ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

পাকস্থলীতে ৮০ ক্যাপসুল কোকেন নিয়ে তানজানিয়ার  নাগরিক আটক

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মে ২২, ২০২৬, ০১:৪০ এএম

ইথিওপিয়া থেকে পাকস্থলীতে ৮০টি ক্যাপসুলে কোকেন নিয়ে ঢাকায় আসার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে  আটক হয়েছে  তানজানিয়ার  নাগরিক আবুল নাসের বাকারি  জাহা নামের এক ব্যক্তি। ইথিওপিয়ার একটি ফ্লাইট থেকে নেমে বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার সময় তাকে আটক করা হয়। আটক আবুল নাসের আন্তর্জাতিক মাদক চোরাকারবারি দলের সদস্য বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, আবুল নাসের বাকারি জাহা তানজানিয়ার নাগরিক। ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন। ওই যাত্রী ইমিগ্রেশন সম্পন্ন হওয়ার পর কাস্টমসের গ্রিন চ্যানেলে তার ব্যাগেজ স্ক্যানিং ও দেহ তল্লাশি করা হয়। তবে ওই সময়ে প্রাথমিকভাবে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। পরে তার পাকস্থলীর এক্স-রে ও সিটি স্ক্যান করলে ভেতরে মাদকসদৃশ ক্যাপসুলের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। আটক ব্যক্তি তার পাকস্থলীতে ৮০টি কোকেনভর্তি ক্যাপসুল বহন করেছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।

কাস্টম গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রাফিজা মির্জা জানান, আটক আবুল নাসেরকে রাতে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে ১৮টি ক্যাপসুলভর্তি কোকেন পাকস্থলী থেকে অপসারণ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবারও আরও কিছু ক্যাপসুল অপসারণ করা হয়। সব ক্যাপসুল অপসারণ না হওয়ায় গতকাল পর্যন্ত তাকে ভর্তি রাখা হয়েছে। হাসপাতালের কার্যক্রম শেষে ক্যাসপুলভর্তি কোকেন উদ্ধারের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হবে।

তিনি আরও জানান, আবুল নাসেরের পাসপোর্ট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এটি তার বাংলাদেশ প্রথম প্রবেশ। কোকেনগুলো কোথায় পাচারের জন্য আনা হয়েছিল সে বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে সুস্থ হওয়ার পর।

কাস্টম সূত্র জানিয়েছে, কোকেনসহ আটক ব্যক্তির শরীর থেকে উদ্ধারযোগ্য ক্যাপসুলগুলোতে থাকা কোকেনের ওজন প্রায় ১ হাজার ১০০ গ্রাম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত পরীক্ষার আগে এর প্রকৃত পরিমাণ ও রাসায়নিক গঠন সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। এ জন্য উদ্ধার হওয়া ক্যাপসুলগুলোর নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ক্যাপসুলে কোকেনের বিশুদ্ধতার মাত্রা কত, তা নিশ্চিত করতে ল্যাব টেস্ট করা হবে। পরীক্ষার ফল হাতে পাওয়ার পর এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে।

কাস্টম গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বলছে, আন্তর্জাতিক রুট ব্যবহার করে দেশে মাদক প্রবেশের নানা কৌশল প্রতিনিয়ত শনাক্ত করা হচ্ছে। বিশেষ করে মানবদেহের ভেতরে ক্যাপসুল বহনের মাধ্যমে মাদক পাচারের প্রবণতা ঠেকাতে বিমানবন্দরে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগত যাত্রীদের ঝুঁকি বিশ্লেষণ, তথ্যভিত্তিক নজরদারি এবং আধুনিক স্ক্যানিং প্রযুক্তির মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করার কাজ নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরে অবৈধ মাদক প্রবেশ প্রতিরোধে কাস্টম গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেল, বি-সিফট ও সি-সিফট, ঢাকার কর্মকর্তারা সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারীরা যেসব নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করছে, সেগুলো শনাক্ত করে আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক এই অভিযানও তারই অংশ।