ঢাকা শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬

জুলাই শহিদ দিবস পালিত বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও সমাবেশ

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ১৭, ২০২৬, ০২:২৯ এএম

ঐতিহাসিক জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে গতকাল ১৬ জুলাই সারা দেশে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, সমাবেশ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারী শহিদদের স্মরণে দিনটি এবারও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালিত হয়েছে। গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে জীবন উৎসর্গকারী শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন পৃথক বাণী দিয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসে এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন।

রংপুরের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের স্মরণে কবর জিয়ারত, দোয়া ও আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি হয়েছে। গতকাল সকাল থেকেই পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আসেন। উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা তার কবর জিয়ারত করে আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। পরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্রসংগঠন, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষও সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই দিন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আবু সাঈদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা। পরে সেখানে আলোচনা সভা হয়।

সভায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, শহিদ আবু সাঈদ শত বাধা, নির্যাতন, কাঁদুনে গ্যাস ও লাঠিপেটার মুখেও পিছিয়ে যাননি। মৃত্যুর ঝুঁকি উপেক্ষা করে তিনি গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তার আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, জুলাই আন্দোলনে প্রাণহানির ঘটনায় জড়িত প্রকৃত দায়ীদের আইনের আওতায় এনে ন্যায়ভিত্তিক বিচার নিশ্চিত করা হবে। বিচার করতে সময় লাগলেও তা হবে ন্যায়সঙ্গত ও দৃষ্টান্তমূলক।

আলোচনা সভায় আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, তার ছেলের আত্মত্যাগের লক্ষ্য ছিল সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করা এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্য এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শওকত আলী, রংপুর বিভাগের ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। সেদিন দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তাকে গুলি করার একটি ভিডিও সংবাদমাধ্যমে প্রচার হলে ছাত্র-জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এর ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। সেই দিনকে স্মরণ করে প্রতিবছর ১৬ ‘জুলাই শহিদ দিবস’ পালন করা হচ্ছে।