তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ব্যাপক বিস্তারের মাধ্যমে বাংলাদেশ ২০২৬ সালে এক নতুন অর্থনৈতিক যুগে পদার্পণ করেছে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগে দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো ও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে।
ডিজিটাল অবকাঠামো ও ৫জি সংযোগ
সরকার দেশের ৯০ শতাংশ এলাকাকে ৫জি (৫এ) কভারেজের আওতায় আনার একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
একই সঙ্গে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য ১০০ এমবিপিএস ব্রডব্যান্ড গতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘ন্যাশনাল ফাইবার ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম এগিয়ে চলছে, যা ডিজিটাল সেবাকে আরও গতিশীল করবে।
ফ্রিল্যান্সিং ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি
২০২৬ সালে ফ্রিল্যান্সিং পেশাটি জাতীয় অর্থনীতির একটি মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। প্রযুক্তি খাতে প্রতি বছর ২ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। ফ্রিল্যান্সারদের জন্য
সুখবর হলো, তাদের অর্জিত আয়ের ওপর কর অব্যাহতির প্রস্তাব এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়কে সম্পূর্ণ আয়কর মুক্ত রাখার পরিকল্পনা এই পেশার প্রতি তরুণ প্রজন্মকে আরও উৎসাহিত করছে।
দক্ষ জনশক্তি ও শিল্প খাতের সমন্বয়
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ‘ফিনিক্স সামিট ২০২৬’-এ প্রযুক্তি খাতের সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। সেখানে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, প্রযুক্তি খাতে ব্যাপক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই সংকট মোকাবিলায় সরকার এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে শিক্ষা কারিকুলাম ও প্রশিক্ষণ মডিউল ঢেলে সাজানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম ও কর সুবিধা
নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে ৫০০ কোটি টাকার একটি ‘স্টার্টআপ ফান্ড’ প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া নিবন্ধিত স্টার্টআপগুলোর জন্য ২০৩৫ সাল পর্যন্ত ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি এবং শূন্য শতাংশ টার্নওভার ট্যাক্সের মতো বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে, যা নতুন উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি শক্তিশালী ভিত প্রদান করবে।
এআই প্রযুক্তির ব্যবহার
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের প্রায়োগিক ব্যবহারে বাংলাদেশ নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। বিশেষ করে কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা ও সরকারি প্রশাসনিক কাজে এআই ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, কেবল বিদেশি মডেলের ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় পর্যায়ে এআই প্রযুক্তির দক্ষ ব্যবহারকারী ও জনশক্তি তৈরির দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের এই ক্রমবর্ধমান ধারা অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বৈশ্বিক আইটি বাজারে একটি শক্তিশালী এবং নির্ভরযোগ্য হাব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে।
লেখক : কো ফাউন্ডার ই-ফ্রিলান্সিং ডট কম

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন