ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই, ২০২৬

রিজার্ভ চুরি

৯৬ বারের মতো পেছাল প্রতিবেদন মামলার তদন্ত

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ৩, ২০২৬, ০২:১৮ এএম

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন পিছিয়ে আগামী ৯ আগস্ট ধার্য করেছেন আদালত। এক দশক আগের ঘটনায় এ নিয়ে ৯৬ বার পেছানো হলো প্রতিবেদন দাখিলের দিন। ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল গতকাল বৃহস্পতিবার।

এদিন মামলার তদন্তকারী পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি। এ জন্য বিচারক জশিতা ইসলাম প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী দিন নির্ধারণ করেন আগামী ৯ আগস্ট। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রোকুনুজ্জামান এ তথ্য জানান।

মামলার বিবরণ অনুসারে, ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জালিয়াতি করে সুইফট কোডের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করা হয়। এসব টাকা পাঠানো হয় ফিলিপিন্সে। দেশের অভ্যন্তরেরই একটি চক্রের সহায়তায় ওই অর্থ পাচার হয় বলে তখন ধারণা করেছিলেন সংশ্লিষ্টরা। পরে ওই বছরের ১৫ মার্চ রাজধানীর মতিঝিল থানায় মামলা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের যুগ্ম পরিচালক জুবায়ের বিন হুদা। তবে অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনের ওই মামলায় সরাসরি কাউকে আসামি করা হয়নি। মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। তবে এ পর্যন্ত দফায় দফায় সময় নিয়েও তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারেনি সংস্থাটি।

গত জুনে রিজার্ভ চুরির মামলায় একটি খসড়া অভিযোগপত্র প্রস্তুত করে পরামর্শের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানোর খবর সংবাদমাধ্যমে এসেছে। সেই খবরে ঘটনার সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের দায়িত্বে থাকা আতিউর রহমানসহ দেশি-বিদেশি ৬৪ জনকে অভিযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশ ব্যাংকের খোয়া যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপিন্সের স্থানীয় মুদ্রা পেসোর আকারে চলে যায় তিনটি ক্যাসিনোতে। এর মধ্যে একটি ক্যাসিনোর মালিকের কাছ থেকে দেড় কোটি ডলার উদ্ধার করে ফিলিপিন্স সরকার বাংলাদেশ সরকারকে বুঝিয়ে দিলেও বাকি ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার ফেরত পাওয়া যায়নি।

রিজার্ভ চুরির তিন বছর পর ২০১৯ সালে ওই অর্থ উদ্ধারের আশায় নিউইয়র্কের ম্যানহাটন সাদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে একটি মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই মামলা খারিজে আবেদন করে আরসিবিসি। ২০২২ সালের এপ্রিলে নিউইয়র্কের আদালতে আরসিবিসির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের মামলাটি খারিজ হয়ে যায়। রায়ে বলা হয়, ওই মামলা বিচারের ‘পর্যাপ্ত এখতিয়ার’ ওই আদালতের নেই। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে নিউইয়র্কের ‘এখতিয়ারভুক্ত’ আদালতে মামলা করা হয় বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল।