ছাত্র-জনতার প্রবল অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত এবং পরবর্তীকালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। দিনটি পালনের লক্ষ্যে নিষিদ্ধ দলটি ও এর অঙ্গসংগঠন তৎপর বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীসহ বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা অঙ্গনে লক্ষ করা গেছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। দলটির সম্ভাব্য ঝটিকা মিছিল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার, প্রতীকী কর্মসূচি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছে প্রশাসন। বিশেষ করে নজর রাখা হচ্ছে রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে। এসব স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে করা হচ্ছে তল্লাশি। শুধু প্রবেশপথই নয়, রাজধানীজুড়েই গত কয়েক দিন ধরে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে সার্বিক পরিস্থিতির ওপর সতর্ক নজর রাখছে প্রশাসন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সীমিত পরিসরে ঝটিকা মিছিল, প্রতীকী কর্মসূচি কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার চেষ্টা করতে পারে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের পাশাপাশি ছয় জেলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় মোতায়েন করা হয়েছে সশস্ত্র বাহিনী। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও চট্টগ্রামে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত প্রয়োজনীয়সংখ্যক সেনা সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এর লক্ষ্য সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা।
সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে গতকাল সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ মাফিয়া দল আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা রুখতে ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার অ্যাক্টের আওতায় ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যেসব জেলায় নাশকতা বা অপতৎপরতার চেষ্টা হয়েছে, সেসব এলাকাতেই সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।’ এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় এখন ভালো রয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের বড় অংশ দেশের বাইরে আত্মগোপনে। আরেকটি অংশ কারাগারে। এ ছাড়া দলটির কার্যক্রমে আইনি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে সাংগঠনিক কর্মকা- কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। এরপর দীর্ঘ সময় দলটির রাজনৈতিক তৎপরতা সীমাবদ্ধ ছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ভার্চুয়াল সভা, ভিডিও বার্তা এবং বিচ্ছিন্ন ঝটিকা মিছিলে। তবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তৃণমূল পর্যায়ের কিছু নেতাকর্মী আবারও মাঠে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (গোপনীয়) মোহাম্মদ কামরুল আহসান স্বাক্ষরিত এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে দলটির নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন জেলা, বিশেষ করে তাদের সাবেক শক্ত ঘাঁটিগুলোতে গোপন বৈঠকের মাধ্যমে ঝটিকা মিছিল, ব্যানার প্রদর্শন এবং দলীয় কার্যালয়ে বা উন্মুক্ত স্থানে জোরপূর্বক দলীয় পতাকা উত্তোলনের পরিকল্পনা করছে। গোয়েন্দা তথ্যে আরও বলা হয়, সাধারণ জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা, সরকারি স্থাপনায় হামলা চালানো এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল বা ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোই এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য। এরপরই পুলিশ সদও দপ্তর থেকে দেশের সব রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এবং মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারদের কাছে জরুরি ভিত্তিতে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।
নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমান বাস্তবতায় বড় ধরনের রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের চেয়ে সংগঠনের অস্তিত্ব ও সাংগঠনিক উপস্থিতি জানান দেওয়ার প্রচেষ্টাই বেশি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে। এ ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়নে তিনটি বিষয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রথমত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া অডিও-ভিডিও কিংবা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হতে পারে। দ্বিতীয়ত, ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে রাজধানী ও বিভিন্ন জেলা শহরে আকস্মিক ঝটিকা মিছিল কিংবা স্বল্প সময়ের শোডাউনের চেষ্টা করা হতে পারে। বড় সমাবেশের পরিবর্তে কয়েক মিনিটের কর্মসূচি পালন করে ভিডিও ধারণ এবং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতাও বিশেষভাবে নজরদারিতে রয়েছে। তৃতীয়ত, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, দোয়া মাহফিল কিংবা প্রতীকী কর্মসূচির আড়ালে কর্মী সমাবেশের চেষ্টা হতে পারে কি না, সেটিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এগুলো গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য ঝুঁকির মূল্যায়ন। নির্দিষ্ট কোনো বড় নাশকতার তথ্য প্রকাশ্যে জানানো হয়নি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে ১৮ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। রাজধানীর প্রবেশপথসমূহÑ গাবতলী, যাত্রাবাড়ী, উত্তরা, কাঁচপুর ব্রিজ এলাকা এবং মহানগরের অভ্যন্তরে গুরুত্বপূর্ণ মোড়, রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এলাকা এবং জনসমাগমস্থলে অতিরিক্ত চেকপোস্ট ও টহল জোরদার করা হয়েছে। ডিএমপির পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০০টির বেশি কৌশলগত স্থানে বিশেষ চেকপোস্ট ও পিকেট বসানো হয়েছে। পাশাপাশি মহানগরজুড়ে সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে। যেকোনো আকস্মিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে সোয়াত, দাঙ্গা দমন ইউনিট, কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি), জলকামান এবং অন্যান্য বিশেষায়িত ইউনিট। একই সঙ্গে ডিবি, সিটিটিসি, স্পেশাল ব্রাঞ্চ এবং গোয়েন্দা ইউনিটগুলো মাঠ ও সাইবার জগতে সমন্বিতভাবে নজরদারি চালাচ্ছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ২৩ জুনকে কেন্দ্র করে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী রূপালী বাংলাদেশকে জানান, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং জনসাধারণের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঢাকার আইনশৃঙ্খলা সুরক্ষায় এবং নাশকতার যেকোনো চেষ্টা মুহূর্তের মধ্যে নস্যাৎ করতে মাঠ পর্যায়ে ১৮ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য নিয়োজিত করা হয়েছে। ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার ইবনে মিজান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, মোহাম্মদপুর, আদাবর, শেরেবাংলানগর, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলসহ প্রতিটি এলাকায় সতর্কতা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চেকপোস্ট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কোনো মিছিল বা নাশকতার চেষ্টা করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যাপক ও নিñিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।
পুলিশের পাশাপাশি এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) তাদের নিজস্ব গোয়েন্দা জাল এবং সাইবার নজরদারি জোরদার করেছে। র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ যাতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের উসকানিমূলক গুজব ছড়াতে না পারে, সে জন্য সাইবার মনিটরিং সেল ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় রয়েছে। দেশের মহাসড়কগুলোতে র্যাবের বিশেষ টহলদল নিয়োজিত করা হয়েছে, যাতে পণ্যবাহী বা যাত্রীবাহী কোনো যানবাহনে অগ্নিসংযোগ বা ভাঙচুরের মতো নাশকতা না ঘটে।
র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক ও মুখপাত্র বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে কোনো ধরনের নাশকতা, বিশৃঙ্খলা বা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করলে র্যাব কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। র্যাব সার্বক্ষণিক সতর্কাবস্থায় রয়েছে। র্যাব-২-এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান বলেছেন, কেউ যদি অস্ত্র ব্যবহার করে কিংবা অন্য কোনো উপায়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে চায়, তাহলে তারাই সবচেয়ে বড় ঝুঁকির মুখে পড়বে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক উত্তেজনার বড় একটি অংশ তৈরি হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কয়েক সেকেন্ডের সম্পাদিত ভিডিও, এআই প্রযুক্তিতে তৈরি ভুয়া বক্তব্য কিংবা পুরোনো ঘটনার নতুন উপস্থাপন মুহূর্তেই বিভ্রান্তি ও গুজব ছড়িয়ে দিতে পারে। তাদের মতে, তাই মাঠ পর্যায়ের নিরাপত্তার পাশাপাশি সাইবার নজরদারিও এখন সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাইবার ইউনিট সার্বক্ষণিক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম পর্যবেক্ষণ করছে। উসকানিমূলক বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।
গত তিন দিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন কঠোর তৎপরতার ফলে সাধারণ নাগরিকদের মনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। অবশ্য ঢাকার বিভিন্ন এলাকা এবং জেলা শহরগুলোর সাধারণ ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, ঝটিকা মিছিল বা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার মতো ঘটনা ঘটলে ব্যাবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। নগরীর বাসিন্দারা নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্ট থাকলেও কিছুটা ভয়ে আছেন বলেও জানান। গতকাল কারওয়ান বাজারের পথচারী আব্দুল কালাম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, আওয়ামী লীগ একটি খুনি দল। তারা ১৬ বছর ধরে দেশে লুটপাট করেছে। দেশের রাজনীতিতে ফিরতে মরিয়া দলটির পক্ষে যেকোনো ধরনের নাশকতা করা সম্ভব। এমন পরিস্থিতিতে সরকার ও জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে।
এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো স্থানে সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা কোনো ধরনের গোপন বৈঠক কিংবা নাশকতার আলামত দেখলে অবিলম্বে নিকটস্থ থানা অথবা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ যোগাযোগ করে তথ্য দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কাঠামো আগের তুলনায় দুর্বল হয়েছে। ফলে বড় ধরনের জনসমাবেশ আয়োজনের সক্ষমতা সীমিত হলেও প্রতীকী কর্মসূচি কিংবা ছোট আকারের ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে রাজনৈতিক উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। তাদের মতে, প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নয়; একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যাতে ব্যাহত না হয়, সেটিও নিশ্চিত করা।
পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েন : এদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় কক্সবাজার, মাদারীপুর, শেরপুর, গাজীপুর ও মৌলভীবাজার জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে গতকাল সোমবার সন্ধ্যা থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
বিজিবির সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানিয়েছেন বলেন, দেশের অন্যান্য জেলাতেও প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক মোতায়েনের জন্য বিজিবি সদস্যদের স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাহিনীটি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন