অনলাইনের এই বিশাল ভিড়ে জাল ওয়েবসাইট চেনার প্রথম ও প্রধান উপায় হলো এর ইউআরএল বা ওয়েব ঠিকানা খুব সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করা। প্রতারকরা সাধারণত আসল ওয়েবসাইটের নামের বানানে সামান্য হেরফের করে বিভ্রান্তি তৈরি করে। যেমন ফিফার আসল ওয়েবসাইট হলো ভরভধ.পড়স, কিন্তু জালিয়াতি চক্র এর পরিবর্তে নামের মাঝে বাড়তি অক্ষর যোগ করে বা ডোমেইনের শেষের অংশ বদলে দিয়ে ভুয়া সাইট তৈরি করছে। কোনো ওয়েবসাইটের সত্যতা নিয়ে সামান্যতম সন্দেহ হলে ‘হুইজ’ নামক ডোমেইন ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে, যা সহজেই দেখিয়ে দেয় সংশ্লিষ্ট সাইটটি আসলে কতদিন আগে তৈরি করা হয়েছে। সাধারণত একদম নতুন তৈরি হওয়া সাইটগুলোই প্রতারণার ফাঁদ হয়ে থাকে। এ ছাড়া বাণিজ্যিক বা প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইটের নিচে যে আইনি নোটিশ বা মালিকানার বিবরণ থাকার নিয়ম রয়েছে, ভুয়া সাইটগুলোতে সাধারণত সেই তথ্যের বালাই থাকে না। টিকিট কাটার ক্ষেত্রে দামের বিষয়টিও ভক্তদের জন্য একটি বড় ধাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। টিকিট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এখনো অনেক টিকিট অবিক্রীত রয়ে গেছে, তবে সেগুলোর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
চড়া দামের কারণে অনেক ভক্তই বিকল্প পথ খুঁজছেন। ফিফা সবসময় তাদের নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম থেকে টিকিট কেনার জোর তাগিদ দিলেও, বাজারে কিছু প্রতিষ্ঠিত ও ভেরিফাইড টিকিট রিসেল মার্কেটপ্লেস রয়েছে যেখান থেকে বৈধভাবে এবং রিফান্ড গ্যারান্টিসহ অনেক কম দামে টিকিট কেনা সম্ভব হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ফিফার অফিসিয়াল সাইটে যে টিকিটের দাম ৩ হাজার ডলারের ওপরে, দেশের বাইরে অনুমোদিত রিসেল সাইটগুলোতে সেই একই টিকিট ১ হাজার ডলারের নিচেই পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্মের টিকিটের দাম তুলনা করার জন্য এখন ‘গোলপাস’-এর মতো বিশেষ অ্যাপও ব্যবহার করছেন ফুটবলপ্রেমীরা।
ফিফা কেন তাদের নিজস্ব সাইটে দাম না কমিয়ে অন্য প্ল্যাটফর্মে কম দামে টিকিট বিক্রির সুযোগ দিচ্ছে, তা নিয়ে ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা বেশ আকর্ষণীয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফিফা কোনোভাবেই স্টেডিয়ামের আসন খালি রাখতে চায় না, কারণ ফাঁকা গ্যালারি মানেই বিপুল আর্থিক ক্ষতি এবং সম্প্রচারের ক্ষেত্রে দৃষ্টিকটু দেখায়। আবার নিজেদের অফিসিয়াল সাইটে টিকিটের নির্ধারিত মূল্য সরাসরি কমিয়ে দিলে ব্র্যান্ডের গাম্ভীর্য নষ্ট হয়। তাই কম জনপ্রিয় ম্যাচগুলোর টিকিট বিক্রি নিশ্চিত করতে তারা পরোক্ষভাবে প্রতিষ্ঠিত রিসেল মার্কেটপ্লেসগুলোকে বেছে নিয়েছে। তবে এই সুযোগ নিতে গিয়ে ভক্তদের চরম সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা কোনো অপরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে সরাসরি টিকিট কেনা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নিরাপদ থাকতে কেবল ফিফার অফিসিয়াল চ্যানেল কিংবা শতভাগ রিফান্ড গ্যারান্টি দেয় এমন বিশ্বস্ত ও সুপরিচিত মার্কেটপ্লেস থেকেই টিকিট সংগ্রহ করা উচিত।

