পবিত্র ঈদুল আজহার এক সপ্তাহ পরেও ঢাকার সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এখনো খোলেনি। অন্যদিকে, বাজারে ক্রেতাসমাগমও কম। তাই বাজার জমে ওঠেনি। বাজারে ভোগ্যপণ্যের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ঠিকই রয়েছে। অন্যদিকে সবজির দামও রয়েছে স্থিতিশীল। স্থিতিশীল রয়েছে চাল, চিনি, মসলা ও সয়াবিন তেলের দাম। তবে দাম বেড়েছে মাছ ও মুরগি, কমেছে ডিমের দাম।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে গতকাল শুক্রবার দেখা যায়, মাছ-মাংস ও ডিমের দোকানগুলো এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। বাজার ঈদের আমেজ চলছে। বেশির ভাগ মাংসের দোকান বন্ধ। তবে মুরগির দোকানগুলো খোলা থাকলেও ক্রেতার অপেক্ষায় সময় পার করছেন বিক্রেতারা।
ঢাকার কারওয়ার বাজারে দেখা গেছে, দাম সামান্য বেড়ে প্রতি কেজি বয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২১০ টাকা, মোরগ ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা ও লেয়ার ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দাম কমে প্রতি ডজন লাল ডিম ১২০ টাকা, সাদা ডিম ১১০ টাকা ও হাঁসের ডিম ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
কারওয়ান বাজারের ডিম বিক্রেতা উজ্জ¦ল বলেন, ‘ক্রেতা নেই। যার কারণে এখনো সব দোকান খোলেনি। ডিমের দাম একটু কমেছে। প্রতি ডজন মুরগির ডিম ১০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত কমে এখন ১২৫ পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।’
আরেক বিক্রেতা জানান, বাজারে এখনো ক্রেতা নেই বললেই চলে। সবাই ফিরে এলে আবার বেচাকেনা বাড়বে। তবে কিছু সবজির দাম রয়েছে ঊর্ধ্বমুখী। কোনো কোনো সবজির দাম স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় একটু বেশি বেড়েছে বলে জানান ক্রেতারা।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি দেশি গাজর ১৬০ টাকা, চায়না গাজর ১৮০ টাকা, লম্বা বেগুন ৭০ থেকে ৮০ টাকা, সাদা গোল বেগুন ৮০ টাকা, কালো গোল বেগুন ১০০ টাকা, শিম ৩২০ টাকা, শজনে ১৮০ টাকা, দেশি শসা ১২০ থেকে ১৬০ টাকা, উচ্ছে ও করলা ৮০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৮০ টাকা, হাইব্রিড পটোল ৮০ টাকা ও দেশি পটোল ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, ধুন্দল ৭০ টাকা, ঝিঙা ১০০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, মূলা ৮০ টাকা, কচুরমুখি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৪০ টাকা ও ধনেপাতা ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে হাইব্রিড শসা ও পেঁপে ৮০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। আকারভেদে প্রতিটি লাউ ৮০ টাকা, চাল কুমড়া ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ফুলকপি ৭০ টাকা ও বাঁধাকপি ৬০ থেকে ৭০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। প্রতি হালি কাঁচা কলা ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং লেবু ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
মগবাজারের চারুলতা মার্কেটে দেখা যায়, মাছের বাজারে প্রতি কেজি পাঙ্গাশ ও তেলাপিয়া মাছ ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাষের কই মাছের কেজি ২২০ টাকা। রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকা কেজি দরে। শিং মাছের কেজি ৩২০ এবং মৃগেল মাছের কেজি ৩০০ টাকা।
সবজির আলু-পেঁয়াজের দামে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। বর্তমানে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৪৫ টাকা, ক্রস জাতের পেঁয়াজ ৪০ টাকা এবং লাল ও সাদা আলু ২৫ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া দেশি রসুন ৯০ থেকে ১০০ টাকা, চায়না রসুন ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা, চায়না আদা ১৮০ টাকা ও ভারতীয় আদা ১৬০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।
মাছের বাজারে সরবরাহ থাকলেও দাম এখনো বেশ চড়া। আকার ও ওজনভেদে ইলিশ মাছ এক হাজার ৩০০ থেকে তিন হাজার টাকা, রুই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, কাতল ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা, কালিবাউশ ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা এবং চিংড়ি ৮০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া কাঁচকি ৫০০ টাকা, কৈ ২৬০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, শিং ৪০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা, টেংরা ৭০০ টাকা, বেলে ৭০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা এবং বোয়াল মাছ ৬০০ থেকে এক হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

