সোমবার, ০১ ডিসেম্বর, ২০২৫

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


স্বপ্না চক্রবর্তী

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১, ২০২৫, ০২:০৮ এএম

শীত আসার আগেই চুলা জ্বলছে না ঢাকাবাসীর

স্বপ্না চক্রবর্তী

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১, ২০২৫, ০২:০৮ এএম

ঢাকায় তীব্র গ্যাস সংকট

ঢাকায় তীব্র গ্যাস সংকট

  • তিতাস ও পেট্রোবাংলা দায় চাপাচ্ছে একে অপরের ওপর
  • অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের পাশাপাশি কমেছে আমদানিও
  • প্রতিদিনই তিতাসের অভিযোগ কেন্দ্রে জমা হাজারো অভিযোগ
  • সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পোশাক শিল্প-কারখানার মালিকরা
  • দেশের মোট গ্যাসের ১৯% ব্যবহার হওয়া শিল্প খাতেও সংকট
  • সাময়িক এ অবস্থা কেটে যাবে বলছে তিতাস
  • আমদানি কমিয়ে নতুন কূপ খনন কার্যক্রমে জোর দেওয়ার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের

নভেম্বর মাসের শেষ দিন ছিল গতকাল। প্রকৃতিতে শীতের আভাস। মধ্য অগ্রহায়ণের হিমেল বাতাস জানান দিচ্ছে, দুয়ারে দাঁড়ায়ে শীত। এ সময়ে রাজধানীবাসীকে যে ভোগান্তি পোহাতে হয় তার নাম- গ্যাস সংকট। তবে এবার শীতের আগেই- নভেম্বরের শুরু থেকেই গ্যাসের সংকটে ভুগছে নগরবাসী। আবাসিক খাতে চুলা তো জ্বলছেই না, সিএনজি ফিলিং স্টেশনসহ শিল্প খাতেও পাওয়া যাচ্ছে না চাহিদামতো গ্যাস। ফলে সব খাতের গ্রাহকদের পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ। বিষয়টি সমাধানে উদ্যোগ না নিয়ে বরং তিতাস এবং পেট্রোবাংলা দায় দিচ্ছে একে অপরকে। তিতাস বলছে- পেট্রোবাংলা থেকে চাহিদামতো গ্যাস না পাওয়ায় কমাতে হচ্ছে সরবরাহ, আর পেট্রোবাংলা বলছে দেশীয় উৎপাদনের পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিও কমে গেছে। ফলে চাইলেও পাইপলাইনে চাহিদামতো বাড়ানো যাচ্ছে না গ্যাসের সরবরাহ।

তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে রাজধানীর অধিকাংশ এলাকার বাসা-বাড়িতে জ্বলছে না চুলা। প্রতিদিনই তিতাসের অভিযোগ কেন্দ্রে আসছে হাজার হাজার অভিযোগ। গ্যাস সংকটে সবচেয়ে বেশি ভুগছেন রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর, বাসাবো, বনশ্রী, মুগদা, মগবাজার, দক্ষিণখান এবং পুরান ঢাকার বাসিন্দারা। এমনকি সংকট রয়েছে অভিজাত এলাকা ধানমন্ডি গুলশানেও। এ ছাড়া অন্যান্য এলাকায়ও আছে কম-বেশি সংকট।

রাজধানীর গ্রিন রোড এলাকার বাসিন্দা শাহানাজ আক্তার বলেন, ‘শীতের সময় চুলায় গ্যাসের চাপ কম থাকে। এতে আমরা অভ্যস্ত। কিন্তু এবার নভেম্বরের শুরু থেকেই চুলায় আগুন জ্বলছে না। গ্যাসের চাপ নেই বললেই চলে। ভোর ছয়টা থেকে কমতে থাকে, স্বাভাবিক হতে হতে বাজে রাত ১১টা। তখন আর কী কাজে লাগে গ্যাসের চুলা।’

দিনে মাত্র ৪ ঘণ্টা চুলায় গ্যাসের চাপ থাকে বলে অভিযোগ বনশ্রী এলাকার ব্যাংককর্মী ঊর্মি সরকারের। তিনি বলেন, ‘আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজনেই চাকরি করি। কিন্তু বাসায় ফিরে চুলায় গ্যাস না থাকায় বেশির ভাগ দিনই বাইরে থেকে খাবার কিনে আনতে হয়। এমনিতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, তার ওপর যদি প্রায় প্রতি বেলায় বাইরের খাবার কিনে খেতে হয় তাহলে আমাদের মতো মধ্যবিত্ত মানুষের টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে।’

একই অবস্থা শিল্পাঞ্চলগুলোতেও। তবে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পোশাক শিল্প-কারখানার মালিকদের। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘পোশাক শিল্পে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাসের সরবরাহ পাওয়া যায় না বছরের বেশির ভাগ সময়। শীতে তা আরও প্রকট আকার ধারণ করে। পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় অনেক কারখানা তাদের পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছে না। গ্যাস না থাকায় শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে রপ্তানি এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’

বিজিএমইএ সভাপতি আরও বলেন, ‘এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখা এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সুরক্ষিত রাখতে পোশাক শিল্পের পথ সুগম করা জরুরি।’ এ ক্ষেত্রে গ্যাসের সুষ্ঠু বণ্টনের লক্ষ্যে ৫টি সুপারিশ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সুরক্ষার জন্য গ্যাসের নতুন সংযোগ প্রদানের ক্ষেত্রে শ্রমঘন পোশাক ও বস্ত্রশিল্পকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, তিতাস গ্যাসের নতুন সংযোগ অনুমোদনের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় কর্তৃক যাচাই-বাছাই কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। যাতে কারখানাগুলো সময়মতো উৎপাদন শুরু করতে পারে। লোড বৃদ্ধির প্রয়োজন নেই, শুধু সরঞ্জাম পরিবর্তন, পরিমার্জন বা স্থানান্তরের জন্য আবেদনকারীদের একটি আলাদা তালিকা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত প্রদান করা, কম লোড বৃদ্ধির আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সংযোগ প্রদান করতে হবে। যাতে যা ছোট ও মাঝারি শিল্পগুলোকে দ্রুত উৎপাদনে যেতে সাহায্য করবে, ধামরাই ও মানিকগঞ্জের মতো যেসব এলাকার গ্যাস পাইপলাইনের শেষ প্রান্তে অবস্থিত কারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপ কমে যায়, সেখানে অন্তত ৩ থেকে ৪ পিএসআই চাপ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

তবে সরকার এ ব্যাপারে আন্তরিক উল্লেখ করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বেসরকারি উদ্যোগে সর্ববৃহৎ কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী খাত পোশাক শিল্পকে সরকার অগ্রাধিকার দিয়েছে। এ খাতের সমস্যাগুলো নিরসনে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। আমাদের বেশির ভাগ কারখানায় গ্যাসের চাপ পাওয়া যাচ্ছে না চাহিদামাফিক। আগের বছরগুলোয় যেমনটি দেখা যেত শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ কমত, কিন্তু এবার এখনই সংকট তৈরি হয়েছে। যদি এ রকমটি চলতে থাকে তাহলে তো গার্মেন্টস মালিকদের পথে বসে যেতে হবে। এখন টিকে থাকতে হলে বায়ারদের অর্ডার নিয়মিত সরবরাহ করতে না পারি তাহলে বিরাট অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়তে হবে। তাই আমরা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে খাতটিকে সচল রাখার চেষ্টা করছি। কিন্তু শীতে পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ কম থাকে। দেশীয় উৎপাদনও কমছে দিন দিন। আমদানিতে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে। সেগুলো আমরা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি। আশা করছি, ডিসেম্বরে সংকট এত তীব্র থাকবে না।’

শিল্পে গ্যাস সংকট নিয়ে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ গত শনিবার এক সভায় বলেন, ‘বাংলাদেশের শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি উৎপাদন, বিনিয়োগ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের জিডিপিতে শিল্প খাত ৩৫ শতাংশের বেশি অবদান রাখে। তবে অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, দেশের মোট গ্যাসের ১৯ শতাংশের ব্যবহারকারী এই বিশাল খাতটি বর্তমানে এক গভীর অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৩-২৪ সালে গ্যাসের দাম রেকর্ড ১৭৮ শতাংশ বাড়ানোর পর, সম্প্রতি শিল্প খাতে আরও ৩৩ শতাংশ বাড়ানোর ফলে টেক্সটাইল, স্টিল ও সারের মতো সেক্টরগুলোর উৎপাদন ৩০-৫০ শতাংশ কমে গেছে। বিশেষ করে এসএমই খাতের কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে। এ অবস্থায় শিল্প খাতে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা কেবল নীতিগত অগ্রাধিকারই নয়, বরং টেকসই শিল্পায়নের পূর্বশর্ত।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান এ অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে মাস্টারপ্ল্যান থাকলেও সহায়ক নীতিমালার অনুপস্থিতির বিষয়টি শিল্প খাতকে বেশ ভোগাচ্ছে। শিল্পে জ্বালানি সক্ষমতার বিষয়ে যেমন সুস্পষ্ট সংজ্ঞা নেই, তেমনিভাবে সব শিল্প খাতে জ্বালানি সক্ষমতার প্রণোদনাপ্রাপ্তিতেও বৈসাদৃশ্য রয়েছে।’

এদিকে গত কছেশ দিন ধরে রাজধানীর সিএনজি স্টেশনগুলোয় দেখা দিয়েছে ব্যাপক গ্যাস সংকট। গ্যাসের চাপ না থাকায় সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে যানবাহনগুলোকে। গাড়িচালক ও মালিকরা জানান, গত সোমবার থেকে চাহিদামতো গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টার তাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোতে। রাজধানীর মগবাজারে আনুদীপ সিএনজি স্টেশনে অপেক্ষারত কারচালক সোহেল মিয়া বলেন, ‘সিরিয়াল দিয়েছি তিন ঘণ্টা আগে। এখনো গ্যাস পাইনি। গ্যাস থাকলেও প্রেশার নেই। ৬০০ টাকার গ্যাস নিয়ে গাড়ি চালাচ্ছি মাত্র ৩০ কিলোমিটার। এভাবে কীভাবে পোষাবে? একটু গ্যাস কোথায় পাই তার জন্য এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে ঘুরতেছি।’

সিএনজি স্টেশনগুলো বলছে, গত রোববার থেকেই সংকট দেখা দিয়েছে। সোমবার রাতে কিছু সময়ের জন্য গ্যাস আসলেও মঙ্গলবার গ্যাস পাওয়া যায়নি। গ্যাসের বিষয়ে কখনো কোনো নোটিশও দেওয়া হয় না। এটা তাদের ইচ্ছামতো। যখন চলে যায়, আমরা বন্ধ রাখি। আবার যখন আসে আমরা চালু করি।

এই সংকটের কারণ জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘দেশে গ্যাসের মোট চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। একসময় সর্বোচ্চ ৩২০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ করা হয়েছে। এখন দিনে সরবরাহ করা হচ্ছে ২৭৫ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে দিনে ৪৮ কোটি ঘনফুট। দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে দিনে ৮৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের কথা। কিন্তু টার্মিনালেও মাঝে মাঝে সমস্যা দেখা দেয়, তাই এ সংকট। তবে তা সাময়িক। সরকার তা কাটিয়ে উঠবে আশা করছি।’

এই সংকট মোকাবিলায় আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় কূপগুলো খননের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম. তামিম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘এখন কাতারের এলএনজির দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও চীন নিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংকটের কারণে কাতার থেকে এলএনজি পাওয়াটা বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। বর্তমান সংকট থেকে শিক্ষা নিয়ে এসবের বাইরে আমদানির দিকে না তাকিয়ে পেট্রোবাংলাকে দেশীয় গ্যাস উৎপাদানের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।’

তবে সরকারের পক্ষ থেকে বারবারই বলা হচ্ছে নিকট ভবিষ্যতে দেশে গ্যাসের সংকট অনেকটাই কমবে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্রের ৩ নম্বর কূপের সংস্কারকাজ শুরু হয়। সেখান থেকে ১০ বছরে ২৫ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছিল পেট্রোবাংলা। এরই ধারাবাহিকতায় একই ক্ষেত্রের ৫নং কূপেও শুরু হয়েছে ওয়ার্কওভার কার্যক্রম। এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজটি শেষ হবে বলে দাবি করা হচ্ছে। আর এটি সফলভাবে শেষ হলে বর্তমান উৎপাদনের অতিরিক্ত ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে। এর বাইরেও অন্তর্বর্তী সরকার দেশীয় গ্যাসের চাহিদা মেটাতে অনুসন্ধান ও উন্নয়নকাজ চালাচ্ছে ১০০টি কূপে। এগুলোর মধ্যে বাহুবল ছাড়াও ৩১টিতে ওয়ার্কওভার (সংস্কার) কার্যক্রম চালানো হবে। ফলে আগামী বছরের শুরুতেই দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়বে বলে দাবি জ¦ালানি বিভাগের।

চলতি বছরের ৮ সেপ্টেম্বর রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্রের ৩ নম্বর কূপের সংস্কার (ওয়ার্কওভার) কার্যক্রম চালানোর পর নতুন গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়। কূপটিতে প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রবাহ ধরা পড়ে বলে তখন জানায় সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড (এসজিএফএল)। এসজিএফএল ও বাপেক্সের কারিগরি বিষয়ে দক্ষ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ওই কূপের সংস্কারকাজ (ওয়ার্কওভার) সফলভাবে সম্পন্ন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ৫নং কূপেও শুরু হয়েছে ওয়ার্কওভার কার্যক্রম। আর এখান থেকেও গ্যাস মিলবে অন্তত ১৫ মিলিয়ন গ্যাস। এই কেন্দ্র ছাড়াও সংস্থাটির আওতায় সিলেট-১০এক্স, সিলেট-১১, ডুপিটিলা-১, কৈলাসটিলা-৯, রশিদপুর-১১ ও রশিদপুর-১৩ নম্বর কূপ খনন এবং কৈলাসটিলা-৯ ও বিয়ানীবাজার-২ নম্বর কূপের ওয়ার্কওভার (সংস্কার) কাজ চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ কর্পোরেশন (পেট্রোবাংলা)।

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশে বাড়ছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির চাহিদা। বিগত সরকারের আমলে চাহিদা পূরণে অনেকটাই আমদানিনির্ভর হয়ে পড়ে খাতটি। সাম্প্রতিক সময়ে চাহিদা ক্রমবর্ধমান থাকায় এখনই আমদানি বন্ধ না করতে পারলেও দেশের অভ্যন্তরে থাকা কূপগুলো খনন ও অনুসন্ধানে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে অন্তবর্তী সরকার। ২০২৫ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময়ে দেশে অন্তত ১০০টি কূপ অনুসন্ধান, উন্নয়ন ও ওয়ার্কওভারের বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। এ সময়ের মধ্যেই প্রকল্পগুলোর কাজ সমাধানেরও তাগিদ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

সাম্প্রতিক সময়ের গ্যাস সংকট নিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনেই গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রমে এই জোরদার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় গত বছরের শেষেই। তার ফলাফলও আমরা পাচ্ছি। তবুও চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস না মেলায় আমদানি অব্যাহত রাখতে হচ্ছে। তবে বাকি কূপগুলোর ওয়ার্কওভার কার্যক্রম শুরু এবং শেষ হলে দেশের জ্বালানি খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে আমরা আশা করছি।’

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!