বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ইসলামী ব্যাংক রক্ষায় প্রয়োজনে আমিও রাস্তায় নামবো। সবার আগে আমি বুক পেতে দেবো। গতকাল বুধবার রাতে রাজধানীতে জামায়াতের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। জামায়াত আমির বলেন, ইসলামী ব্যাংক কোনো দলের নয়। এটা জনগণের ব্যাংক। যারা ব্যাংকে আমানত রেখেছেন তাদের ব্যাংক।
আমি বলবো, যারা ব্যাংকে আমানত রেখেছেন তাদের ওপর যদি গুলি ছোড়া হয় তাহলে আমি নিজেও সবার আগে বুক পেতে দিয়ে বলবো আগে আমার বুকে গুলি চালান। তারপর গ্রাহকদের ওপর গুলি চালাবেন। এই ব্যাংক দেশের সবার। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একজন ফ্যাসিস্টের দোসরকে ইসলামী ব্যাংকের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি বলবো, একজন ঋণখেলাপির স্বামী কি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হতে পারে?
দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, দেশ এমনভাবে চলতে পারে না। একদল পালিয়ে গেছে পাশের দেশে, বাকি দল যাবে কোথায় এমন প্রশ্ন তোলেন। বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থে জামায়াত শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করব। জামায়াতে ইসলামী কখনো গৃহপালিত বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকবে না।
চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজ কোনো দলের নয়, এরা বসন্তের কোকিল। দেশের ৩০০ জন সংসদ সদস্য যদি ঐক্যবদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে চাঁদাবাজি দূর করা সম্ভব। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে অনেক মানুষ এবার ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেনি। বিশেষ করে ইরান, লেবানন ও গাজাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের জনগণ কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ঈদ কাটিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় জ্বালানি খাতে সংকট সৃষ্টি হয়েছে এবং এর ফলে দেশের মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে।
শফিকুর রহমান বলেন, দেশের যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা যদি কৃত্রিম হয় তাহলে দ্রুত সমাধান করতে হবে। আর যদি প্রাকৃতিক বা বৈশ্বিক কারণে হয়ে থাকে, তাহলে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সরকারি দল ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করলে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব। তিনি আরও বলেন, জাতীয় সংসদ সঠিকভাবে কার্যকর হলে দেশের অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
জ্বালানিখাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, দেশে গ্যাসের মজুত কমে যাচ্ছে, কিন্তু নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও উত্তোলনে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন, গ্যাসের দাম ৬ থেকে ৭০০ টাকা বাড়িয়ে পরে ৫০ টাকা কমানো জাতির সঙ্গে তামাশার শামিল। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে জনগণের স্বার্থে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শিগগিরই আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবে।
শফিকুর রহমান বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনের জন্য বিদ্যমান সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন।

