সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন পশ্চিমাঞ্চলের জলাশয় ও একাধিক পুকুর ইজারা প্রদানে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটি দুই মাস পেরিয়ে গেলেও কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। নির্ধারিত সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা না পড়ায় বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উল্লাপাড়া (আরএস) এলাকার বাসিন্দাদের পক্ষে আল আমিন বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে রেলওয়ের কর্মকর্তা বক্কারের বিরুদ্ধে জলাশয় ও পুকুর ইজারা প্রদানে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ মে বাংলাদেশ রেলওয়ের রেলভবন থেকে উপ-পরিচালক (ভূ-সম্পত্তি) আধরার হোসেনের স্বাক্ষরিত স্মারক নং-৫৪.০১.০০০০.০১২.৯৯.০০১.২৩-২০৯ অনুযায়ী তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটিতে নির্বাহী প্রকৌশলী (প্ল্যানিং অ্যান্ড ডিজাইন), পশ্চিমাঞ্চল, রাজশাহীকে আহ্বায়ক, বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা (সদর), রাজশাহীকে সদস্য-সচিব এবং সহকারী পরিচালক (ভূ-সম্পত্তি), রেলভবন, ঢাকাকে সদস্য করা হয়।
কমিটিকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সরেজমিন তদন্ত করে সুস্পষ্ট মতামত ও সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে ৬০ দিনেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্ত শেষ তো দূরের কথা, এখনো সরেজমিন তদন্তই শুরু হয়নি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের উপ-পরিচালক (ভূ-সম্পত্তি) আধরার হোসেন বলেন, আমার কাছে এখনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েনি। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির আহ্বায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক বীরবল মণ্ডল বলেন, এখনো সরেজমিন তদন্ত করা হয়নি। আগামী সপ্তাহে তদন্তে যাব।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা বক্কার বলেন, প্রচলিত নিয়ম মেনেই পুকুরগুলো ইজারা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জে বাংলাদেশ রেলওয়ের আওতায় মোট ১২টি পুকুর রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি টেন্ডারের মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হলেও বাকি সাতটি টেন্ডার ছাড়াই ইজারা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, স্বাধীনতার পর এই প্রথম এতগুলো পুকুর টেন্ডার ছাড়া ইজারা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এক ব্যক্তির ভোগদখলে থাকা সম্পত্তি অন্য ব্যক্তির নামে ইজারা দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, পুরো ইজারা প্রক্রিয়ায় রেলওয়ের একাধিক কর্মকর্তার যোগসাজশ থাকতে পারে। ফলে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

