কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে জাহাঙ্গীর মিয়া হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তারা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। গ্রেপ্তাররা হলেনÑ শহীদ মিয়া (৪৮) ও তার স্ত্রী হুসনা খাতুন (৪৫)।
গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই জানায়, গত বছরের ২ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে জাহাঙ্গীর মিয়া নিজ বাড়ি থেকে বের হন। পরদিন বিকেলে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার বড়খারচর মধ্যপাড়া এলাকার ঘাসখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা দিলুয়ারা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে কুলিয়ারচর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ তদন্ত করলেও রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়নি। পরে পিবিআই কিশোরগঞ্জ জেলা স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত শুরু করে।
পিবিআইয়ের তদন্তে তথ্য-প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে ঘটনায় জড়িত দুজনকে শনাক্ত করা হয়। গত ১ জুন হুসনা খাতুন নামে এক নারীকে কুলিয়ারচর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ৪ জুন মামলার মূল আসামি শহীদ মিয়াকে কিশোরগঞ্জ শহর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই বলছে, নিহত জাহাঙ্গীরের সঙ্গে হুসনা খাতুনের দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় শহীদ মিয়া তার স্ত্রী হুসনাকে খড় আনতে পাঠান। এ সময় জাহাঙ্গীরের সঙ্গে নিকটস্থ নেপিয়ার ঘাসখেতে হুসনার শারীরিক সম্পর্ক হয়। বিষয়টি টের পেয়ে শহীদ মিয়া ছুরি নিয়ে সেখানে গিয়ে তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। একপর্যায়ে শহীদ মিয়া জাহাঙ্গীরকে পিঠ ও পেটে ছুরিকাঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই জাহাঙ্গীরের মৃত্যু হয়। পরে মরদেহের হাত-পা বেঁধে ফেলে রেখে চলে যান বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন