ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা পেলেন ৬ জন

খালেদা জিয়ার পুরস্কার নিলেন জাইমা রহমান

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মার্চ ৯, ২০২৬, ০১:২৮ এএম

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ ৬ জন নারী পেলেন ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা। প্রয়াত বেগম জিয়াকে ‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় বিশেষ অদম্য শ্রেষ্ঠ নারী’ হিসেবে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত বাকিরা হলেনÑ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য নুরুন নাহার আক্তার, শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য ববিতা খাতুন, সফল জননী ক্যাটাগরিতে নুরবানু কবীর, নির্যাতনের বিভীষিকা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করা নারী শর্মিলা বেগম ও সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখায় আফরোজা ইয়াসমিন।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে গতকাল রোববার মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধান অতিথি হিসেবে সম্মাননাপ্রাপ্ত নারীদের মাঝে পুরস্কার ও ক্রেস্ট প্রদান করেন। প্রয়াত খালেদা জিয়ার পক্ষে এই বিশেষ সম্মাননা গ্রহণ করেন তার নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক, সমাজকর্মী ও প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ও এর শক্তি প্রকাশ পায় নারী দিবসের বেগুনি রঙে। আর সেই রঙেই রাঙানো গতকাল একটি দিন দেশের নারীরা পালন করল আন্তর্জাতিক নারী দিবসে। গতকাল শুধু নারীরা নয়, বরং কর্মক্ষেত্রসহ সব জায়গায়ই পুরুষরাও এদিনটায় নারীদের সম্মান জানাতে ভুল করেনি। মা, মেয়ে, জায়া এই তিনের সমন্বয়ে স্বমহিমায় উজ্জ্বল নারীদের প্রাপ্য মর্যাদা দিতে এদিন উচ্চারিত হয় দৃপ্ত শপথ।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। সেই ধারাকে আরও শক্তিশালী ও সময়োপযোগী রূপ দিয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। বর্তমান সরকার নারীর ক্ষমতায়নের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখবে।’ তিনি উল্লেখ করেন যে, নারীদের বাদ দিয়ে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি চিকিৎসক ও সমাজকর্মী ডা. জুবাইদা রহমান গণতন্ত্র রক্ষা এবং নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া নারী উন্নয়নে যে পথ দেখিয়ে গেছেন, এই সরকার সেই পথেই কাজ করবে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা উল্লেখ করেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকাকালীন মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিলেন। ক্ষমতার বাইরে থেকেও গণতন্ত্র ও নারীর ক্ষমতায়নে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য। পুরস্কার বিতরণী শেষে রাষ্ট্রপতি পদকপ্রাপ্ত নারীদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে মহিলা শিশুবিষয়কমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, বাংলাদেশে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার এবং মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিনাত আরা বক্তব্য রাখেন। এ সময় সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন নারী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিতÑ বেগুনি আভায় সুরভিত পুরো দিন : সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ও এর শক্তি প্রকাশ পায় নারী দিবসের বেগুনি রঙে। আর সেই রঙেই রাঙানো গতকাল একটি দিন দেশের নারীরা পালন করল আন্তর্জাতিক নারী দিবস। গতকাল শুধু নারীরা নয়, কর্মক্ষেত্রসহ সব জায়গায়ই পুরুষরাও এদিনটায় নারীদের সম্মান জানাতে ভুল করেনি। মা, মেয়ে, জায়া এই তিনের সমন্বয়ে স্বমহিমায় উজ্জ্বল নারীদের প্রাপ্য মর্যাদা দিতে এদিন উচ্চারিত হয় দৃপ্ত শপথ।

নারী দিবসে বেগুনি রঙের ব্যবহারের কারণ হিসেবে জানা যায়, ২০১৮ সালে থিম কালার হিসেবে বেগুনি রং ঠাঁই পায় নারী দিবসে। নানা পণ্যে ব্যবহৃত রং নিয়ে কাজ করে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান প্যানটোন। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি বেগুনিকে বছরের সেরা রং হিসেবে ঘোষণা দেয়। কারণ হিসেবে প্যানটোন জানায়, মহাকাশের মতো অসীম এবং সম্ভাবনার একটি রং বেগুনি। দেখা না গেলেও সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি জানান দেয় মহাকাশের শক্তিশালী অস্তিত্ব। প্যানটোনের দেওয়া এই ব্যাখ্যায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদ্যাপন কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে এবং প্রতীক রং হিসেবে বেগুনিকে বেছে নেয়। আরেকটি মত অনুসারে জানা যায়, বিংশ শতকের শুরুতে বেগুনির সঙ্গে সাদা ও সবুজ রং ব্যবহার করতেন নিজেদের ভোটাধিকার আদায়ের লক্ষ্যে পথে নামা ব্রিটেনের নারীরা। তারা বলতেন, বেগুনি আভিজাত্যের প্রতীক, সাদা শুদ্ধতার এবং সবুজ আশার প্রতীক। এ ছাড়াও আমেরিকান লেখক অ্যালিস ওয়ার্কার আফ্রিকান-আমেরিকান নারীদের বৈষম্য নিয়ে একটি বই লেখেন, নাম ‘দ্য কালার পার্পেল।’ বইটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। বইটি লিখে অ্যালিস প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারী হিসেবে পুলিৎজার পুরস্কার পান। এভাবেই বেগুনি জড়িয়ে পড়ে নারীর সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথে। আর বেগুনি রঙেই রঙিন ছিল গতকাল সারাদিন।