ঢাকা শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬

মেহেরপুর সীমান্তে ৪ জনকে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ

মেহেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ২০, ২০২৬, ০১:১৫ এএম

মেহেরপুর সদর উপজেলার বুড়িপোতা সীমান্ত দিয়ে চারজনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইন বা অনুপ্রবেশ করানোর চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের কঠোর অবস্থান এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতার কারণে বিএসএফের সেই চেষ্টা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়ে যায়। গতকাল শুক্রবার ভোরে উপজেলার বুড়িপোতা বিওপি সীমান্তের খালপাড়া এলাকায় আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্যরেখায় এই ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিবরণ থেকে জানা গেছে, শুক্রবার ভোরে মেহেরপুর সীমান্তে বৃষ্টি শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে শূন্যরেখার ওপারে অস্বাভাবিক নড়াচড়া লক্ষ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাস্থলের ঠিক বিপরীতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার তেহট্ট থানার নাটনা বিএসএফ ক্যাম্প অবস্থিত। সেখান থেকে চারজন ব্যক্তিকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালানো হলে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক বিষয়টি বিজিবিকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন-৬ বিজিবির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সর্বোচ্চ সতর্ক ও কঠোর অবস্থান নেন এবং তাদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশে বাধা দেন। বিজিবির এই কড়া প্রতিরোধের মুখে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুশইনের শিকার হওয়া ওই চারজন ব্যক্তির মধ্যে একজন পুরুষ ও তিনজন নারী। বিজিবির বাধার মুখে তারা বর্তমানে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ১৫ ও ১৬-এর মধ্যবর্তী এলাকায় নো ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান করছেন। তবে এখন পর্যন্ত তাদের প্রকৃত পরিচয়, জাতীয়তা কিংবা কী কারণে তাদের সীমান্তে এনে অনুপ্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হচ্ছিলÑ সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে নতুন করে পুশইনের আশঙ্কায় বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় গ্রামবাসীরাও সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

এই বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন-৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসান বলেন, ভোরে মেহেরপুর সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক চারজনের পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পেরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় এই নজরদারি আরও শক্তিশালী করা হয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি সব সময় বদ্ধপরিকর।