গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় হামাস-নিয়ন্ত্রিত পুলিশ বাহিনীর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদেল-নাসের আল-মাকাদমাসহ অন্তত ছয় ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। হামাস পরিচালিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজা সিটির উত্তরের শেখ রাদওয়ান এলাকায় তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলের দাবি, তিনি হামাসের সামরিক শাখার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
একই দিনে নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে এক চিকিৎসাকর্মী নিহত হন। খান ইউনিসে পৃথক দুটি হামলায় আরও তিনজনের প্রাণ যায়। নিহতদের মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করা শিক্ষার্থী খালেদ আল-ব্রেইমও রয়েছেন। স্বজনদের ভাষ্য, বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি উপলক্ষে আত্মীয়-স্বজনের জন্য মিষ্টি কিনতে বের হলে তিনি হামলার শিকার হন। এ ছাড়া গত সপ্তাহের হামলায় আহত এক পুলিশ সদস্য চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
হামাসের অভিযোগ, গাজার আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা দুর্বল করতেই ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে পুলিশ বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করছে। তাদের দাবি, যুদ্ধবিরতির পরও হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং এতে এক হাজার একশ আশির বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। অন্যদিকে ইসরায়েলের দাবি, হামলায় লক্ষ্যবস্তু হওয়া ব্যক্তিদের অনেকেই সশস্ত্র কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
এদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে দুটি মসজিদে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে। নাবলুসের কুসরা শহরে নির্মাণাধীন একটি মসজিদে আগুন দিয়ে দেয়ালে উসকানিমূলক স্লোগান লেখা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। একই ধরনের আরেকটি ঘটনা ঘটেছে তুলকারেমের কুর গ্রামেও।
এর একদিন আগে পশ্চিম তীরের তাল গ্রামে সংঘর্ষে চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরায়েলি নিহত হন। সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় পশ্চিম তীরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। তবে মসজিদে অগ্নিসংযোগের অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

