তিস্তা নদীর দীর্ঘদিনের পানি সংকট ও ভাঙন সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক চেহারা বদলে দিতে ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের কারিগরি মূল্যায়ন ও সার্বিক প্রস্তুতি শেষেই প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে। নিজস্ব অর্থায়নে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে নীলফামারীর ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজ এলাকা এবং নদীভাঙনকবলিত বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য জানান পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী।
সরেজমিন পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংসদ সদস্য হাসান রাজীব প্রধান ও রোকনউদ্দিন বাবুল এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
মতবিনিময়কালে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা কেবল উত্তরাঞ্চলের জন্য নয়, বরং সমগ্র দেশের অর্থনীতির জন্যই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত প্রকল্প। নির্বাচনের আগে তিস্তা আন্দোলনের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বর্তমান সরকার তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিদের নিয়ে মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুসহ অংশীজনদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এ বিষয়ে নীতিগত আলোচনা হয়েছে।
প্রকল্পের অর্থায়ন ও গুরুত্বের দিকটি উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, পদ্মা সেতুর মতোই এই মহাপরিকল্পনাও নিজস্ব অর্থায়নে দৃশ্যমান করা হবে এবং খুব দ্রুতই এর মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু হবে।
তিস্তা অঞ্চলের মানুষের ঋতুভিত্তিক দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানান, শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় পানির চরম স্বল্পতা দেখা দেওয়ায় এই অঞ্চলের কৃষকরা মারাত্মক সেচ সংকটে পড়েন এবং কৃষি কাজে বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হন। আবার ঠিক বিপরীতভাবে, বর্ষা মৌসুমে ভারতের গজলডোবা ব্যারাজ থেকে অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দেওয়ার ফলে তিস্তায় তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়, যা আকস্মিক বন্যা ও নদীভাঙনকে ভয়াবহ রূপ দেয়। তিস্তা মহাপরিকল্পনা সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হলে পানি ব্যবস্থাপনা আধুনিক হবে, নদীভাঙন স্থায়ীভাবে রোধ করা সম্ভব হবে এবং সামগ্রিক কৃষি উৎপাদনে বৈপ্লবিক ও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

