ঢাকা শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬

ফ্রান্স-ইংল্যান্ড

সেমিফাইনালের ক্ষত ভুলে তৃতীয় হওয়ার লড়াই

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ১৭, ২০২৬, ০২:২৮ এএম

বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পর ফুটবল ইতিহাসের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড এখন মুখোমুখি হচ্ছে সান্ত¡নার ব্রোঞ্জ মেডেল পাওয়ার লড়াইয়ে। সেমিফাইনালে স্পেনের টিকিটাকা ফুটবলের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে হট ফেভারিট ফ্রান্স। অন্যদিকে ম্যাচের শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে হৃদয় ভেঙেছে থ্রি-লায়ন্সদের। শিরোপার প্রধান দৌড় থেকে ছিটকে গেলেও জয় দিয়ে বিশ^কাপ শেষ করার সুযোগ হাতছাড়া করতে চায় না কেউই। ফ্লোরিডার মিয়ামি গার্ডেনসের ঐতিহ্যবাহী হার্ড রক স্টেডিয়ামে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী রোববার ভোর ৩টায়। 

মাঠের ফুটবলে এই দুই প্রতিবেশীর বৈরিতা শত বছরের পুরোনো। পরিসংখ্যানের খাতা উল্টালে দেখা যায়, এটি হতে যাচ্ছে দুই দলের ৩৩তম দ্বৈরথ। এখন পর্যন্ত খেলা ৩২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে জয়ের খতিয়ানে ফরাসিদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে থ্রি-লায়ন্সরাই। ১৭টি ম্যাচে শেষ হাসি হেসেছে ইংল্যান্ড, বিপরীতে ফ্রান্স জিতেছে ১০টি ম্যাচ এবং বাকি ৫টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। তবে ইংলিশদের এই আধিপত্যের বড় অংশই ছিল ফুটবলের শুরুর দিনগুলোতেÑ ১৯২৩ থেকে ১৯৪৯ সালের মধ্যে প্রথম ১১টি ম্যাচের ১০টিতেই জিতেছে তারা। আধুনিক ফুটবলে এসে দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে দিয়েছে ফরাসিরা। প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে গত চার দশক ধরে ফ্রান্সকে হারাতে পারেনি থ্রি-লায়ন্সরা। দুই দলের শেষ ১৩টি দেখায় ইংলিশরা জিতেছে মাত্র ৩টি ম্যাচে, আর শেষ ৯ ম্যাচে তাদের জয় মাত্র ১টিতে এবং সবই ছিল প্রীতি ম্যাচ। সর্বশেষ ২০২২ সালের কাতার বিশ^কাপের কোয়ার্টার ফাইনালেও ইংল্যান্ডের সোনালি প্রজন্মের বিশ^জয়ের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল জিরু-এমবাপ্পেরা।  

বিশ^কাপের এই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী বা ব্রোঞ্জ মেডেলের ম্যাচেও ভাগ্য দুই দলের পক্ষে দুই মেরুতে কথা বলছে। ফ্রান্স এর আগে দুবার এই ব্রোঞ্জ মেডেলের ম্যাচে খেলে দুবারই জয়ী হয়ে মাঠ ছেড়েছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড এই মঞ্চে খেলেছে দুবারÑ ১৯৯০ সালে ইতালির কাছে ও ২০১৮ সালে বেলজিয়ামের কাছে হেরে দুবারই শূন্য হাতে টুর্নামেন্ট শেষ করেছিল তারা। তবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের এই সান্ত¡নার ম্যাচগুলো সাধারণত বেশ আক্রমণাত্মক ধাঁচের ফুটবল উপহার দিয়ে থাকে। ফুটবল বিশ্লেষক ও ডেটা মডেলগুলো এই ম্যাচে ফ্রান্সের জয়ের সম্ভাবনা ৫৭ শতাংশ এবং ইংল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনা ৪৩ শতাংশ দেখছে। 

সেমিফাইনালের আগে পর্যন্ত প্রতিপক্ষের জালে গোলবন্যা বইয়ে দেওয়া ফরাসি আক্রমণভাগকে স্প্যানিশ ডিফেন্স আটকে দিলেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও দেম্বেলেদের নিয়ে গড়া ফরাসি আক্রমণভাগ আবার নিজেদের চেনা ছন্দে ফেরার দারুণ সুযোগ পাবে। তাছাড়া বিদায়ি কোচ দিদিয়ের দেশমকে একটি সান্ত¡নার জয় দিয়ে বিদায় জানাতেও মরিয়া থাকবে লে ব্লুজরা। অন্যদিকে হারের ধকল সামলে উঠে ১৯৬৬ সালের পর বিশ^মঞ্চে নিজেদের অন্যতম সেরা অর্জন নিয়ে দেশে ফিরতে মরিয়া থাকবে থমাস তুখেলের শিষ্যরা।  
দলগত লড়াইয়ের বাইরেও এই ম্যাচে ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের এক বড় মহড়া দেখা যাবে। বর্তমানে ৮ গোল নিয়ে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে আছেন ফরাসি পোস্টারবয় কিলিয়ান এমবাপ্পে। মেসির সামনে ফাইনালের মঞ্চ থাকলেও এমবাপ্পের জন্য গোল্ডেন বুট নিজের করে নেওয়ার এটাই শেষ সুযোগ। যদি তিনি এই ম্যাচে গোল করে শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পারেন, তবে বিশ^কাপের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা দুবার গোল্ডেন বুট জয়ের অনন্য রেকর্ড গড়বেন এমবাপ্পে। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের তরুণ তুর্কি জুড বেলিংহাম এবং কাপ্তান হ্যারি কেইন ৬টি করে গোল নিয়ে এমবাপ্পের ঠিক পেছনেই ওঁৎ পেতে আছেন। সব মিলিয়ে মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে ব্রোঞ্জ মেডেল গলায় তোলার লড়াইয়ে মাঠের উত্তাপ ও রোমাঞ্চ একটুও কমবে না বলে আশা করছেন ফুটবল বিশ্লেষক ও ভক্তরা।