ঈদুল আজহার আগের ইতিবাচক ছিল পুঁজিবাজার। দীর্ঘ ছুটি শেষে গতকাল সোমবারও ইতিবাচক প্রবণতায় ছিল। ঈদের পর প্রথম কার্যদিবসে গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ায় মূল্যসূচকও বেড়েছে। একইসঙ্গে ডিএসইতে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। এর মাধ্যমে টানা ছয় কার্যদিবস শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলল।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৬১ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১৮টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫৫টির এবং ১৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৪৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২১ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৭৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১৫২টির এবং ৫৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে, ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৮৫টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৭৭টির দাম কমেছে এবং ৩১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৪৫টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২৫টির এবং ৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪৯টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫০টির এবং ২০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ১৩টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ২টির দাম কমেছে এবং ১৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৩৭২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৮৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১৩ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৪৪ পয়েন্টে উঠে এসেছে।
মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৯১২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৭৭৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ১৩৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
এ লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে এনসিসি ব্যাংকের শেয়ার। কোম্পানিটির ৪৪ কোটি ৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৮ কোটি ১৭ লাখ টাকার। ১৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বিবিএস কেবলস।
এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছেÑ সিটি ব্যাংক, গোল্ডেন সন, যমুনা ব্যাংক, আরডি ফুড, নাহি অ্যালুমিনিয়াম, বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেম এবং বিডি থাই ফুড।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন