বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, আগামী অর্থবছরের বাজেটে অনেক ভালো দিক রয়েছে। তবে রাজস্ব আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে চলতি অর্থবছরের প্রকৃত অর্জনের তুলনায় তা ৪০ শতাংশের মতো বেশি। এই বাজেটের একটি বড় দুর্বলতা উচ্চ রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা। গতকাল বৃহস্পতিবার ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে বাজেট নিয়ে আয়োজিত আলোচনায় মূল প্রবন্ধে তিনি এ কথা বলেন।
রাজধানীর আফতাবনগরে বিশ্ববিদ্যালয়টির এসএম নওশের আলী লেকচার গ্যালারিতে ‘জাতীয় বাজেটবিষয়ক আলোচনা সভা’ শীর্ষক আলোচনায় সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ড. একে এনামুল হক। আলোচনার শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষার্থী বাজেট ভাবনার ওপর সংক্ষিপ্ত তিনটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন।
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা; আগের অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় যা ১৮ শতাংশ বেশি। ৯ শতাংশের মতো মূল্যস্ফীতি এবং ৫ শতাংশের মতো জিডিপি প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় এ হারে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি হয়তো বাস্তবসম্মত। তবে চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে যে আয় হয়েছে সেটা হিসেব করলে প্রকৃত অর্জনের তুলনায় ৪০ শতাংশের মতো বেশি আয় করতে হবে। এটা এই বাজেটের একটি বড় দুর্বলতা।
তিনি বলেন, বাজেট বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সরকারকে বেশি ঋণ নিতে হবে। আর এক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ উৎসে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে গেলে বেসরকারি খাত বাধাগ্রস্ত হবে। ফলে অভ্যন্তরীণ উৎসে ঋণের বিকল্প গড়ে তুলতে হবে।
বিশ্বের অনেক দেশে ব্যাংক থেকে মেয়াদি ঋণ নেওয়া হয় না উল্লেখ করে তিনি বন্ড ও পুঁজিবাজার থেকে ঋণে জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, বিদেশি ঋণ পরিশোধে সরকারের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে সুদসহ বিদেশি দায় পরিশোধে সরকারের যে ব্যয় হয়েছে তাতে পুরো অর্থবছরে সাড়ে ৪ বিলিয়নের মতো খরচ হবে। ফলে বাজেট বাস্তবায়নে দক্ষতার ওপর জোর দিতে হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন