গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পৌর মালিকানাধীন দোকানের তালা খুলে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে থানায় ঢুকে ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে যুব জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এসআই রুহুল আমিন বাদী হয়ে পলাশবাড়ী থানায় আট জামায়াত নেতা এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
জানা গেছে, গত বুধবার রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ওসি সারোয়ার আলম জানান, এ ঘটনায় তৌহিদুল ইসলাম কাকন নামে এক সন্দেহভাজনকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিকে জামায়াত নেতাদের ভাষ্য, সিসিটিভির ফুটেজ দেখে দলীয় কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওসি জানান, বুধবার রাতে ১০ থেকে ১৫ জন যুব জামায়াতের নেতাকর্মী অনৈতিক দাবি নিয়ে তার কাছে আসেন। তারা আধা ঘণ্টার মধ্যে পৌরসভার মালিকানাধীন একটি দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। অন্যথায় তার ‘চাকরি খেয়ে ফেলার’ হুমকি দেন।
তিনি আরও বলেন, দোকানটি যেহেতু সরকারি মালিকানাধীন, তাই সেখানে তালা দেওয়ার এখতিয়ার পুলিশের নেই। বিষয়টি তাদের বোঝানোর চেষ্টা করি। কিন্তু এ নিয়ে তাদের সঙ্গে তর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে তারা আমাদের কিলঘুষি মারতে থাকেন এবং ইটপাটকেল ছোড়েন। এতে আমিসহ আট পুলিশ সদস্য আহত হই। আহতদের মধ্যে ওসি নিজে, দুজন এসআই, দুজন এএসআই এবং তিনজন কনস্টেবল স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
এ বিষয়ে গাইবান্ধার সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) এ বি এম রশিদুল বারী সাংবাদিকদের বলেন, ‘যুব জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক মাহমুদুল হাসান পলাশের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পলাশবাড়ী থানায় প্রবেশ করেন। তারা থানার ওসি সারোয়ার আলমকে একটি বিবদমান দোকান তালাবদ্ধ করার অনুরোধ জানান। তিনি রাজি না হলে পলাশ ও তার লোকজন পুলিশের ওপর চড়াও হন। তারা ওসিকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত এবং তাকে বাঁচাতে আসা অন্য পুলিশ সদস্যদেরও আহত করেন। তিনি আরও বলেন, খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে জামায়াতের আমির আবু বক্কর সিদ্দিক থানায় উপস্থিত হন।
এ বিষয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এক ব্যক্তি স্থানীয় সরকারের একটি দোকানের পজিশন নিয়েছিলেন। সম্প্রতি তিনি হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে গেলে দোকানটি অবৈধভাবে অন্য একজনকে ভাড়া দেওয়া হয়। আমরা দোকানটিতে তালা দিয়ে মূল মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে আবেদন করেছিলাম।
তিনি আরও জানান, দোকানটিতে তালা দেওয়ার অনুরোধ করতে মাহমুদুল হাসান পলাশ গত রাতে আমাদের কিছু লোক নিয়ে থানায় গিয়েছিলেন। সে সময় পুলিশ আমাদের একজনকে আটকে রাখলে তর্কাতর্কি ও হাতাহাতি হয়। আমাদের কিছু ছেলে উগ্র আচরণ করে ফেলেছে। পুলিশের গায়ে হাত তোলা উচিত হয়নি। আমরা পুলিশকে বলেছি, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে, তবে নিরীহ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন।

