প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ আজ মঙ্গলবার অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মন্ত্রী। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে আজ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দেশজুড়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
কোনো নাশকতার আশঙ্কা আছে কি নাÑ জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে এবং আমাদের সবসময় সতর্ক থাকতে হয়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ যে মাফিয়া বাহিনী আওয়ামী লীগের কিছু অপতৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন জেলায় আমরা দেখেছি, তারা মিছিল-মিটিং করার মতো কিছু কার্যক্রম হাতে নিয়েছে, দু-একটা জায়গায় দেখেছি। তাতে আমাদের মনে হয়েছে, তারা হয়তো একটা অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করলেও করতে পারে। এ বিবেচনায় আমরা আমাদের সব বাহিনীকে সতর্ক থাকার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি, যা সবসময় থাকে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এর বাইরে আমরা ২২ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আমাদের সেনা সদস্যদের আবার ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার আইন মোতাবেক ঢাকা মেট্রো, চট্টগ্রাম মেট্রো, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর মেট্রো এবং এর বাইরে দুটো জেলা, তাতে আমরা (সেনাবাহিনী) ডেপ্লয় (মোতায়েন) করেছি, যাতে যেকোনো রকমের অপতৎপরতা অ্যাড্রেস করা যায়, ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার।’
‘সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সর্বজনীন অধিকারে দৃঢ় বিশ^াসী’ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বর্তমান সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সর্বজনীন অধিকারে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী। তিনি বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে কক্সবাজারের রামু, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এখন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের হার সবচেয়ে কম। দুয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে গতকাল সচিবালয়ে তার অফিসকক্ষে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসলে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মার নেতৃত্বে আট সদস্যের প্রতিনিধি দল এ সাক্ষাতে অংশ নেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাৎকালে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং অর্পিত সম্পত্তি আইনসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যেকোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার লক্ষ্যে একজন ‘ফোকাল পয়েন্ট’ কর্মকর্তা নির্ধারণের দাবি জানান। মন্ত্রী অত্যন্ত সহানুভূতির সঙ্গে দাবিটি বিবেচনার এবং তা দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস প্রদান করেন।
আলোচনাকালে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে হরিদাস চন্দ্র কর্তৃক রামমন্দির নির্মাণ এবং অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তী দেশের সার্বভৌমত্ববিরোধী বক্তব্য প্রদানের বিষয়টি উত্থাপিত হয়। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও স্বার্থ সুরক্ষাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে সব সম্প্রদায়েরই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা আবশ্যক।’
সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানেÑ এমন যেকোনো বক্তব্য বা কর্মকা- থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে তিনি সব পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন