ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গত বৃহস্পতিবার অনেকটা বিতর্কহীনভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে নিরঙ্কুশভাবে বিজয়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) শিগগিরই সরকার গঠন করবে। নির্বাচিত নতুন সরকার অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও স্থিতিশীল পরিবেশ গঠনে সহায়ক হবে বলে মনে করেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা।
অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে তারা বলেন, বিএনপিকে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে। তারা যেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন করে এবং চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধে কঠোর অবস্থান নেয়। তাহলে সামগ্রিকভাবে দেশের উন্নয়ন হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট গত বৃহস্পতিবার সারা দেশে একযোগে সম্পন্ন হয়েছে। কোনো সহিংসতা ছাড়াই নির্বাচন শেষে গতকাল শুক্রবার ২৯৭টি আসনের নির্বাচনি ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
তবে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফল ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়েছে। ঘোষিত ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ও তার জোট পেয়েছে ২১২ আসন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১দলীয় নির্বাচনি ঐক্য পেয়েছে ৭৭ আসন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি, স্বতন্ত্র পেয়েছে ৭টি আসন।
নির্বাচন অনেকটা বিতর্কহীনভাবে সম্পন্ন হওয়া এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মতো একটি উদার মধ্যপন্থি দল নির্বাচিত হওয়ায় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে আস্থার পরিবেশ তৈরি হবে বলে মনে করছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা।
নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, কট্টর ইসলামপন্থির বদলে বিএনপির মতো একটি উদার মধ্যপন্থি দল নির্বাচনে জেতা দেশে এবং বাইরে ব্যবসায়ীসহ সবার মধ্যে ইতিবাচক বার্তা দেয়। বহির্বিশ্বে এই ফল একটি বড় ধরনের কনফিডেন্স তৈরি করবে, যা বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে খুবই জরুরি ছিল।
পারভেজ বলেন, যেনতেন নির্বাচন হলে হয়তো এক বা দেড় বছরের মধ্যে সরকারকে সংকটে পড়তে হতো। কিন্তু সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ায় মনে হচ্ছে সরকার তার পুরো মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবে।
তবে নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জের কথা মনে করিয়ে দিয়ে এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, মব কালচার বন্ধ করাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করাই হবে প্রধান চ্যালেঞ্জ। চাঁদাবাজি ও দখলবাজি অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সংসদে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল থাকতে যাচ্ছে। ফলে এসব জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকার চাপের মুখে থাকবে।
সুন্দরভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া এবং উদারপন্থি একটি দলের জয় বিদেশিদের কাছে ইতিবাচক বার্তা দেবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ও নিট পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএর এক্সিকিউটিভ প্রেসিডেন্ট ফজলে শামীম এহসান।
তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে এবং ব্যাপক সহিংসতা হলে নতুন সরকার শুরু থেকেই চাপের মুখে থাকত, যা ব্যবসায়ীদের মনে আস্থা তৈরি করত না। কিন্তু একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় ব্যবসায়ীরা অনেকটাই স্বস্তি পেয়েছেন।
তিনি আরও যোগ করেন, বিনিয়োগকারীদের পুরোপুরি আস্থা অর্জন করতে হলে নতুন সরকার চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করে, তার ওপর নজর রাখতে হবে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, মব কালচারের মতো আন্তর্জাতিক সম্পর্ক চলে না। এখন আমাদের প্রতিবেশী দেশসহ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নে বিশেষ নজর দেওয়া উচিত।
সব মিলে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও স্থিতিশীল পরিবেশ গঠনে সহায়ক হতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন