যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা ভেঙে যাওয়ার পর উভয়পক্ষ একের পর এক হামলা ও পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। এরই মধ্যে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে এমন জবাব দেওয়া হবে, যা তারা কখনো ভুলতে পারবে না। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা অভিযোগ করেন, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্র নিজেই লঙ্ঘন করেছে। তার দাবি, সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দেশবাসীকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, জর্ডানে দুই মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনার জবাব হিসেবে ইরানের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং ভবিষ্যৎ হামলার ঝুঁকি কমানো।
সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডান ও সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও চালকবিহীন আকাশযান হামলার দাবি করা হয়েছে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির খবরও প্রকাশ হয়েছে। তবে এসব ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে সব ক্ষেত্রে একই ধরনের তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি।
এদিকে টানা কয়েক রাত ধরে ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণ ও বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান, সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় বিদেশে অবস্থানরত নিজেদের নাগরিকদের জন্য নতুন ভ্রমণ সতর্কতাও জারি করেছে ওয়াশিংটন। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপরও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তাই পরিস্থিতি আরও অবনতির আগেই কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে আন্তর্জাতিক মহল।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন