কর আদায়ের দায়িত্বে রয়েছে, আর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো আন্তর্জাতিক ক্রেডিট, ডেবিট ও ডুয়াল কারেন্সি কার্ডের মাধ্যমে এসব লেনদেনের অনুমোদন দেয়। কিন্তু বিদেশি ডিজিটাল সেবা খাতে বছরে মোট কত অর্থ ব্যয় হচ্ছে, কোন খাতে সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা যাচ্ছে; কিংবা গুগল, মেটা, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন, অ্যাডোবি বা নেটফ্লিক্সের মতো প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে প্রকৃতপক্ষে কত আয় করছে- এমন পূর্ণাঙ্গ তথ্য কোনো একক সরকারি সংস্থার কাছেও নেই।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির বড় একটি অংশ এখন বিদেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সেবার ওপর নির্ভরশীল। ব্যক্তিগত ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, স্টার্টআপ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিজ্ঞাপনি সংস্থা, এমনকি সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পেও নিয়মিত ব্যবহার হচ্ছে মেটা (ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম), গুগল, মাইক্রোসফট, অ্যাডোবি, ওপেনএআই, অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস, জুম, ক্যানভা, নেটফ্লিক্স, স্পটিফাই ও অ্যাপলের বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা। এসব সেবার অধিকাংশের মূল্য পরিশোধ করা হয় আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড, ডুয়াল কারেন্সি কার্ড কিংবা অন্যান্য বৈধ বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের মাধ্যমে। কিন্তু বছরে এসব সেবা কিনতে মোট কত বৈদেশিক মুদ্রা দেশ থেকে বাইরে যাচ্ছে, তার কোনো সমন্বিত সরকারি হিসাব নেই।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১৭টি অনাবাসী বিদেশি ডিজিটাল প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে ভ্যাট নিবন্ধন নিয়ে সেবা দিচ্ছে। অন্যদিকে বেসিসের তথ্যমতে, দেশে চার হাজার ৫০০-এর বেশি নিবন্ধিত তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অর্থাৎ স্থানীয় ও বিদেশি- দুই ধরনের ডিজিটাল সেবার বাজার দ্রুত সম্প্রসারণ হলেও এর আর্থিক আকার সম্পর্কে রাষ্ট্রের কাছে পূর্ণাঙ্গ চিত্র নেই।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য মতে, মেটা সরাসরি ব্যাংকিং চ্যানেলে যে ভ্যাট দেয়, সেই আইনি হিসাব অনুযায়ী তাদের আয় অনেক কম। ২০২২-২৩ থেকে পরবর্তী অর্থবছরগুলোতে মেটার ভ্যাট প্রদানের হার গড়ে ৪০ কোটি থেকে ৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এই তথ্যের মাধ্যমে মাত্র ৩০০-৪০০ কোটি টাকার ব্যবসার ইঙ্গিত দেয় মেটা। গুগল প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে অফিশিয়ালি প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ কোটি টাকার বিজ্ঞাপন ও ক্লাউড সেবার ব্যবসা দেখায়। এই আয়ের ওপর ভিত্তি করে তারা সরকারকে বার্ষিক গড়ে ১৫ থেকে ২২ কোটি টাকার মতো ভ্যাট প্রদান করে। নেটফ্লিক্স বাংলাদেশে প্রথম সারির ভ্যাট প্রদানকারী ওটিটি প্ল্যাটফর্ম।

এনবিআরের নথিমতে, তারা বাংলাদেশ থেকে অফিশিয়ালি বছরে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ কোটি টাকার মতো সাবস্ক্রিপশন ব্যবসা দেখায় এবং এর বিপরীতে ১৫% হারে বার্ষিক ২২ থেকে ৩০ কোটি টাকা ভ্যাট দেয়।

আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণ ও ট্রাফিক ডেটা মিডিয়াম আই পান্ত এআই-এর ডেটাবেজ অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ওপেনএআই-এর ব্যবহারকারীদের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ২৮তম। বাংলাদেশে প্রায় ৪২ লাখ সক্রিয় চ্যাটজিপিটি ইউজার রয়েছেন। এর মধ্যে করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্রিল্যান্সার ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ২০ ডলারের পেইড ‘চ্যাটজিপিটি প্লাস’ বা টিম অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন। তথ্য অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটি বাংলাদেশ থেকে বছরে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকার সমমূল্যের ডলার আয় করছে।

ক্যানভা বাংলাদেশের ক্ষুদ্র অনলাইন ব্যবসায়ী এফ কমার্স, গ্রাফিক ডিজাইনার এবং সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের প্রায় প্রতিটি এজেন্সিতে ‘ক্যানভা প্রো’ সাবস্ক্রিপশন ব্যবহার করা হয়। অ্যাপেল ইনক্ আইক্লাউড স্টোরেজ কেনা, অ্যাপ স্টোরের বিভিন্ন পেইড অ্যাপ ও গেমের সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে অ্যাপেল বাংলাদেশ থেকে বিশাল অঙ্কের অর্থ পায়।

আইফোন ব্যবহারকারীদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা ও আইক্লাউড পারচেজ ট্র্যাকিংয়ের জটিলতার কারণে এর সঠিক ডেটা ব্যাংকিং চ্যানেলে গোপন থাকে, তবে বাংলাদেশের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা একে বার্ষিক প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকার বাজার মনে করেন।

স্পটিফাই বাংলাদেশে প্রিমিয়াম মিউজিক স্ট্রিমিং সাবস্ক্রিপশনের বাজার তুলনামূলক ছোট হলেও স্পটিফাইয়ের পেইড এবং ফ্রি ভার্সনে দেখানো অডিও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তারা বাংলাদেশ থেকে বার্ষিক আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা আয় করে।

এ ছাড়া অ্যামাজন মূলত দুভাবে আয় করে। আমাজন প্রাইম ভিডিও স্ট্রিমিং এবং অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস (এডব্লিউএস ক্লাউড)। বাংলাদেশের বড় বড় টেক স্টার্টআপ এবং আইটি কোম্পানিগুলো ডেটা হোস্টিংয়ের জন্য এডব্লিউএস ক্লাউড ব্যবহার করায় অ্যামাজনের বার্ষিক ক্লাউড রেভিনিউ বাংলাদেশ থেকে ৪০০ কোটি টাকারও বেশি। কোম্পানিগুলোর আয় ও ভ্যাটের তথ্যই বলছে বিজ্ঞাপনের বিল বা সফটওয়্যার ক্রয়ের মতো ডিজিটাল সেবায় ব্যাংকিং খাতের বাইরে লেনদেন হওয়ায় সরকার যথাযথ কর ও ভ্যাট থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, টেক জায়ান্টদের (ফেসবুক, গুগল, অ্যামাজান, ইউটিউব) জমা দেওয়া ভ্যাট রিটার্ন এবং দেশে তাদের প্রকৃত বিজ্ঞাপনি ব্যবসার পরিমাণের মধ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে। এই রূপান্তর ও পাচার রুখতে এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট এবং সিআইডির সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

জানতে চাইলে এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে বা প্রাতিষ্ঠানিক হিসাবের বাইরে ডিজিটাল সেবার বিল (যেমন- ফেসবুক বা গুগলে পেমেন্ট) পরিশোধ করা সম্পূর্ণ অবৈধ। এনবিআর স্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে, হুন্ডি বা ক্রিপ্টোর মাধ্যমে দেওয়া এমন কোনো বিল কোম্পানির বৈধ ব্যাবসায়িক ব্যয় হিসাবে গণ্য হবে না। এ ধরনের লুকানো লেনদেনের তথ্য প্রমাণ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর বিশাল অঙ্কের জরিমানা এবং অতিরিক্ত কর ধার্য করা হবে বলে সংস্থাটির চেয়ারম্যান জানান।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ব্যাংকিং চ্যানেলে ডুয়াল কারেন্সি কার্ডের মাধ্যমে বছরে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করা হলেও, এর বাইরে একটি বিশাল অংশের ডিজিটাল সেবা পেমেন্ট (বিশেষ করে বড় বড় এজেন্সির বিজ্ঞাপনের বিল) অবৈধ হুন্ডি বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে হচ্ছে, যার সুনির্দিষ্ট পরিমাণ কোনো প্রাতিষ্ঠানিক হিসাবে আসে না।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডে বা ব্যাংকের মাধ্যমে এনডোর্সমেন্ট করে বিজ্ঞাপন বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে নানা নিয়ম ও কোটার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই অবস্থায় ডিজিটাল মাধ্যমে বিল পরিশোধের নামে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ পাঠানো হচ্ছে, যা প্রচলিত ব্যাংকিং চ্যানেলের পুরোপুরি বাইরে। ফলে মানিলন্ডারিং, হুন্ডি, অনলাইন জুয়া এবং অন্যান্য অবৈধ আর্থিক কর্মকাণ্ডে এ ধরনের পদ্ধতি ব্যবহারের ঝুঁকি বাড়ছে।

এসব অপরাধ এখন আর কেবল ঢাকা বা চট্টগ্রামের মতো মহানগরকেন্দ্রিক নয়। বরং বিভিন্ন জেলা দ্রুত এ নেটওয়ার্কের অংশ হয়ে উঠছে। এসব ঘটনায় গত কয়েক বছরে ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ব্যবহার করে ছয় হাজার ১৪৪ কোটি টাকার বেশি জমা এবং প্রায় চার হাজার ৩৫০ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান ডিআইজি আলি আকবর খান বলেন, ‘অনলাইন জুয়া, বেটিং এবং প্রতারণার ঘটনাগুলো মূলত কোনো নির্দিষ্ট একটি জায়গা থেকে সংঘটিত হয় না। অপরাধীরা ভার্চুয়ালি বিভিন্ন অবস্থান থেকে এ অপরাধ সংঘটিত করে। এর ফলে তাদের চিহ্নিত করাটা কঠিন হয়ে পড়ে।

আলি আকবর খান আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহযোগিতা নিয়ে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার এ ধরনের অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে।

মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান বিকাশের কমিউনিকেশন বিভাগের প্রধান শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম বলেন, বিকাশে সন্দেহজনক লেনদেন মনিটরিং করা হয়। সে অনুযায়ী, তদন্ত করে ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। এখন যেসব অভিযান চালানো হচ্ছে, সেগুলোও আমাদের দেওয়া তথ্য এবং সহযোগিতায় হচ্ছে। তিনি বলেছেন, যারা এরকম অপরাধে জড়িত, তাদের সবাই বিকাশ এজেন্ট নয়।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিদেশি ডিজিটাল সেবা (যেমন- সফটওয়্যার, সাবস্ক্রিপশন, অনলাইন বিজ্ঞাপন, ইন্টারনেট সেবা ইত্যাদি) কেনার জন্য মোট কী পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পরিশোধ করা হয় তার সুনির্দিষ্ট বা আলাদা কোনো বার্ষিক হিসাব নেই। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট বা ডুয়াল কারেন্সি কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহক পর্যায়ে যে ছোট ছোট লেনদেন হয় এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যে বিল পরিশোধ করা হয়, তার বার্ষিক মোট যোগফল বাংলাদেশ ব্যাংকের রিয়েল-টাইম ডেটাবেজে আলাদাভাবে উল্লেখ থাকে না।

ব্র্র্যাক, সিটি, ইস্টার্ন, ডাচ্-বাংলা ও প্রাইম ব্যাংকসহ অন্তত ১০টি ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলেছে দৈনিক রূপালী বাংলাদেশ। প্রায় প্রতিটি ব্যাংক জানিয়েছে, তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গাইডলাইন মেনে লেনদেন করেন। ব্যাংকগুলো স্বাধীনভাবে কোনো ডলার দেশের বাইরে পাঠাতে পারে না।

জানতে চাইলে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, অবৈধ লেনদেন রোধে আমাদের রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিটি ব্যাংকের আইটি এবং কমপ্লায়েন্স  বিভাগের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য থাকে তাদের কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে। তারা গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে যে, আন্তর্জাতিক জুয়া, ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনাবেচা, ফরেক্স ট্রেডিং বা বিদেশি স্টক মার্কেটে বিনিয়োগের মতো অবৈধ খাতে ডুয়াল কারেন্সি কার্ডের ব্যবহার স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্লক করা থাকে। ব্যাংকগুলো তাদের ফ্রড ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রতিটি ট্রানজেকশনের মার্চেন্ট ক্যাটাগরি কোড যাচাই করে তবেই পেমেন্ট ক্লিয়ার করে। এ ছাড়া গ্রাহকের সুবিধার্থে এবং ক্যাশলেস সোসাইটি গঠনে আমরা দায়বদ্ধ। কাগজের ডলার বহন করার ঝুঁকি কমিয়ে ডিজিটাল ইকোনমি বা ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক বিএম মঈনুল হোসেনের মতে, ডিজিটাল অর্থনীতির প্রকৃত আকার না জানলে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ত্রুটিপূর্ণ হতে বাধ্য। কোন খাত থেকে কত ডলার চলে যাচ্ছে তা না জানলে রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

Link copied!