ঢাকা রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তায় স্ন্যাপচ্যাটের নতুন উদ্যোগ

ইনফোটেক ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২৬, ০২:১৩ এএম

কিশোর-কিশোরীদের নিরাপদ ডিজিটাল অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম স্ন্যাপচ্যাট নতুন গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা সুবিধা চালু করেছে। বিশেষ করে ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সি ব্যবহারকারীদের জন্য প্ল্যাটফর্মটি আরও নিয়ন্ত্রিত ও সুরক্ষিত পরিবেশ তৈরির লক্ষ্য নিয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় এই বয়সসীমার ব্যবহারকারীদের প্রোফাইল স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যক্তিগত (প্রাইভেট) থাকবে। ফলে অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের ঝুঁকি কমবে এবং তাদের পোস্ট বা কার্যক্রম অনাকাক্সিক্ষতভাবে সবার কাছে পৌঁছাবে না। এ ছাড়া স্টোরি ও স্পটলাইটে শেয়ার করা কনটেন্ট এখন কেবল পারস্পরিক বন্ধুদের জন্য দৃশ্যমান হবে।

অর্থাৎ, যেসব ব্যবহারকারী একে অপরকে বন্ধু হিসেবে যুক্ত করেছেন, তারাই এসব পোস্ট দেখতে পারবেন। এর মাধ্যমে অচেনা মানুষের কাছে ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি পৌঁছে যাওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। স্পটলাইট ফিচারেও আনা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। আগে কিশোর ব্যবহারকারীরা প্রকাশ্যে কনটেন্ট শেয়ার করতে পারলেও এখন তাদের পোস্ট সীমিত দর্শকের মধ্যেই থাকবে। পাশাপাশি জনপ্রিয়তা বা অতিরিক্ত সামাজিক চাপ তৈরি করতে পারে এমন কিছু এনগেজমেন্ট সূচকও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্ন্যাপচ্যাট জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য শুধু গোপনীয়তা রক্ষা নয়, বরং কিশোরদের মানসিক সুস্থতার দিকেও নজর দেওয়া।

তাই অপরিচিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট বা সরাসরি বার্তা পাঠানোর ক্ষেত্রেও বিভিন্ন বিধিনিষেধ বজায় রাখা হয়েছে। কোনো ব্যবহারকারী পরিচিত নেটওয়ার্কের বাইরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে অ্যাপটি সতর্কবার্তাও দেখায়। অভিভাবকদের জন্যও প্ল্যাটফর্মটি ‘ফ্যামিলি সেন্টার’ সুবিধা আরও উন্নত করেছে। এর মাধ্যমে তারা সন্তানরা অ্যাপে কত সময় ব্যয় করছে বা স্টোরি ও স্পটলাইটের মতো ফিচার কীভাবে ব্যবহার করছে সে বিষয়ে ধারণা পাবেন। তবে ব্যক্তিগত বার্তা বা কথোপকথনের গোপনীয়তা অক্ষুণœ থাকবে।

অন্যদিকে, ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সি ব্যবহারকারীদের জন্য কিছুটা বেশি স্বাধীনতা রাখা হলেও তাদের কনটেন্টও মূলত বন্ধু, অনুসারী এবং পারস্পরিক সংযোগ থাকা ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

বিশ্বব্যাপী শিশু ও কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় স্ন্যাপচ্যাটের এই পদক্ষেপকে প্রযুক্তি খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে আরও নিরাপদ ও দায়িত্বশীল করে তুলতে এমন পরিবর্তন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকতে পারে।