সোমবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০২৫

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


স্বপ্না চক্রবর্তী

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৩, ২০২৫, ০৩:০৬ এএম

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি

কয়লার দামেও কালো হাত!

স্বপ্না চক্রবর্তী

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৩, ২০২৫, ০৩:০৬ এএম

কয়লার দামেও কালো হাত!

স্ক্রাপ টেন্ডার দুর্নীতির পর এবার আলোচনায় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কয়লার দাম নিয়ে লুকোচুরির তথ্য। বছরের ব্যবধানে কেন্দ্রটি ১৩৬ কোটি টাকা মুনাফা করলেও সরকারের কোষাগারে জমা হয়নি একটি টাকাও। এতে করে বছরের পর বছর বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। ২০২২ সালে প্রতি মেট্রিক টন ১৩০ থেকে ১৭৬ ডলারে কয়লা বিক্রি করে ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যথাক্রমে লাভ করে ৪ হাজার ৪৪২ ও ৫ হাজার আটশ ১০ কোটি ৩ লাখ টাকা। অভিযোগ রয়েছে, এই মুনাফার সিকিভাগও জমা হয়নি সরকারের কোষাগারে। বরং কেন্দ্রটির কর্মকর্তাদের পকেট ভারি হচ্ছে দিন দিন।

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির দুই বছরের ক্রয়-বিক্রয়ের হিসাবের তালিকা এসেছে রূপালী বাংলাদেশের হাতে। তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যায়, কয়লার মূল্য ১৩০ থেকে ১৭৬ ডলার নির্ধারণ করায় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি কর্তৃপক্ষের মুনাফা হয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে নির্ধারিত মূল্যে কয়লা কিনতে গিয়ে ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) ক্ষতি হয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ২৩ কোটি ২২ লাখ ও ১ হাজার ১৯০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এই ক্ষতির বিপরীতে সরকার কোনো ভর্তুকি না দেওয়ায় বিপাকে পড়েছে বিপিডিবি।

বড়পুকুরিয়া দেশের একমাত্র কয়লা খনি, যেখান থেকে কয়লা উত্তোলন হচ্ছে। উৎপাদন ও অন্যান্য খরচ বিবেচনায় কয়লার মূল্য নির্ধারণ করা হয়। বর্তমানে টনপ্রতি কয়লার দাম ১৭৬ মার্কিন ডলার। এই দাম ধরে কোম্পানির বার্ষিক নিরীক্ষা প্রতিবেদন বোর্ড সভায় উপস্থাপনের পর তা অনুমোদন করা হয়।

এই দরে কয়লা কিনলে সরকারের লাভের চাইতে ক্ষতিই বেশি হবে উল্লেখ করে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল আলম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমাদের দেশের কয়লা কেন আমরা বেশি দামে কিনব? ১৭৬ মার্কিন ডলার হারে কয়লা কিনলে খনি কর্তৃপক্ষ লাভবান হবে তাতে সরকারের কি? সরকার তো এক টাকাও পাচ্ছে না। বরং বিপিডিবিকে লস দিতে হচ্ছে বছরের পর বছর। দেশি কয়লা কিনতে এই বাড়তি দাম কোনোভাবে কাম্য নয়।’

বিপিডিবির তথ্য মতে, তাদের আওতাধীন কয়লাভিত্তিক অন্য বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো যেমন বিসিপিসিএল (বাংলাদেশ-চীন পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড) পায়রা ১ হাজার ৪৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির জন্য কয়লা কিনতে খরচ হচ্ছে ৭৬ দশমিক ১৬ কোটি মার্কিন ডলার, অথচ বড়পুকুরিয়া থেকে কিনতে গেলে খরচ হতো ৯২ দশমিক ৯২ কোটি মার্কিন ডলার। একইভাবে বিআইএফপিসিএল (বাংলাদেশ ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড) রামপাল ১ হাজার ২৩৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রটির জন্য কয়লা কিনতে খরচ হয় ৭৩ দশমিক ৮৪ কোটি মার্কিন ডলার, যা বড়পুকুরিয়া থেকে কিনতে গেলে ব্যয় হতো ৯০ দশমিক ৮ কোটি মার্কিন ডলার। এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট বাঁশখালী ১ হাজার ২২৪ মেগাওয়াট কেন্দ্রটির জন্য প্রতি টন কয়লা কিনতে বিপিডিবির খরচ হচ্ছে ৭১ দশমিক ৪৯ কোটি মার্কিন ডলার। কিন্তু বড়পুকুরিয়া থেকে কিনলে খরচ হতো ৮৭ দশমিক ২২ কোটি মার্কিন ডলার।

এ বিষয়ে বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘এটি নিয়ে আমরা কয়েক দফায় তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা কয়লার দায় ১৭৬ মার্কিন ডলার হিসেবে পূর্বনির্ধারিত দাম অনুযায়ী এখনো ধরছে। কিন্তু এখন আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ওঠানামা করছে। এতে করে আমাদের বিরাট পরিমাণ ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে আমাদের দেনদরবার চলছে। আশা করছি একটা সহজ সমাধান আসবে।’

তবে বড়পুকুরিয়ার কর্মকর্তাদের ভাষ্য, কয়লার মূল্য নির্ধারণে সরকারের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই মূল্য নির্ধারণ করা হয়। এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। বর্তমানে মূল্য পুনর্নির্ধারণে একটি কমিটি কাজ করছে, তবে তারা এখনো কোনো প্রতিবেদন দেয়নি।

যদিও এসব কয়লা পরিবহনের জন্য জাহাজ ভাড়া বাবদ খরচ হয়েছে ১০ দশমিক ৯২ থেকে ২১ দশমিক ৯৪ কোটি টাকা। তবুও দেশের অভ্যন্তরীণ খনির কয়লা কেনার চাইতে দাম কম পড়ে উল্লেখ করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিপিডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বড়পুকুরিয়ার আগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুল ইসলামের সময় থেকেই এই বৈষম্য শুরু হয়, যা এখনো চলমান। তার সময়ে স্ক্রাপ দুর্নীতি আলোচনায় এলেও কয়লার দামের বিষয়ে কেউ কোনো কথা বলার সাহস পায়নি। কিন্তু এখন আমাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। দেশীয় খনি থেকে যদি বাড়তি দামে কয়লা কিনতে হয় তা হলে আমাদের যাওয়ার জায়গা কোথায়?’

নীতিমালায় আছে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির ব্যয়ের কেবল এমপিএমএন্ডপি ঠিকাদারের (কয়লা উত্তোলনকারী) বিল প্রতি টনে ৪৯ দশমিক ৮২ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধযোগ্য। অন্যান্য ব্যয়, বেতন ভাতা, অবচয়, রয়্যালিটি, জমি অধিগ্রহণ, মুনাফা, আয়করসহ যাবতীয় ব্যয় টাকায় সম্পাদিত হওয়ায় কয়লা উত্তোলনকারীর ব্যয় ছাড়া অন্যান্য ব্যয় ডলারের পরিবর্তে টাকায় নির্ধারিত হওয়া যুক্তিযুক্ত।

এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘বিপিডিবির কাছ থেকে কয়লার সম্পূর্ণ মূল্য ডলারে পরিশোধের বিষয়টি নির্ধারিত হয়। সম্প্রতি ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার ৮৪ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১২২ টাকা হওয়ায় শুধু বিনিময় হারের কারণে কোম্পানির স্থানীয় মুদ্রার ব্যয়ের বিপরীতে ৪৫ দশমিক ২৪ শতাংশ মুনাফা বৃদ্ধি হয়েছে। যার সিকিভাগও সরকারি কোষাগারে জমা হয়নি।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে প্রতি টন কয়লার মূল্য ১৭৬ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করায় ২০২২-২৩, ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কোল মাইনিং কোম্পানির বার্ষিক হিসাব অনুযায়ী মুনাফা হয় যথাক্রমে ৪শ ৪৪ কোটি, ৫শ ৮১ কোটি ও ৮শ ৫১ কোটি টাকা। এই মুনাফার ১০ শতাংশ কোল মাইনি কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টিত হওয়ায় প্রতিজনের ভাগে গিয়েছে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা। কিন্তু সরকার কোনোভাবেই উপকৃত হচ্ছে না।

তবে খনি কর্তৃপক্ষ বলছে ভিন্ন কথা। তাদের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক বাজারদর অনুযায়ী অডিট করে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে এরই মধ্যে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং লিমিটেডের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন জ্বালানি উপদেষ্টা, জ্বালানি বিভাগের সচিব, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি দিয়েছে।

চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, কয়লা আমদানি বাড়াতে বড়পুকুরিয়া খনি বন্ধের ষড়যন্ত্র চলছে। কোম্পানির একমাত্র ক্রেতা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। কিন্তু বোর্ড চেয়ারম্যানসহ তিন সদস্যই বিদ্যুৎ বিভাগের, ফলে স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। তারা জ্বালানি বিভাগের আওতাধীন এই কোম্পানির স্বার্থ উপেক্ষা করছেন। এছাড়া চিঠিতে বলা হয়েছে, জ্বালানি বিভাগের নির্দেশনায় গত ১৫ বছর ধরে লাভজনকভাবে চলা কোম্পানিটি এখন কয়লার মূল্য কমানোর চেষ্টায় ঝুঁঁকিতে পড়েছে। পুরো উৎপাদিত কয়লা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে সরবরাহ করা হলেও উন্মুক্ত বাজারে বিক্রির অনুমোদন মিলছে না।

বড়পুকুরিয়ার একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকার যদি মূল্য কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা অফিসিয়াল আদেশের মাধ্যমে হতে হবে; কিন্তু কোনো লিখিত আদেশ ছাড়াই বোর্ড চেয়ারম্যান আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যে (১৭৬ ডলারের নিচে) অডিট করে এজিএম করতে বলছেন, যা আইনবিরুদ্ধ। বোর্ডের এক সদস্য জানান, সর্বশেষ বোর্ড সভায় চেয়ারম্যান দ্রুত মূল্য পুনর্নির্ধারণ করে আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুতের পর তা উপস্থাপনের নির্দেশ দেন। কিন্তু বিসিএমসিএলের উপমহাব্যবস্থাপক (হিসাব) জানান, ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এজিএম করতে হলে কমপক্ষে ২১ দিন আগে নোটিশ ও ১৪ দিন আগে নিরীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হয়। না পারলে হাইকোর্টের অনুমোদন নিতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালে একনেক বৈঠকে বড়পুকুরিয়ার কয়লার মূল্য নির্ধারণ হয় ৬০ ডলার। পরবর্তী সময়ে তা ধাপে ধাপে ৭০, ৮৪, ১০৫, ১৩০ এবং সর্বশেষ ২০২২ সালে ১৭৬ ডলারে উন্নীত হয়। পিডিবি বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে (বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়ার) মূল্য কমার অজুহাতে দাম ৯০ ডলারে নামাতে চায়, যা বাস্তবায়ন হলে কয়লাখনি কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে উল্লেখ করে খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবু তালেব ফরাজী রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমরা শুধু মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুসরণ করছি। মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে প্রতিটন কয়লার দাম ১৭৬ মার্কিন ডলার করে। এই দামই আদায় করছি।’

কয়লা বিক্রি করে লাভ এবং সরকারি কোষাগারে টাকা জমা না দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবু তালেব ফরাজী কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অন্য কেন্দ্রগুলোর কয়লার দাম থেকে আপনাদের কয়লার দাম অনেক বেশিÑ এর কারণ কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের উৎপাদন খরচ বেশি। মাটির অনেক নিচ থেকে উৎপাদনের পাশাপাশি বিদেশ থেকে যন্ত্রপাতি আনা এবং প্রচুর পানি সেচ করতে হয়। আমদানির চাইতে আমাদের উৎপাদন খরচ অনেক বেশি। তাই দামও বেশি। ২০২২ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে সমমানের কয়লার দাম ছিল ৪০০ ডলারের বেশি। তবু সরকার নির্ধারিত ১৭৬ ডলারে বিক্রি করেছে বিসিএমসিএল। বর্তমানে ২০২১-২০২৭ মেয়াদি চুক্তির আওতায় পিডিবির কাছে ১১৭৮ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। অথচ বাইরে প্রচুর চাহিদা থাকা সত্ত্বেও বিক্রির অনুমোদন মিলছে না, ফলে খনিটি আর্থিক সংকটে পড়েছে। আমরা এর সহজ সমাধান চাই।’

প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার দাম বাড়ার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে আমদানি করা কয়লার ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জানুয়ারি ২০২২ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত সময়ে বিভিন্ন গ্রেডের আমদানিকৃত কয়লার প্রতি টনের দাম ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এতে করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে জ্বালানি খাতে চাপ তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রধান কয়লা সূচক বা গ্রেডগুলোর মধ্যে রয়েছে নিউক্যাসল ৬৩২২, আইসিআই ৬৫০০, এইচবিএ ৬৩২২ এবং আরবি ৬৩২২। ২০২৪ সালে এসব গ্রেডের গড় দাম ছিল যথাক্রমে প্রায় ১০০ দশমিক ৬৮ ডলার (নিউক্যাসল ৬৩২২), ১১৬ দশমিক ৫৮ ডলার (এইচবিএ ৬৩২২), ১২১ দশমিক ৭৫ ডলার (আইসিআই ৬৫০০) এবং ১৩২ দশমিক ৬৮ ডলার (আরবিজ ৬৩২২) প্রতি টন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার মূল্য বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ডলার সংকটের কারণে আমদানি ব্যয় এক সঙ্গে বেড়ে যাওয়াই এ পরিস্থিতির মূল কারণ। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ের ওপর, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়েও চাপ তৈরি করতে পারে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে কয়লানির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাওয়া না হলে এমন ব্যয়চাপ আরও বাড়বে। একই সঙ্গে দক্ষ জ্বালানি ব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে আমদানির সময় নির্ধারণ করাও জরুরি।

যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দেশের একমাত্র খনিটির সঙ্গে একমাত্র ক্রেতা বিপিডিবির সব ধরনের সমস্যার অবসান হবে উল্লেখ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দুই পক্ষের প্রতিনিধি নিয়ে আমরা একটা কমিটি করে দিয়েছি। যারা এই দামের সমস্যার সমাধান করবে। দেশের স্বার্থে যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এক্ষেত্রে। কয়লাখনিও যাতে রক্ষা পায় আবার বিপিডিবিও যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তার ব্যবস্থাই আমরা করছি।’

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!