বিএনপি দেশে একদলীয় শাসন কায়েমের চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, এরই মধ্যে সরকার অনেক অঘটন ঘটিয়ে ফেলেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ, ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের দিকে কালো হাত বাড়িয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ্য ভিসিদের সরিয়ে দলের একান্ত অনুগত কর্মীদের বসিয়েছে। এ ছাড়া জেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিজেদের দলীয় ‘ক্যাডার’ ও নেতাদের প্রশাসক হিসেবে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এইভাবে দলীয় শাসন, একদলীয় শাসন বাংলাদেশে কায়েম করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
গতকাল শুক্রবার নারায়ণগঞ্জের মাসদাইরে কেন্দ্রীয় ইদগাহ ময়দানে আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
একদলীয় শাসন নিয়ে অতীতের কথা স্মরণ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘ইতিহাস ভুলে গেলে হবে না। শেখ মুজিবুর রহমান সাহেবও একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছিলেন। অর্ধবছরও ক্ষমতায় থাকতে পারেননি। সুতরাং একদলীয় শাসন এ দেশের মানুষ মেনে নেবে না।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘চব্বিশ হয়েছে বলে ছাব্বিশ সালে একটা নির্বাচন হয়েছে। সুতরাং যাদের রক্ত ও ত্যাগের কারণে আজকের এ সংসদ, সরকার, বিরোধী দল; তারা যদি এসব শহিদ, আহত, পঙ্গু ভাই-বোনদের প্রতি অবজ্ঞা, উপহাস করেন, তা নিজের সাথেই গাদ্দারির শামিল হবে। এ সমস্ত লড়াকু যোদ্ধাদের কেউ যেন খাটো করে না দেখেন।’
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘বিগত নির্বাচনে হাজার জাল-জালিয়াতি, সন্ত্রাস, কালোটাকার ছড়াছড়ি, ভয়-ভীতি প্রদর্শন, হাজার জাতের মেকানিজম-ইঞ্জিনিয়ারিং; সবকিছু উপেক্ষা করে আপনারা এগারোদলীয় ঐক্যকে একটা আসন কমপক্ষে উপহার দিতে পেরেছেন। আমরা বিশ্বাস করি, নির্বাচন যেভাবে সুষ্ঠু হয়েছিল, তার ভোট গণনা এবং ফলাফল যদি সেভাবে সুষ্ঠু হতো, অন্য আসনেও জোটের বিজয় হতো। বিজয় ছিনতাই করে নেওয়া হয়েছে।’ গণভোটে বিএনপি ‘প্রথমে হ্যাঁ’র পক্ষে ছিল না দাবি করে শফিকুর রহমান বলেন, “তারা (বিএনপি) না ভোটের পক্ষে গোপনে প্রচারণা করেছিল। পরে জনরোষের মুখে পড়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানও কমপক্ষে একবার গণভোটে ‘হ্যা’র পক্ষে প্রচারণা করতে বাধ্য হয়েছিলেন।’ গণভোটে বিএনপির অবস্থান নিয়ে কড়া সমালোচনা করে সরকারকে ‘গণভোটের রায়’ মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংসদে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার সংস্কৃতি আওয়ামী লীগ চালু করেছিল জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি গালি দিত বিএনপিকে। সাথে সাথে আমাদেরও একটু রাখত, ছাড় দিত না। এখন বিএনপিও ওই পুরোনা আওয়ামী লীগ যা বলত, সেই পুরোনা আমলের কথাগুলো জপতে শুরু করেছে। যে কথাগুলো জপতে জপতে আওয়ামী লীগ গিয়ে পড়ছে দিল্লিতে, আপনারা এগুলো জপতে জপতে কোথায় গিয়ে পড়বেন? জনগণ এগুলো খায় না। তরুণ ও যুবসমাজ এগুলো শুনতে চায় না।’
বাজেট নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘একটা বড় বাজেট দেওয়া হয়েছে। অসুবিধা নাই। বাজেট দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের, বাস্তবায়নেরও। শুধু এতটুকু বলব, বিগত সাড়ে ১৫ বছর আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা ২৯ লাখ কোটি টাকা চুরি করেছিল, সে পথে আপনারা হাঁটবেন না। কিন্তু কীভাবে আস্থা রাখব? কারণ, সরকার গঠনের আগে ও পরে চাঁদাবাজের হাত আটকাইতে পারেন নাই। একটা চাঁদাবাজকেও শাস্তির আওতায় আনতে পারেন নাই। ঘুষ, দুর্নীতি বন্ধ করেন নাই, বরং তার মিটার আগের থেকে বেড়ে গেছে।’

