ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও দুর্যোগের ভয়াবহতা কাটেনি। সর্বশেষ হিসাবে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ২৯৫ জনে। জাতিসংঘের ধারণা, এখনো প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। আহত হয়েছেন ১১ হাজারের বেশি মানুষ এবং প্রায় ১৩ হাজার বাসিন্দা গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে সাত দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাসের উত্তরের লা গুয়ারিয়া অঞ্চল। ধসে পড়া ভবনগুলোর অধিকাংশেই অনুসন্ধান শেষ করে মৃতের চিহ্ন দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, সময় যত গড়াচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত কাউকে পাওয়ার সম্ভাবনা ততই কমে যাচ্ছে। তবে ছয় দিন পর তিন বছরের এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করার ঘটনা কিছুটা আশার আলো দেখিয়েছে। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো মানুষ এখন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। বিশুদ্ধ পানি, খাবার ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রীর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে ত্রাণের জন্য দীর্ঘ লাইন, খাবার নিয়ে বিশৃঙ্খলা এবং চুরি-লুটপাটের ঘটনাও বাড়ছে।
ধ্বংসস্তূপ থেকে মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগে চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে কর্তৃপক্ষ। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করেছে, অতিরিক্ত ভিড়, অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ও কম টিকাদানের কারণে হাম, ডিপথেরিয়াসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো দ্রুত খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসহায়তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে। বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকারী দল এখনো ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ^ খাদ্য কর্মসূচি আগামী তিন মাস প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের খাদ্য সহায়তার জন্য বিপুল অর্থ সহায়তার আবেদন জানিয়েছে। অন্যদিকে, উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই দুর্যোগে প্রায় ৫৯ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটে দুর্বল হয়ে পড়া ভেনেজুয়েলার জন্য এই ভূমিকম্প মানবিক ও অর্থনৈতিকÑ দুই দিক থেকেই এক নজিরবিহীন বিপর্যয়ে পরিণত হয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন