ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

শেষ সময়ে তুঙ্গে ঈদের বাজার

পছন্দের শীর্ষে বিদেশি পোশাক

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মার্চ ১৯, ২০২৬, ০৬:৫৯ এএম
ছবিঃ রূপালি বাংলাদেশ

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আরও মাত্র কয়েকদিন বাকি। এরই মধ্যে জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে জমে উঠেছে ঈদের বাজার। ২৫ রমজানের পর থেকেই বিপণিবিতানগুলোয় ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। এবার বাজারের প্রায় ৭০ শতাংশই দখল করে আছে বিদেশি ডিজাইনের নান্দনিক সব পোশাক।

বিশেষ করে ভারতীয় শাড়ি ও থ্রি-পিসের পাশাপাশি চীন, থাইল্যান্ড ও দুবাইয়ের তৈরি জুতো ও টি-শার্টের প্রতি তরুণ প্রজন্মের আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এবার নারী ক্রেতাদের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে ‘সারারা’ ও ‘গারারা’ নামের বিশেষ ডিজাইনের জামা। মানভেদে এসব পোশাক দুই হাজার ৮০০ থেকে তিন হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া এক হাজার থেকে চার হাজার টাকার মধ্যে মিলছে বিভিন্ন ধরনের থ্রি-পিস ও পাকিস্তানি জর্জেট। আর ঐতিহ্যবাহী শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে ৫০০ থেকে আট হাজার টাকার মধ্যে। রায়কালী থেকে আসা রেহনো নামে এক ক্রেতা জানান, মেয়ের আবদার মেটাতে দুই হাজার ৮০০ টাকা দিয়ে ‘সারারা’ জামা কিনেছেন তিনি।

উপজেলার সুপরিচিত বিশ^রূপা বস্ত্রালয়, শ্রী দুর্গা, সুন্দরী, বৈদ্যনাথ, জয় ফ্যাশন ও তুফান ফ্যাশনসহ বিভিন্ন শোরুম ও দোকানে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভিড় লেগেই থাকছে। এ ছাড়া সীমা গার্মেন্টস, মিলন গার্মেন্টস ও ভাইবোন গার্মেন্টসেও ক্রেতাদের সমাগম চোখে পড়ার মতো। ছেলেদের জন্য সুতি পায়জামা-পাঞ্জাবি ৮০০ থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা এবং রাজকীয় শেরওয়ানি তিন হাজার থেকে আট হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিশ^রূপা বস্ত্রালয়ের মালিক কালি চরণ আগারওয়ালা বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার ক্রেতাদের সাড়া অনেক ভালো। ২৫ রমজানের পর থেকেই কেনাবেচা পুরোদমে জমে উঠেছে।’

তৈরি পোশাকের পাশাপাশি থান ও সিট কাপড়ের বাজারেও ক্রেতাদের আনাগোনা বেড়েছে। রফিক সুতা ঘরের মালিক মো. রফিক জানান, ‘জামার সঙ্গে ম্যাচিং করে লেজ, চুমকি, বোতাম ও সুতা বিক্রির পরিমাণ এখন তুঙ্গে। আক্কেলপুরের সিট কাপড়ের বিশেষ সুনাম থাকায় স্থানীয় ক্রেতাদের অন্য শহরে যেতে হচ্ছে না।’

কলেজবাজার বণিক সমিতির সভাপতি কাজী শফিউদ্দীন ও নিচাবাজার বণিক সমিতির সভাপতি ওয়াহেদ প্রামাণিক জানান, ক্রেতাদের রুচি ও আধুনিক ফ্যাশনের কথা মাথায় রেখে ব্যবসায়ীরা আগেভাগেই পণ্যের পসরা সাজিয়েছেন। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর খুশির ঈদ রাঙাতে সব বয়সি মানুষ এখন কেনাকাটায় ব্যস্ত। বাজারের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।