ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

লক্ষ্য স্থির থাকলে সফলতা আসবেই

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: মে ৩, ২০২৬, ০৬:৫৫ এএম

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কন্টেন্ট ক্রিয়েশন এখন শুধু বিনোদন নয়, অনেকের কাছে এটি নেশা ও পেশায় পরিণত হচ্ছে। এই অঙ্গনের অতি পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ রোহান রাব্বি। ক্যামেরার সামনে তার প্রতিটি কাজ দর্শককে মুগ্ধ করলেও, তার এই সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে আছে দীর্ঘ লড়াইয়ের গল্প। ছোটপর্দার বড় তারকাদের কাতারে নিজের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় গড়তে চাওয়া স্বপ্নবাজ এই মানুষটি তার জীবনের গল্প, সংগ্রামের দিনগুলো এবং ভবিষ্যতের লক্ষ্য নিয়ে কথা বলেছেন দৈনিক রূপালী বাংলাদেশের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মির্জা হাসান মাহমুদ

কেমন আছেন। ব্যস্ততা বেশি নাকি নিজের মতো সময়ও পাচ্ছেন?

আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি। দিনকাল বেশ ব্যস্তই কাটছে। নিজের জন্য আলাদা সময় বলতে তেমন কিছু রাখি না; এই মুহূর্তে ক্যামেরা, অ্যাকশন আর কাটের মধ্যে ডুবে থাকাটাকেই প্রাধান্য দিচ্ছি। আপাতত কাজের বাইরে নিজের ব্যক্তিগত সময়কেও আমি অপচয় মনে করি।

কন্টেন্ট ক্রিয়েটর রোহান রাব্বিকে তো সবাই চেনে। কিন্তু এর বাইরের রোহান কেমন?

ক্যামেরার বাইরে আমি খুবই সাধারণ একজন মানুষ। ক্যামেরায় আমাকে যতটা আবেগপূর্ণ দেখা যায়, বাস্তবে আমি ঠিক তার উল্টো; একেবারে জোকার টাইপ বলা যায়। একটু অগোছালো স্বভাবেরও। অনেক সময় যারা আমার কন্টেন্ট দেখে, তারাও কনফিউজড হয়ে যায়, এটা কি সত্যিই আমি!

এই পথে আসার গল্পটা জানতে চাই। কীভাবে শুরু হলো আপনার কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের যাত্রা?

ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি একটা আলাদা টান ছিল; কেন ছিল, সেটার স্পষ্ট কোনো কারণ এখনো খুঁজে পাই না। কখন যে সেই নেশাটা ধীরে ধীরে পেশায় পরিণত হয়ে গেল, সত্যি বলতে আমিও বুঝতে পারিনি।

শুরুর দিনগুলো নিশ্চয়ই সহজ ছিল না! কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিলেন?

শুরুর দিনগুলো থেকে এখন পর্যন্ত পথটা একেবারেই সহজ ছিল না; অনেকটা মৃত্যু-যন্ত্রণার মতো কঠিন সময়ের ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে। বারবার টিম গড়েছি, কাজ শিখিয়েছি; কিন্তু অনেকেই পরে আলাদা হয়ে নিজের টিম করেছে। বিশ্বাস করার মতো মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন ছিল। তাই বারবার ভেঙে আবার নতুন করে শুরু করতে হয়েছে। শুরু থেকেই প্রায় সব কিছু এখন অবধি একাই সামলাতে হচ্ছে। শুধু এতটুকুই বলব আমার লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য প্রতিদিন আমাকে মৃত্যু-সমান যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে, প্রতিনিয়ত সহ্য করতে হচ্ছ। বিস্তারিত বলাটা কঠিন।

নতুন কন্টেন্টের আইডিয়া কীভাবে মাথায় আসে?

রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতেই গল্প মাথায় আসে। আমার বেশির ভাগ আইডিয়া আসে আশপাশের বাস্তব জীবন আর পরিবেশ থেকেই। পাশাপাশি কিছু রিল, গল্প বা নাটক থেকেও অনুপ্রেরণা নিই।

কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে আপনার একটা সাধারণ দিন কেমন কাটে?

শুটিং না থাকলে দিনগুলো একটু ফাঁকা ফাঁকা লাগে। তখন মেজাজও কিছুটা খিটখিটে হয়ে যায় কারণ কাজের মধ্যে না থাকলে নিজের ছন্দটা ঠিক পাই না।

সোশ্যাল মিডিয়ায় কাজ করতে গেলে নেগেটিভ মন্তব্য আসবেই। সেগুলো কীভাবে নেন?

নেগেটিভ মন্তব্য তো থাকবেই, আমার ক্ষেত্রে ২% ও পাইনি বললেই চলে। আর থাকলেও সেগুলোতে আমি খুব একটা মন দিই না। বরং মানুষের ভালোবাসা আর ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াগুলোকেই গুরুত্ব দিই, সেগুলোই আমাকে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।

আপনার জীবনের এমন কোনো মুহূর্ত কি আছে, যা আপনার ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে উঠেছে বা সব কিছু বদলে দিয়েছে?

আমার ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট বলতে শুরুতে যারা আমাকে জায়গা করে দিয়েছিল বিশেষ করে বন্ধু অনুপ তার অবদান অনেক বড়। তখন মাত্র ২৮ হাজার ভিউ-ই আমার জন্য বিশাল প্রেরণা ছিল। এরপর পথটা সহজ ছিল না; জিদ, রাগ, ক্ষোভ সবই ছিল। অনেকেই এসব থেকে ভুল পথে চলে যায়, কিন্তু আমি সেগুলোকে শক্তি বানিয়েছি। আমার নেশা হয়ে গেছে এই কাজটাই।

 ভবিষ্যৎ নিয়ে কী ভাবছেন। নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

ভবিষ্যতে আমার লক্ষ্য সিনেমা নয়, নাটক। আমি পর্দায় নিয়মিত কাজ করতে চাই এবং একটা শক্ত অবস্থান তৈরি করতে চাই। ধরুন, চঞ্চল চৌধুরী, মোশারফ করিম, ফারহান, নিশো; তাদের কাজের যে ধারাটা আছে, সেই ধরনের কাজের জায়গায় নিজেকে দেখতে চাই। আমি তাদের মতো হতে চাই না, বরং তাদের কাজের ধারা ও মান বজায় রেখে নিজের আলাদা একটা পরিচয় গড়ে তুলতে চাই। আমার কাছে এই জায়গাটাই যথেষ্ট, এর বেশি কিছু চাওয়ার নেই।

যারা নিজের স্বপ্ন নিয়ে দ্বিধায় আছে বা শুরু করতে ভয় পায়, তাদের জন্য আপনার কী বার্তা?

লক্ষ্য স্থির রাখতে হবে। শুরু করাটাই সবচেয়ে কঠিন। ভয় না পেয়ে শুরু করতে হবে এবং সেটা ধরেও রাখতে হবে, যদি হাজার বার ব্যর্থও হয়ে থাকো। মনে রাখতে হবে যে, কাজে যতটুকু শ্রম দেওয়া হবে ফল ততটুকুই পাওয়া যাবে।