মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটির কারাগারগুলোতে আটক ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সি অন্তত ৭৪ জন তরুণ বন্দির মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসায় আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। নিহতদের পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, কারা কর্তৃপক্ষের অমানবিক নির্যাতন, অনাহার ও চিকিৎসা অবহেলার কারণেই এসব মৃত্যু ঘটেছে। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের ব্যাপকভাবে গ্রেপ্তার করে জান্তা সরকার। ইয়াঙ্গুনের ইনসেইন কারাগারে বন্দি উট ইয়ে অং মৃত্যুর আগে পরিবারের কাছে পাঠানো চিঠিতে খাবার ও ওষুধের সংকটের কথা জানিয়েছিলেন। ২৫ বছর বয়সে কারাগারেই তার মৃত্যু হয়। আরেক তরুণ বন্দি খান্ট লিন নাইংয়ের মৃত্যুকে পালানোর চেষ্টাকালে গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনা বলে দাবি করে কর্তৃপক্ষ। তবে তার পরিবার এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে এবং মরদেহ দেখার অনুমতি না দেওয়ায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, সামরিক শাসনের পর থেকে কারাগারগুলোতে নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা বেড়েছে। ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দমন-পীড়নের মুখে ৩ থেকে ৫ লাখ তরুণ-তরুণী দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো অবিলম্বে নির্যাতন বন্ধ, বন্দিদের সুরক্ষা নিশ্চিত এবং স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন