জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের দিনলিপিতে যুক্ত হতে যাচ্ছে বড় এক পরিবর্তনের অধ্যায়। শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়া এবং কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে আসক্তি তৈরির অভিযোগে বর্তমানে আইনি মারপ্যাঁচে পড়েছে মেটা। অভিযোগ উঠেছে, মেটা তাদের অ্যাপগুলোকে এমনভাবে সাজিয়েছে যাতে কিশোররা দীর্ঘক্ষণ আসক্ত হয়ে থাকে। এ ছাড়া শিশুদের যৌন শোষণসহ নানা ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে প্রতিষ্ঠানটি যথেষ্ট তৎপর ছিল না বলেও দাবি করা হয়েছে। আদালতের রায়ে যদি এই অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে অ্যালগরিদম পরিবর্তন, বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক করা কিংবা আসক্তি বাড়ায় এমন কিছু ফিচার বন্ধ করার নির্দেশ আসতে পারে। ইতোমধ্যেই মামলার প্রথম ধাপে জুরি বোর্ড মেটাকে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার জরিমানা করার নির্দেশ দিয়েছে। বর্তমানে চলমান পরবর্তী ধাপে অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ প্রায় ৩৭০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে। অবশ্য মেটা এই অভিযোগগুলোকে পুরোপুরি বাস্তবসম্মত বলে মানতে নারাজ। তাদের দাবি, অভিযোগগুলো অতিরঞ্জিত এবং অনেক প্রযুক্তিগত পরিবর্তন বাস্তবে সম্ভব নয়। তাদের মতে, শুধু একটি প্ল্যাটফর্মকে দায়ী করে সমস্যার সমাধান হবে না, কারণ কিশোররা প্রতিদিন অসংখ্য অ্যাপ ব্যবহার করে। এই আইনি লড়াই কেবল একটি অঙ্গরাজ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪০টির বেশি অঙ্গরাজ্য এবং ১ হাজার ৩০০টি স্কুল জেলা মেটার বিরুদ্ধে একই ধরনের অবস্থানে রয়েছে। ফলে এই মামলার রায় ভবিষ্যতে গোটা প্রযুক্তি শিল্পের জন্য একটি নতুন মানদ- বা ‘দৃষ্টান্ত’ হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, নিউ মেক্সিকোর আদালত যদি বয়স যাচাই ব্যবস্থা কিংবা ‘অটোপ্লে’ এবং ‘অনন্ত স্ক্রলিং’-এর মতো আসক্তি সৃষ্টিকারী ফিচারগুলো বন্ধের নির্দেশ দেয়, তবে তার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক প্রযুক্তি বাজারেও। কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই বিবর্তন এখন সময়ের দাবি কি না, তা এই মামলার রায় থেকেই পরিষ্কার হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন