ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ, নজরে দিল্লি

ভিনদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ৫, ২০২৬, ০৬:৪১ এএম

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নজিরবিহীন অস্থিরতার মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিধানসভা নির্বাচনে হতাশাজনক ফলাফলের পর দলটির অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ প্রকাশ্যে চলে এসেছে। বিরোধী দলনেতার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া দ্বন্দ্ব এখন দলীয় সংকটের রূপ নিয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে তৃণমূলের একাংশের বিধায়ক দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। বিদ্রোহী শিবিরের নেতৃত্বে উঠে আসেন বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাদের দাবি, বিধানসভায় দলীয় নেতৃত্ব নির্ধারণে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। পরে বিদ্রোহী বিধায়কদের সমর্থনের ভিত্তিতে ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়।এই পরিস্থিতিতে দ্রুত সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দলের বিভিন্ন স্তরের কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন করে মূল্যায়ন ও পুনর্গঠনের নির্দেশ দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বিদ্রোহ মোকাবিলার কৌশল হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংকটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নেতৃত্বের প্রশ্ন। দলের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরেই প্রবীণ ও নবীন নেতৃত্বের মধ্যে দূরত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণে কেন্দ্রীকরণ এবং সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে অসন্তোষের আলোচনা চলছিল। নির্বাচনি পরাজয়ের পর সেই অসন্তোষ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এদিকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকট ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণও নতুন মোড় নিচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই পরিস্থিতি রাজ্যের অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে বামপন্থি ও কংগ্রেসপন্থি রাজনীতির পুনরুজ্জীবনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতেও এই সংকটের প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংসদে তৃণমূলের অবস্থান এবং বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়েও নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূল এখনো ভাঙনের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানি। দলটির সাংগঠনিক ভিত্তি এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এখনো বড় শক্তি হিসেবে কাজ করছে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ দ্রুত নিরসন করা না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্নÑ তৃণমূল কি সংকট কাটিয়ে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ হতে পারবে, নাকি এই অস্থিরতা রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে?