কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ। পিচঢালা এই দীর্ঘ সড়কটির একপাশে উত্তাল বঙ্গোপসাগর, অন্যপাশে আকাশছোঁয়া পাহাড়। দিনে পর্যটকদের বিনোদনকেন্দ্র হলেও রাতের আঁধারে এই সড়কটিই দীর্ঘ ২২ মাস ধরে রূপ নিয়েছিল এক জীবন্ত নরকে। আর সেই নরকের একচ্ছত্র ‘অধিপতি’ ছিল টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ।
মাদক নির্মূলের নামে ওসি প্রদীপ টেকনাফকে বানিয়েছিল নিজের ব্যক্তিগত ‘লুণ্ঠন-সাম্রাজ্য’। যেখানে কথিত বন্দুকযুদ্ধের নীলনকশায় ঝরেছে বহু প্রাণ। কিন্তু এই খুনের চেয়েও ভয়ংকর ছিল খুনের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী একেকটি অধ্যায়। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে কীভাবে মাদক ও অস্ত্রের মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো, কীভাবে সম্ভ্রমহানি করা হতো মা-বোনদের, কীভাবে প্রতিবাদী কণ্ঠ রোধ করতে পুরো পরিবারকে মামলার জালে বন্দি করা হতো।
জানা গেছে, ওসি প্রদীপের প্রতিটি কথিত বন্দুকযুদ্ধের একটি সুনির্দিষ্ট ও অপরিবর্তনীয় ‘কমন স্ক্রিপ্ট’ বা নাটক ছিল। প্রদীপের প্রথম টার্গেট ছিল বিত্তশালী প্রবাসী বা ব্যবসায়ীরা। গোপন সংবাদের উছিলায় তাদের বাড়ি থেকে তুলে আনা হতো। থানায় এনে চলত অমানুষিক নির্যাতন। এরপর শুরু হতো দরকষাকষি। মুক্তিপণের জন্য ভুক্তভোগীর পরিবারকে বাধ্য করা হতো ঘরবাড়ি, জমি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিক্রি করতে। প্রদীপের বিশ^স্ত দালালরা নিজেরাই ক্রেতা সাজিয়ে কম দামে সেই সম্পত্তি কিনত। নগদ টাকা, সোনা, জমিÑ সব লিখে নেওয়ার পরও শেষ রক্ষা হতো না। শেষ রাতে কোনো এক পাহাড় বা জঙ্গলে নিয়ে হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থাতে গুলি করে হত্যা করা হতো নিরপরাধ মানুষকে।
হত্যার পর লাশের পাশে রাখা হতো কয়েক পোঁটলা ইয়াবা আর দু-একটা ভাঙাচোরা পাইপগান। এরপর মৃত ব্যক্তি ও তার পুরো পরিবারের বিরুদ্ধে দেওয়া হতো তিনটি নির্দিষ্ট মামলাÑ হত্যা, অস্ত্র ও মাদক মামলা। বন্ধু, আত্মীয় থেকে শুরু করে পুরো গ্রামকে আসামি করে সচল রাখা হতো কোটি কোটি টাকার গ্রেপ্তার ও রিমান্ড বাণিজ্য।
২০২০ সালে মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যাকা-ের পর প্রদীপের পাপের সাম্রাজ্যে ফাটল ধরে। বেরিয়ে আসতে থাকে ওসি প্রদীপের সব অপকর্ম। টেকনাফে ১৬১ জনকে হত্যা ও ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ওসি প্রদীপের কোটি কোটি টাকা চাঁদা আদায়ের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে শুরু হয় তোলপাড়।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, টেকনাফ থাকাকালে ওসি প্রদীপ ও তার সহযোগীরা অর্ধশতাধিক নারীকে ‘ইয়াবা কারবারি’ তকমা দিয়ে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করেছে। প্রদীপের ভয়ে ওই সময় ভুক্তভোগীদের কেউ মামলা না করায় ধামাচাপা পড়ে যায় এসব ঘৃণ্য অপকর্ম।
২০২১ সালের ১০ অক্টোবর কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সিনহা হত্যা মামলার সাক্ষ্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন হোয়াইক্যংয়ের এক নারী। আদালতে দেওয়া তার জবানবন্দিতে স্তব্ধ হয়ে যান উপস্থিত সবাই। তিনি জানান, ওসি প্রদীপ আমার স্বামী, আমাকে ও আমার দুই কিশোরী কন্যাকে ইয়াবার মিথ্যা মামলা দিয়ে আটকে রাখে। শুধু তাই নয়, টেকনাফ থানার দ্বিতীয়তলায় আমার দুই মেয়েকে জিম্মি করে দীর্ঘদিন ধর্ষণ করে। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে লোকলজ্জায় আমার মেয়েরা কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়।
প্রশাসন ওসি প্রদীপের পক্ষে থাকায় মামলা করার সাহস পাননি দাবি করে ওই নারী বলেন, মেজর সিনহা হত্যা মামলার পর তিনি সাহস পেয়ে ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে আদালতে ধর্ষণ মামলা করেন। আদালতে জেরা চলাকালে তৃষ্ণার্ত ওই নারীকে পানি পান করতে বলা হলে তিনি ঘৃণা ও ক্ষোভে ফেটে পড়েন। প্রদীপের মতো এক নরপশুর সামনে পানি পান করতেও অস্বীকৃতি জানান এই ভাগ্যহত মা। ওই দিন দুপুরে আদালত এক ঘণ্টার জন্য বিরতি দিলে আইনজীবীরা আদালত থেকে বের হন। সে সময় বাদীপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এসব তথ্য তুলে ধরেন।
এদিকে টেকনাফের নাজিরপাড়ার এক লবণ ব্যবসায়ীর পরিবারও প্রদীপের লালসার শিকার হয়। ওই ব্যবসায়ীর ভাই জানান, ২০১৯ সালে এক রাতে ওসি প্রদীপ ও এসআই সঞ্জিত তাদের বাড়িতে হানা দেয়। তার ভাইকে না পেয়ে প্রদীপ তাদের বৃদ্ধ মাকে বন্দুকের বাঁট দিয়ে আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে দেয়। তখন বাড়ি থেকে দুই যুবতিকে তুলে থানায় নিয়ে শ্লীলতাহানি করা হয়।
ব্যবসায়ীর ভাই অভিযোগ করেন, এসআই সঞ্জিতের মাধ্যমে তাদের কাছে দাবি করা হয় ৫০ লাখ টাকা। জমি ও গবাদিপশু বিক্রি করে প্রথমে ৬ লাখ টাকা দিলেও তার দুই ভাবিকে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা দিয়ে গ্রেপ্তার দেখিয়ে চালান দেওয়া হয়। পরে মূল টার্গেট তাই ভাইকে গোপালগঞ্জ থেকে ধরে এনে আরও ১৫ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়। কিন্তু এরপরও রেহাই মেলেনি। তার ভাইয়ের গুলিবিদ্ধ লাশ মেলে মেরিন ড্রাইভে।
২০২০ সালের ২৬ জুলাই রাতে টেকনাফের ম-লপাড়ার ইউনুসের স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে। ওয়ারেন্টভুক্ত এক আসামিকে আশ্রয় দেওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। হাসিনা আক্তার নামে ওই নারীকে এক হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। শুধু তাই নয়, ইউনুসের বাড়িটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় ওসি প্রদীপের লোকজন। একই ঘটনায় পাশের গ্রাম মৌলভীপাড়ার অটোচালক আব্দুল মোত্তালেব ও তার বোন রহিমা আক্তারকে ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। রহিমা খাতুন পুলিশের সঙ্গে যেতে না চাইলে তার নাক-মুখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয় পুলিশ। এরপর অসুস্থ অবস্থায় তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। ভাঙচুর চালানো হয় তার বসতবাড়িতে। এই অভিযানে ওসি প্রদীপের নেতৃত্বে উপস্থিত ছিল পুলিশ সদস্য সাগর, সঞ্জিত দত্ত ও রুবেল। পরে আব্দুল মোত্তালেবের শ^শুর নূরুল ইসলাম থানার দালাল মোহাম্মদ আলীকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ সদস্য সাগরের হাতে তিন লাখ টাকা দেন। কিন্তু মোত্তালেব ও রহিমা ছাড়া পাওয়া দূরের কথা, দুই হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে তাদের গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।
এছাড়া টেকনাফ পৌরসভার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ড অলিয়াবাদ গ্রামের এক নারী যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে। অভিযোগে জানা যায়, ওই এলাকার এক বাসিন্দাকে ওসির লোকজন টাকা দাবি করে নিয়মিত হুমকি দিত। টাকা না দেওয়ায় ওসি প্রদীপ প্রথমে তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে। ওই দিন একটি ঘরে ঢুকে বাড়ির মালিকের ছেলের বউকে ধর্ষণচেষ্টা করে। কিন্তু ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ওসি প্রদীপ ওই নারীকে বেধড়ক মারধর করে।
এ ছাড়া নাজিরপাড়ার বাসিন্দা দুদু মিয়াকে হ্নীলা এলাকা থেকে আটক করে কথিত ক্রসফায়ার দেয় ওসি প্রদীপ। ২০১৯ সালে রমজান মাসে তাকে আটক করে ২০ লাখ টাকা দাবি করে প্রদীপের সহযোগী এএসআই সঞ্জিত। রাতের মধ্যে টাকা জোগাড় করার পরও সেদিন তাকে ক্রসফায়ার দেওয়া হয়। দুদু মিয়ার স্ত্রী নাসিমা আক্তার অভিযোগ করেন, আমি সঞ্জিতের পায়ে পড়েছিলাম। তখন সে আমাকে লাথি দিয়ে ফেলে দেয়। ওসির কাছে গিয়েছিলাম, উল্টো আমাকে হুমকি দিয়ে পাঠিয়ে দেয়। এর আগে ৫০ লাখ টাকা চেয়েছিল পুলিশ। পরে দশ লাখ টাকায় রাজি হয়। একদিনের মধ্যে গরু-মহিষ বিক্রি করে তিন লাখ টাকা জোগাড় করে দিলেও রাতের মধ্যেই মেরে ফেলে আমার স্বামীকে। স্বামীকে হত্যার পর ওসির লোকজন বিভিন্ন সময় আমাকে হুমকি দিতে থাকে। এসব বিষয়ে কথা বললে আমাদেরও একই অবস্থা হবে বলে ভয় দেখায়। দুদু মিয়াকে ক্রসফায়ার দিয়ে একই মামলায় আসামি করা হয় তার বড় ভাই স্কুলশিক্ষক সৈয়দ আলম ও ছোটভাই প্রবাসী সোনা মিয়াকে। তাদের গ্রেপ্তার করে পাঠানো হয় কারাগারে।
ওসি প্রদীপের ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ করে টেকনাফের হ্নীলার আরেক গৃহবধূ জানান, তার স্বামীর কাছে চাঁদা দাবি করে স্থানীয় সন্ত্রাসী গিয়াস বাহিনীর লোকজন। চাঁদা না দেওয়ায় একদিন সন্ধ্যায় এসআই মশিউর বাড়িতে এসে তাকে (গৃহবধূ) ইয়াবা কারবারি বলে ধরে নিয়ে যায়। পরে অজ্ঞাত স্থানে টানা তিন দিন আটকে রেখে ওসি প্রদীপ ও সন্ত্রাসীরা তাকে ধর্ষণ করে ও পাশবিক নির্যাতন চালায়। এরপর ইয়াবা দিয়ে আদালতে চালান করে। তার দাবি, একইভাবে প্রদীপের ধর্ষণের শিকার হয়েছে তাদের পরিবারের ছয় নারী।
উখিয়ার কোর্ট বাজারের নির্যাতিত এক তরুণীর অভিভাবক জানান, ২০১৯ সালের শেষের দিকে তাদের কলেজপড়ুয়া মেয়ে টেকনাফে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে গেলে প্রেমিকসহ কয়েকজন মিলে তাকে ধর্ষণ করে। বিষয়টি ওসি প্রদীপ পর্যন্ত গড়ায়। ওই সময় ধর্ষকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে প্রদীপ নিজেও কয়েক দিন আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণের পর ইয়াবা দিয়ে ওই তরুণীকে কোর্টে চালান করে।
অভিযোগ আছে, টেকনাফ হোয়াইক্যং এলাকার এক ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে গিয়ে অর্ধকোটি টাকা চাঁদা দাবি করে ওসি প্রদীপ। টাকা দিতে না পারায় তিনদিন পর কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে তাকে হত্যা করা হয়। এ বিষয়ে প্রতিকার পেতে নিহতের মেয়ে এবং বোন কক্সবাজার আদালতে যান। খবর পেয়ে ওই দুই নারীকে তুলে নিয়ে যায় ওসি প্রদীপের লোকজন। তাদের থানায় আটকে রেখে টানা পাঁচ দিন ধর্ষণের পর ইয়াবা দিয়ে চালান দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী নারীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খোঁজ করে পাওয়া যায় কক্সবাজার জেলা কারাগারের তৎকালীন মেডিকেল রাইটার হাজতি মো. ইউসুফকে। তিনি প্রদীপের কাছে ধর্ষিত অসংখ্য নারীকে কারাগারে থাকাকালে চিকিৎসা দিয়েছেন বলে জানান।
ইউসুফ জানান, ঘটনাক্রমে একটি মিথ্যা মামলায় ফেঁসে গিয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগের পর ২০২০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। হাসপাতালের টেকনোলজিস্ট ও চিকিৎসার বিষয়ে অভিজ্ঞতা থাকায় তাকে কারা মেডিকেলের রাইটার হিসেবে দায়িত্ব দেয় কারা কর্তৃপক্ষ। সেই সুবাদে কারাগারে থাকা সব রোগীর তিনি দেখভাল করতেন। তিনি জানান, ওসি প্রদীপের পাশবিক নির্যাতনের বহু ঘটনা তিনি কারাগারে বসে জেনেছেন। এর মধ্যে টেকনাফের ১৬ বছরের এক কিশোরীকে টানা ১৫ দিন থানায় আটকে রেখে ধর্ষণ করে প্রদীপ ও তার সহযোগীরা। নির্যাতনের চরম পর্যায় হিসেবে ধর্ষণের পর ভুক্তভোগী নারীদের গোপনাঙ্গে মরিচের গুঁড়ো ছিটিয়ে দেওয়া হতো। এ ছাড়া রঙ্গিখালীর আরেক তরুণীকে এক মাসেরও বেশি সময় থানায় আটকে রেখে একইভাবে পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। পুলিশ হেফাজত থেকে কারাগারে পাঠানোর পর কারা কর্তৃপক্ষ মুমূর্ষু অবস্থায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করে। কারণ তাদের বুক ও পিঠে ছিল বুটের ও লাঠির অমানুষিক আঘাতের চিহ্ন।
সিনহা হত্যা মামলার তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা (র্যাব-১৫-এর এএসপি) খাইরুল ইসলামও গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেন, সিনহা হত্যার তদন্ত করতে গিয়ে প্রদীপের এমন বহু রোমহর্ষক ধর্ষণের অকাট্য প্রমাণ তারা পেয়েছিলেন, যা আলাদা প্রতিবেদন আকারে আদালতে জমা দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, যখন টেকনাফের বাতাসে লাশের গন্ধ আর নারীদের কান্নার রোল, তখন ঢাকার পুলিশ সদর দপ্তর কিংবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চ অলিন্দে ওসি প্রদীপ ছিল ‘আইকন’। সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও তার উচ্চপদস্থ সিন্ডিকেটের আশীর্বাদে সে প্রতি বছর পেয়েছে রাষ্ট্রীয় পদক (বিপিএম, পিপিএম)।
সূত্র জানায়, প্রদীপের লুটের টাকার ভাগ চলে যেত ওপর মহলেও। বস্তায় বস্তায় টাকা পাচার হয়েছে কানাডার বেগমপাড়া, অস্ট্রেলিয়া কিংবা দুবাইয়ে। দেশের মানুষের রক্ত চুষে খাওয়া সেই টাকায় দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তারা বিদেশে গড়েছে বিলাসী জীবন।
২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যার মধ্য দিয়ে ওসি প্রদীপের এই পৈশাচিক সাম্রাজ্যের অবসান ঘটে। সিনহা হত্যা মামলায় ২০২২ সালে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত ওসি প্রদীপ ও লিয়াকতকে ফাঁসির রায় দেন। এ ছাড়া আরও ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেওয়া হয়। ওই মামলায় ওসি প্রদীপের সাজা বহাল রেখে ২০২৫ সালের ২২ নভেম্বর পূর্ণাঙ্গ রায় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেন হাইকোর্ট। বর্তমানে ওসি প্রদীপ কারাগারের কনডেম সেলে ফাঁসির প্রহর গুনছে। কিন্তু টেকনাফের আকাশে এখনো যে ক্ষত রয়ে গেছে, তা কোনোদিন শুকাবার নয়। শত শত পরিবার আজ নিঃস্ব, কত মেয়ের জীবন বিষাদময়, কত মা আজও সন্তানের কবরের পাশে বিচার চেয়ে কাঁদছেন।

