টাঙ্গাইলের গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও হত্যাকা-ের জেরে চরম সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারা ও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই গতকাল শুক্রবার সকালে দফায় দফায় হামলা, ভাঙচুর ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে দুই পক্ষের লোকজন বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেওয়ায় জগৎপুরা, নলীন বাজার ও গোল পেঁচা এলাকায় থমথমে ও আতঙ্কজনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
গত ২২ এপ্রিল গোপালপুরের গোল পেঁচা ও ভূঞাপুরের জগৎপুরা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। সেই পুরোনো বিরোধের জের ধরে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে দুই গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় পুরো এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে কালাম তালুকদারসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে ভূঞাপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফাতেমা মৃত ঘোষণা করেন কালামকে। আহত অন্য ভুক্তভোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সহিংসতায় কমপক্ষে ১০টি বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া ও ভাঙচুর করা হয়।
এদিকে কালাম মারা যাওয়ার পর ওইদিন রাতে গোপালপুর অংশের লোকজন মাইকিং করে দ্বিতীয় দফায় হামলার ডাক দিলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঠেকাতে বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পরই গোপালপুর ও ভূঞাপুর স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে ১৪৪ ধারা জারি করে। রাত থেকেই ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
তবে প্রশাসনের এই নিষেধাজ্ঞাকে তোয়াক্কা না করে শুক্রবার সকালে নলীন বাজার ও জগৎপুরা এলাকায় নতুন করে হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে জগৎপুরা গ্রামের বেশ কিছু ঘরবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা। ভূঞাপুর থানার ওসি মো. সাব্বির রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গত বৃহস্পতিবার দুই পক্ষের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভূঞাপুরের জগৎপুরা এবং গোপালপুরের নলীন বাজার ও গোল পেঁচা এলাকায় বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে।

