দৌলদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রী নিয়ে ফেরিতে ওঠার সময় ফের কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা একটি বাস নদীতে পড়ে যায়। গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৭ নম্বর পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায় ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ পরিবহনের একটি বাস। বাসটি মেহেরপুর থেকে ঢাকায় যাচ্ছিল। তবে এবার নৌ-পুলিশ ও ফেরির দায়িত্বশীলদের ত্বরিত তৎপরতার কারণে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। পড়ে যাওয়া ফেরিটি উদ্ধারের পাশাপাশি বাসে থাকা যাত্রীদের প্রাণ রক্ষা করা গেছে।
এদিকে ফেরিতে বাস ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বারবার নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে অব্যবস্থাপনার। সম্প্রতি যাত্রীবাহী একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে গেলে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে এবার আরেক বাস একইভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা জানান, শুক্রবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা এসবি সুপার ডিলাক্স বাস দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরি ‘কবরী’তে ওঠার জন্য কনভেনশন পকেট দিয়ে প্রবেশ করে। এ সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেরির বিপরীত পাশের র্যাম্প ভেঙে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। তবে দুর্ঘটনার আগে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনায় বাসটির সব যাত্রীকে নামিয়ে ফেরিতে ওঠানো হয়েছিল। ফলে বাসটি নদীতে পড়ে গেলেও কোনো যাত্রী হতাহত হয়নি। দুর্ঘটনার পরপরই বাসের চালক ও হেলপারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের নির্দেশনায় ফেরি পারাপারের সময় যাত্রীদের বাস ও অন্যান্য গণপরিবহন থেকে নামিয়ে ফেরিতে ওঠানোর যে নির্দেশনা কার্যকর রয়েছে, এ ঘটনায় তার কার্যকারিতা আবারও প্রমাণিত হয়েছে। মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের নির্দেশনায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) গত কয়েক মাস ধরে ফেরিতে ওঠার সময় যাত্রী নামিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করে আসছে। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিআইডব্লিউটিএ উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধারে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা ঘটনাস্থলে আসে। একই সঙ্গে বিআইডব্লিউটিএর ডুবুরি দল উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। বিআইডব্লিউটিএর সদস্য (প্রকৌশল) ঘটনাস্থলে অবস্থান করে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিং করেন।
নৌ-পুলিশ জানিয়েছে, রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়েছিল, সেটি ফেরিতে ওঠার জন্য পন্টুনে আসার আগেই যাত্রীদের নামানো হয়েছিল। নৌপুলিশের ‘সময়োচিত সতর্কতা ও দ্রুত পদক্ষেপের’ কারণে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন অর্ধশতাধিক যাত্রী।
বাসের যাত্রীরা জানিয়েছেন, ফেরিঘাটের পন্টুনে ওঠার আগে যাত্রীদের নামিয়ে দেন পুলিশ সদস্যরা। যাত্রীরা নেমে যাওয়ায় তাদের কেউ হতাহত হননি। পরবর্তীতে বাসের চালক, সহকারী ও সুপারভাইজারকে নদী থেকে উদ্ধার করা হয়।
নৌপুলিশ জানিয়েছে, পন্টুনে নামার আগেই সেখানে দায়িত্বরত দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা বাসটি থামিয়ে যাত্রীদের দ্রুত নেমে যাওয়ার নির্দেশ দেন। যাত্রীরা নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার পর, বাসের চালক ও হেলপার গাড়িটি নিয়ে ফেরিতে ওঠার চেষ্টা করেন। ঠিক তখনই বাসটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘাটে কর্তব্যরত নৌ-পুলিশের সদস্যরা তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তাদের দ্রুত ও সাহসী পদক্ষেপে বাসের চালক ও হেলপারকে জীবিত উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বিআইডব্লিউটিএর দৌলতদিয়া ঘাট শাখার এজিএম মো. সালা উদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই বাসটি উদ্ধারের কাজ শুরু করে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা ও ডুবুরিরা। পরে তারা খালি বাসটি নদী থেকে তুলে আনে।
গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক শরিফুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার পর বাসটির চালক, সহকারী ও সুপারভাইজারকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে চালকের সহকারীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তারা সবাই শঙ্কামুক্ত।
এর আগে ২৫ মার্চ ফেরিতে ওঠার সময় এই ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যায় কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহনের’ একটি বাস। সে দুর্ঘটনায় মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

