× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

হাসান আরিফ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৯, ২০২৬, ০৭:১৩ এএম

নতুন পে কমিশন বাস্তবায়ন

রাজনৈতিক সরকারের ওপরই নির্ভর করছে ভবিষ্যৎ

হাসান আরিফ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৯, ২০২৬, ০৭:১৩ এএম

রাজনৈতিক সরকারের ওপরই নির্ভর করছে ভবিষ্যৎ

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন পে কমিশনের ভবিষ্যৎ এখন নানা অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত এই কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন পুরোপুরি নির্ভর করছে আসন্ন রাজনৈতিক সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর। ফলে প্রস্তাবিত পে কমিশনের সুপারিশ কবে থেকে কার্যকর হবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও নীতিনির্ধারকেরা। অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হলে সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হলেও রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই বাস্তবতায় বিষয়টি নিয়ে সরকারিভাবে এখনো চূড়ান্ত কোনো সময়সূচি বা সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ ও সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার কারণে প্রস্তাবিত পে কমিশন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত বলে মনে করছেন অনেক কর্মকর্তা। তাদের মতে, একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই এ বিষয়ে নীতিগত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত আসতে পারে। ফলে কমিশনের সুপারিশ এখন কার্যত নথিপত্রে সীমাবদ্ধ রয়েছে, যদিও সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে প্রত্যাশা ও উদ্বেগÑ দুটোই বাড়ছে। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজনৈতিক অগ্রাধিকার বদলে গেলে পে-কমিশনের বাস্তবায়ন দীর্ঘসূত্রতায় পড়তে পারে।

পে কমিশনের প্রস্তাব বাস্তবায়ন বিষয়ে সরকারের দুইজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। কিন্তু সরকার মনে করছে, পে কমিশন বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক সরকারের ওপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত। তাই বর্তমান সরকার তা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে।

দুইজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও একজন মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পে কমিশন বর্তমান সরকার বাস্তবায়ন করলেও একবারে না করে ধাপে ধাপে করার ঘোষণা দেওয়া হতো। নির্বাচিত সরকারও তা ধাপে ধাপেই বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এতে সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পড়বে না। তবে নির্বাচিত সরকার অনেক সময় জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। সে ক্ষেত্রে সরকার একবারেই বাস্তবায়নের ঘোষণা দিতে পারে। তবে অতীতে যতগুলো পে কমিশন হয়েছে, তা ধাপে ধাপেই বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলেও তারা জানান।

এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগ পে কমিশনের সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাব নিয়ে আগাম হিসাব-নিকাশ শুরু করেছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে হলে সরকারকে বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হবে। এই ব্যয় সংস্থান করার জন্য খাতভিত্তিক বাজেট কাটছাঁটের দিকেই যেতে পারে অর্থ বিভাগ। উন্নয়ন ও অনুন্নয়নÑ উভয় ধরনের ব্যয় খাত পর্যালোচনা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কিছু বরাদ্দ কমানো হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। বিশেষ করে কম জরুরি প্রকল্প, ধীরগতির উন্নয়ন কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক ব্যয়ের কিছু অংশে সাশ্রয়ের ওপর জোর দেওয়া হতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, পে কমিশনের বাস্তবায়ন নিয়ে একটি বড় প্রশ্ন ছিল, এতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ওপর অতিরিক্ত রাজস্ব আহরণের চাপ কতটা বাড়বে। তবে প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী সরকার মনে করছে, এনবিআরের ওপর খুব বড় ধরনের বাড়তি চাপ পড়বে না। কারণ, কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে সরকারি চাকরিজীবীরা যে অতিরিক্ত বেতন পাবেন, তার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আয়কর হিসেবে রাষ্ট্রের কোষাগারে ফিরে আসবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বাড়তি বেতনের প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ আয়কর হিসেবে সরকার পুনরুদ্ধার করতে পারবে। এর ফলে মোট অতিরিক্ত ব্যয়ের একটি বড় অংশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় হয়ে যাবে।

এই হিসাবে দেখা যাচ্ছে, সরকার যে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, তার প্রকৃত নিট পরিমাণ ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কমে আসবে। বাকি ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ অর্থের সংস্থান করতে হবে অন্যান্য উৎস থেকে। এ ক্ষেত্রে এনবিআরের নিয়মিত রাজস্ব আহরণ কার্যক্রম এবং বাজেট খাত পুনর্বিন্যাসের সমন্বিত কৌশল গ্রহণ করা হতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয় মনে করছে, নিয়মিত রাজস্ব প্রবৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানো গেলে এই বাড়তি ব্যয় সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, পে কমিশনের কারণে আয়কর আদায়ে একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কারণ, বেতন বৃদ্ধির ফলে করযোগ্য আয়ের পরিমাণ বাড়বে এবং করজালের আওতায় থাকা সরকারি কর্মচারীদের কাছ থেকে তুলনামূলক বেশি কর আদায় সম্ভব হবে। একই সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে কর কাঠামোর সামঞ্জস্য আনার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হতে পারে। ফলে আয়কর আদায়ে স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধির বাইরে আলাদা করে বড় কোনো অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি না-ও হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

অর্থ মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, এনবিআর-বহির্ভূত খাত থেকেও সরকারের যে আয় রয়েছে, সেগুলো পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোর মুনাফা, ফি ও সেবাশুল্ক থেকে প্রাপ্ত আয়, বিভিন্ন সরকারি সম্পদের ব্যবহার বাবদ রাজস্ব, এসব ক্ষেত্রেও সমন্বয়ের সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছে মন্ত্রণালয়। এসব উৎস থেকে সামান্য হলেও বাড়তি আয় নিশ্চিত করা গেলে পে কমিশন বাস্তবায়নের অর্থনৈতিক চাপ অনেকটাই হালকা করা যাবে।

তবে অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ মনে করছেন, কাগজে-কলমে হিসাব যতটা সহজ দেখাচ্ছে, বাস্তবে বিষয়টি ততটা সহজ না-ও হতে পারে। তাদের মতে, বাজেট কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে সংবেদনশীল। কোন খাতে কতটা কাটছাঁট করা হবে, তা নিয়ে প্রতিক্রিয়া আসতে পারে। আবার এনবিআরের রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের সক্ষমতাও নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। কর প্রশাসনের কাঠামোগত দুর্বলতা, কর ফাঁকি এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ধীরগতির মতো বিষয়গুলো রাজস্ব আহরণে প্রভাব ফেলতে পারে।

সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যেও পে কমিশন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদিকে দীর্ঘদিন ধরে বেতন বৈষম্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে নতুন বেতন কাঠামোর দাবি জোরালো হয়েছে। অন্যদিকে বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় কর্মচারীদের মধ্যে এক ধরনের হতাশাও কাজ করছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর যদি পে কমিশনের সুপারিশ পুনর্বিবেচনা করা হয়, তাহলে প্রত্যাশিত বেতন বৃদ্ধির মাত্রা কমে যেতে পারে অথবা বাস্তবায়ন আরও দেরি হতে পারে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্বশীল কয়েকজন কর্মকর্তা অনানুষ্ঠানিকভাবে বলেছেন, পে কমিশনের প্রস্তাব মূলত ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য একটি নীতিগত রূপরেখা হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব রাজনৈতিক সরকারের হলেও, কমিশনের সুপারিশে যে আর্থিক ও প্রশাসনিক যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে, তা উপেক্ষা করা সহজ হবে না। তাদের মতে, নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে যদি অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও কর্মচারীদের সামাজিক অবস্থান বিবেচনা করে, তাহলে কোনো না কোনোভাবে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।

জানা গেছে, প্রস্তাবিত পে কমিশনের ভবিষ্যৎ এখন এক ধরনের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। বাস্তবায়ন হবে কি নাÑ সে প্রশ্নের চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, কবে এবং কীভাবে বাস্তবায়ন হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী আয় ও ব্যয়ের সমন্বয় সম্ভব হলেও, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে এই কমিশনের ভাগ্য। সরকারি চাকরিজীবীরা এখন তাকিয়ে আছেন সেই সিদ্ধান্তের দিকেই, যা তাদের আর্থিক ভবিষ্যৎ এবং জীবনযাত্রার মানে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

বেতন কাঠামো : প্রস্তাবিত বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের সব গ্রেডেই উল্লেখযোগ্য হারে বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে সর্বোচ্চ পদধারীদের বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় গ্রেডসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বেতনও ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার মধ্যে উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে। মধ্যম গ্রেডে বেতন ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার মধ্যে উঠবে। অন্যদিকে নবম থেকে বিংশ গ্রেড পর্যন্ত নি¤œ ও তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২২ হাজার টাকার বেতন বাড়িয়ে সর্বনি¤œ ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ প্রায় ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। সার্বিকভাবে এই কাঠামো মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় কর্মচারীদের আর্থিক সুরক্ষা বাড়াবে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!